বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

লোকসভা নির্বাচনে মহিলা ভোটই হাতিয়ার তৃণমূলের

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: লোকসভা ভোটে নদীয়া জেলার মহিলারাই তৃণমূলের তুরুপের তাস। সৌজন্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই মুহূর্তে প্রায়  ৯০ শতাংশ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সংখ্যার হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে টাকা ঢুকছে। প্রাপকের তালিকায় কোনও ভেদাভেদ নেই। সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস পরিবারের মহিলাদের একটা বড় অংশও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। সেই টাকা সংসারের কাজে লাগাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পিছনে খরচ করছেন। সবমিলিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। রাজনৈতিক কারবারিরা মনে করছেন, ইভিএমে বোতাম টেপার আগে আপামর মহিলারা একবার অন্তত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক এই প্রকল্পের কথা ভাববেন। বিষয়টা অনেকটা মনস্তত্বের মতোই। স্বভাবতই জেলায় গেরুয়া শিবির দুর্নীতি নিয়ে যতই হম্বিতম্বি করুক, ভোট-যুদ্ধের ময়দানে তারা অনেকটাই ব্যাকফুটে। তার উপর আবাস যোজনার টাকা ও একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার কারণে জেলাবাসীর ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে বিজেপি প্রতি।  
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৪৯। যার মধ্যে মহিলা ভোটার হচ্ছে ২১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬৮৫। এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় আসার শর্ত হলো মহিলার বয়স ২৫ থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত হতে হবে। নদীয়া জেলায় এই বয়সী মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩ লক্ষ ২০ হাজার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নদীয়া জেলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন ১২ লক্ষের বেশি মহিলা। যোগ্য প্রাপকদের প্রায় ৯০ শতাংশ। সেই হিসেবে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক বিজেপির কাছে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে এই কেন্দ্রটির অন্তর্গত একাধিক এলাকা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।  
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার মহিলা শাখার তৃণমূলের  সভানেত্রী মল্লিকা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েক মাস ধরে লাগাতার কর্মসূচি করছি। জেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের সঙ্গে কথা বলছি। তাতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো বিভিন্ন প্রকল্প মহিলাদের বিশেষ ভাবে উপকৃত করছে। আমাদের মু্খ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ করে দিয়েছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনেও জেলার মহিলারা তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই থাকবে।’
বাইশের বিধানসভা নির্বাচনেও জেলার মহিলা ভোটের সিংহভাগই ঝুঁকেছিল শাসকদলের দিকে। সেই ভোট ব্যাঙ্ক লোকসভাতে ধরে রাখতেও মরিয়া মমতার দল। উপরি পাওনা অবশ্যই সংখ্যালঘু ভোট। যেমন, কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ফাটল ধরানো বিজেপির কাছে বড্ড কঠিন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেত্রী হিরন্ময়ী সরকার বলেন, ‘অনুদানের রাজনীতিতে জেলার মহিলারা আর শাসক দলের কাছে মাথা নত করবেন না। সন্দেশখালিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মহিলারা ওখানে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে অপমানিত হয়ে এসেছেন। গোটা রাজ্যের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় এই ছবি দেখা যায়। নদীয়া জেলাতেও মহিলারা এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দিতে মুখিয়ে রয়েছেন।’

29th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ