বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কাটোয়ায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে ভাড়া করা গোয়ালঘরে

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পাঁচবছর আগে কাটোয়ার অর্জুনডিহি গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নতুন বাড়ি তৈরি হয়েও পড়ে রয়েছে। ব্যবহার হচ্ছে না সেই বাড়ি। বদলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে ভাড়া করা গোয়ালঘরে। পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে। গোয়ালঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই শুধু খিচুড়ি দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। এতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ। 
কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের অর্জুনডিহি গ্রামে ২৮১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ির কেন্দ্রের নতুন বাড়ির ভিতরে ধুলোর পাহাড় জমছে। নতুন বাড়ির সামনে যে টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে, সেটিও বেহাল বলে জানান স্থানীয়দের একাংশ। ২০১৮ সালের ২১ মার্চ এমএসডিপি প্রকল্প থেকে তৈরি করা হয়েছিল বাড়িটি। এরজন্য ৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৮৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ সেন্টারটি চলছে গ্রামের পূর্বপাড়ায় রাঁধুনি নিহারি বিবি শেখের বাড়ির গোয়ালঘরে। একদিকে গোরু বাঁধা। তার ঠিক পাশেই উনুনে শিশুদের পুষ্টির জন্য খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে। পড়াশোনা লাটে। শুধু খিচুড়ি আর কাঁচা ডিম বিতরণ করা হচ্ছে। রাঁধুনি নিহারি বিবি শেখ বলেন, এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে স্থায়ী কর্মী নেই। আর নতুন বাড়িতে জলের ব্যবস্থা নেই। তাই এভাবেই রান্না করতে হয়। তবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবেই রান্না করি। 
জানা গিয়েছে, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রসূতি মা ও শিশুদের নিয়ে প্রতিদিন ৭৩ জনের রান্না হয়। যারমধ্যে ২০ জন প্রসূতি মা রয়েছেন। ২০১৭ সালে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি তৈরি হয়। তখন থেকেই এমন ভাবেই চলছে। স্থায়ী কর্মী না থাকায় পাশের গ্রামের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী পার্বতী ঘোষকেই এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চার্জ দেওয়া হয়েছে। তিনি সপ্তাহে দু’ দিন আসেন। কিন্তু মাসে মাত্র পাঁচশ টাকার চুক্তিতে তিনি নিহারি বিবি শেখকে রান্না করার জন্য নিয়োগ করেছেন। শিশুদের পড়াশুনা সেন্টারে হয় না। পার্বতী ঘোষ বলেন, আমাকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চার্জ যখন দেওয়া হয়, তখন থেকেই আমি এরকম অবস্থায় দেখছি। আমিই একজনকে রান্না করার জন্য হেল্পার হিসাবে রেখেছি। তা না হলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। রান্না করার জন্য চালা নেই। নতুন বাড়িটি আমাদের হস্তান্তর করেছে ২০২০ সালে। কিন্তু সেখানে জলের ব্যবস্থা নেই। তাই কেন্দ্রটি সেখানে স্থানান্তরিত করা যায়নি। আমি পঞ্চায়েত প্রধানকে বহুবার লিখিত ভাবে জলের জন্য জানিয়েছি। সুপারভাইজারকেও জানিয়েছি। তবুও কোনও সুরাহা হয়নি। আরও জানা গিয়েছে, শুধু কাটোয়াতে নয়। কেতুগ্রাম ২ ব্লকে মোট ১৭৩টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৯৮টি কেন্দ্রের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। আর বাকি ৭৫টি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। বেশিরভাগই খোলা আকাশের নীচে চলছে। কাটোয়ার আলমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মোল্লা নজরুল হক বলেন, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নতুন বাড়িতে পানীয় জলের জন্য পাম্প বসানো হবে। তারজন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশাকরছি খুব শীঘ্রই পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পারব। তারপরেই সেন্টারটি স্থানান্তরিত করা হবে। 

6th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ