বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

জরাজীর্ণ অবস্থা নাড়াজোল রাজাদের গ্রীষ্মকালীন আমোদ-প্রাসাদ জলহরি

পিনাকী ধোলে, (নাড়াজোল) মেদিনীপুর: চারিদিকে জল, আর জলাশয়ের মাঝে এক বিশাল প্রসাদ। এক সময় এই প্রসাদ নাড়াজোলের রাজাদের গ্রীষ্মকালীন আবাসস্থল হিসাবেই পরিচিত ছিল। এই প্রসাদই ছিল রাজাদের আমোদপ্রমোদ, বিলাস ব্যসনের জায়গা। যদিও সে সবই এখন অতীত। বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে ধুঁকছে নাড়াজোলের ঐতিহ্যমণ্ডিত ‘জলহরি’। জলাশয় ঢেকেছে কচুরিপানায়।
তবে জলহরি-র এই অবস্থা হওয়ার কথা ছিল না। নাড়াজোল রাজবাড়ির অন্যতম দর্শনীয় স্মারক এই জলহরি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৬ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হওয়ার পর জায়গাটি প্রয়াত বিধায়ক রজনী দোলইকে লিজে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে সরকার ওই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে। তারপর ২০০৮ সালে ওই জলাশয় হেরিটেজ ঘোষণা করে রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগ। যদিও সিপিএম কিংবা তৃণমূল, সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেয়নি কোনও সরকারই। তাই সংরক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে জলহরি। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই জলহরি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সরকার রক্ষণাবেক্ষণ না করলে কয়েক বছর পর হয়তো আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না জলহরির। 
ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যায়, ১৮১৯ সালে জলহরি নির্মাণ করেছিলেন নাড়াজোলের চতুর্দশ রাজা মোহনলাল খান। প্রায় ছ’একর জমিতে জলাশয় খনন করে তার মাঝে এই জলহরি নির্মাণ করা হয়। যেটা করতে সেসময় নাকি খরচ হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। মূলত রাজারা আমোদ প্রমোদেই মেতে থাকতেন এখানে। জনশ্রুতি আছে, নাড়াজোলের রাজবাড়ির অন্দরমহল থেকে এই জলহরি পর্যন্ত সুড়ঙ্গ ছিল। যদিও সেসব মজে গিয়েছে এখন। তবে কয়েক বছর আগেও জলাশয়ের এই হাল ছিল না। রাজার হালে মাছ ধরা চলত। কিন্তু সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ত না। 
দাসপুর-১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে দরপত্র ডেকে স্থানীয় এক বাসিন্দাকে ওই জলাশয়ে মাছ চাষের অনুমতি দেয় ব্লক প্রশাসন। কিন্তু অন্যান্য মাছচাষি ও স্থানীয় কয়েকজন তাতে বাধা দেন। পিছু হটতে হয় প্রশাসনকে। দাসপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার পাত্র বলেন, ‘পরবর্তীতে জেলা পরিষদের তরফে আমাদের জানানো হয় যে, তারাই এই জলাশয়কে ব্যবহার্য করে তুলবে। 
যদিও এখন শুনছি এই জলাশয় মত্স্যদপ্তর নিজেদের হাতে নিয়েছে।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজপরিবারের বর্তমান প্রজন্মের দাবি, সরকার দ্রুত জলহরি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুক। পাশাপাশি রাজবাড়ির বহু স্থাপত্যও ধ্বংসের মুখে। সেগুলোও সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, ‘আগে কেশপুর থেকে দাসপুর যাওয়ার পথে রাস্তার ধার থেকেই জলহরি দেখা যেত। কিন্তু জলাশয়ের পাড়ে এখন বাড়িঘর, দোকান তৈরি হয়ে গিয়েছে। রাস্তা থেকে আর দেখা যায় না। কীভাবে এর সংস্কার করা যায়, সেই চেষ্টা করা হবে।’

23rd     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ