বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

নিজেই উদাহরণ, ক্যান্সার আক্রান্তদের লড়াইয়ে সাহস জোগান নার্স দিদি অর্চনা

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বহু বছর ধরে শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ক্যান্সার। নিয়মিত কেমো নিতে হয়। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েও শুধুমাত্র মনের জোরেই গুসকরা শহরে কেউ কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়েছে খবর পেলেই ছুটে যান এএনএম নার্স অর্চনা চট্টোপাধ্যায়। ক্যান্সার আক্রান্তদের নিজের উদাহরণ দিয়েই তিনি সাহস জোগান। রোগীর চিকিৎসায় তদারকি করেন। এমনকী নিজে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েও প্রতিদিন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে হাসিমুখে রোগীদের পরিষেবা দেন ৫৯ বছর বয়সি অর্চনাদেবী। 
গুসকরা শহরের সংহতিপল্লির বাসিন্দা অর্চনাদেবী ১৯৮৫সালে গুসকরা এপি সাবসেন্টারে এএনএম নার্স পদে যোগ দেন। এক ছেলে, এক মেয়ে ও  স্বামীকে নিয়ে ভালোই সংসার করছিলেন। তারপরই তাঁর স্বামীর হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে। ২০১২সালে অর্চনাদেবীর জরায়ুতে মারণ ক্যান্সার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার করে জরায়ু কেটে বাদ দেন। ২০১৫সাল নাগাদ আবার প্লীহায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তারপর প্লীহা ও ওমেন্টাম অস্ত্রোপচার করে বাদ দেন। ২০২২সালে লিভার ও কিডনিতে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন, তাঁর জেনেটিক ক্যান্সার হয়েছে। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬টি কেমো নিয়েছেন। গত নভেম্বর মাসে কলকাতার ঢাকুরিয়ায় এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষবার কেমো নিয়েছেন। 
শরীরে মারণ ব্যাধি বাসা বেঁধেছে তো কী হয়েছে। হাসিমুখে প্রতিদিন তিনি সাবসেন্টারে কাজে যোগ দেন। হাসিমুখে সবার টিকাকরণ থেকে রোগীর রোগ সম্পর্কে জানতে চান। বড় দিদির মতো উপদেশ-পরামর্শ দেন। সাবসেন্টারে আসা রোগীদের ‘বড় দিদি’। দুঃস্থদের দেখলেই তিনি বেতন থেকে টাকা দিয়ে পাশে দাঁড়ান। ওষুধ কিনে দেওয়া থেকে নানাভাবে সাহায্য করেন। গুসকরা শহরে কেউ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছেন শুনলেই তিনি ছুটে যান। রোগীকে হাসিমুখে সাহস জোগান। চিকিৎসকের সমস্ত রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে সাধ্যমতো পরামর্শ দেন। জানা গিয়েছে, অর্চনাদেবীর স্বামী অশোক চট্টোপাধ্যায় আর কাজকর্ম করতে পারেন না। তাঁদের এক ছেলে রেজিস্ট্রি অফিসে মুহুরির কাজ করেন। মেয়েকেও বোলপুরে নার্সিং পড়াচ্ছেন। তাঁর অদম্য মনের জোরকে গুসকরা শহরের বাসিন্দারা কুর্নিশ জানাচ্ছেন। অর্চনাদেবী বলেন, ক্যান্সার হলে বহু মানুষ ভয়েই মারা যান। তাছাড়া ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল চিকিৎসাও হয়। তাই আমি রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিই। আমার নিজের উদাহরণ তুলে ধরে রোগীকে সাহস দিই। এটা আমার ভালো লাগে। ভয় পেলে হবে না। সাহসের সঙ্গে লড়তে হবে। এই সাবসেন্টারই আমার দ্বিতীয় বাড়ি। বাড়িতে থাকতে পারি না। তাই কেমো নেওয়ার একদিন পরই সাবসেন্টারে চলে যাই। ওখানে থাকলেই আমি সুস্থ থাকি। আমার শরীরে যন্ত্রণা কী জিনিস জানি না। আমার উপরই পুরো পরিবার নির্ভর করে। তাই ক্যান্সার হয়েছে বলে বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না।  আউশগ্রাম-১ বিএমওএইচ জয়ব্রত বিশ্বাস বলেন, শরীরে ক্যান্সার নিয়েও উনি প্রতিদিন ডিউটি করেন। অদম্য মনের জোরেই কাজ করে চলেছেন। ওঁর কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। 
অর্চনা চট্টোপাধ্যায়।

23rd     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ