বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

একশো দিনের কাজের বকেয়ার টাকা পেয়ে শোধ করছেন দেনা

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাজ্যের দেওয়া একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা আশীর্বাদ হয়ে এল। ধার করে বাড়ির ছাদ দিয়েছিলেন। একশো দিনের টাকা পেয়ে সেই দেনা কিছুটা শোধ করলেন মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের নতুন আনন্দবাস গ্রামের অভিজিৎ ঘোষ। 
অভিজিৎ জানান, বি টেক করে বাড়িতেই টিউশন পড়াই। দেড় বছর আগে ১০০ দিনের মাঠে যাওয়ার রাস্তা তৈরির মাটি কাটার কাজ করেছিলাম। ৩৮ দিন কাজের ৭ হাজার ১০০ টাকা পেয়েছি। কেন্দ্র সরকারের এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেড়-দু’ বছর ধরে তা পাচ্ছিলাম না। আমরা তো হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম। বুধবার সেই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। মুখ্যমন্ত্রী এই টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ধারদেনা করে বাড়ি করেছিলাম। আমাদের খুব কষ্টে জীবনযাপন করতে হয়। ঘর ছিল না। গোরুর গোয়ালের মতো একটিমাত্র কাঁচা ঘর ছিল। তাতেই আমি দাদা ও বাবা থাকতাম। আবাস যোজনা তালিকায় বাবার নাম ছিল। সেই ঘরের জন্য তথ্য অনুসন্ধানও হয়েছিল। ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ঘর আমরা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাজারে ধার দেনা করে ঘর তৈরি করেছিলাম। এখন সেই দেনা কিছুটা শোধ করতে পারলাম। এখনও অনেক টাকা দেনা আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ঘরের টাকাও দেবেন। যদি আমরা আবাস যোজনায় টাকা পাই খুবই উপকৃত হব। 
অভিজিতের ভাই বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ২০১৪ সালে মা মারা গিয়েছেন। বাবা নবদ্বীপ বাজারে সব্জি বিক্রি করেন। আমরা দু›ভাই মাঠে মজুরের কাজ করেছি। জব কার্ডের মাধ্যমে  ১০০ দিনের কাজ করে সেই টাকায় দু’ভাই পড়াশোনা করেছি। সপ্তাহের ৪টি দিন ১০০ দিন প্রকল্পের কাজ করেছি। বাকি দু’ দিন কলেজ। ১০০ দিনের টাকা পাব না বলে হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে  সেই টাকা পেয়েছি। 
শুধু বাড়ির ধারদেনা শোধ নয়। শুক্রবার সকালে নবদ্বীপ নতুন আনন্দবাস গ্রামে গিয়ে শ্রমিকদের কাছ শোনা গেল এমনই সব নানান পরিকল্পনার কথা। নতুন আনন্দবাসের প্রবীণ বাসিন্দা ৬৯ বছরের সৃষ্টি ঘোষ জানান, এই টাকা পাব না হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। ২০২২ সালে ফরেস্টডাঙায় রাস্তার মাটি কাটার কাজ করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার টাকা আটকে রেখেছিল। দিদি আমাদের টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ৪০ দিনের কাজের ৭ হাজার ৮০০ টাকা পেয়েছি। আমার স্ত্রী সনকা ঘোষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছে। গৃহবধূ মায়ারানি ঘোষ জানান, আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। বড় ছেলে দশম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আমি জব কার্ডের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজ শুরু করেছিলাম। ১৫ দিন কাজ করে দু’ হাজার টাকা পেয়েছি। সেই টাকায় বাড়িতে কুয়ো কাটানোর পরিকল্পনা নিয়েছি, কেন না বাড়িতে শৌচাগার নেই।
মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতে শিল্প পরিকাঠামোর সঞ্চালক মিঠুন ঘোষ জানান, এই পঞ্চায়েতে চারশো ২৭ জন শ্রমিক ১০০ দিন প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। তাদের পাওনা ছিল ২৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৮৪ টাকা। সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে।

3rd     March,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ