বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

ঘোড়ানাশ গ্রামের জামদানি শাড়ির কদর বাড়ছে বিদেশে, কাজ পাচ্ছেন শিল্পীরা

সংবাদদাতা, কাটোয়া: জামদানি শাড়ির উপর হাতে করে নানা নকশা ফুটিয়ে তোলার রেওয়াজ চলে আসছে পুরনো আমল থেকেই। গ্রাম বাংলার নানা কাহিনি বা নানা ঐতিহ্যের নকশা ঠাঁই পেয়েছে মসলিন জামদানি শাড়িতে। তাতে শোভা বাড়ে জামদানি শাড়ির। কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের জামদানি বিদেশে পাড়ি দিয়েছে আগেই। এবার জামদানি কাপড়ের তৈরি মহিলাদের নানা পোশাকের চাহিদাও বাড়ছে বিদেশে। ঘোড়ানাশ গ্রামের তাঁতশিল্পীদের হাতে তৈরি জামদানি কাপড়ের তৈরি মহিলাদের পোশাক পাড়ি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, প্যারিস সহ নানা দেশে। গ্রামে প্রচুর মহিলা তাঁতশিল্পীদেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, কাটোয়া ২ ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ, মুস্থলী গ্রামের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। এখানকার শিল্পীরা বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে দিনরাত এক করে তৈরি করছেন স্কার্ফ, খাদি মসলিন জামদানি শাড়ি। ভিনরাজ্যে না গিয়ে বাড়িতে বসেই এখানকার যুবকরা এসব তৈরি করে ভালো টাকা আয় করছেন। এবার কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের তাঁতশিল্পীরা মসলিন জামদানি শাড়ির উপর নানা নকশা ফুটিয়ে তুলছেন। সেই শাড়ি মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিদেশের মাটিতে। তবে গতানুগতিক শাড়ির পাশাপাশি মহিলাদের ফ্রক, ঘাঘরা সহ  আধুনিক যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানা পোশাক তৈরি হচ্ছে ঘোড়ানাশ গ্রামে। এখানকার তাঁতশিল্পীরা শুধু জামদানি নয়, লিলেন, খাদি কাপড়ের পোশাক তৈরি করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও পোশাক তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছেন। এমনকী এখানকার অনেকেই টেলারিংয়ের কাজের জন্য ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতেন। সেই যুবকরাও নিজেদের গ্রামেই কাজ পাচ্ছেন। তাঁতশিল্পী যাদবেন্দ্রসুন্দর দাস বলেন, এবার আমরা মহিলাদের পোশাক অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা সহ নানা দেশে নিয়ে যাচ্ছি। ভালো চাহিদা রয়েছে বাংলার তাঁতশিল্পীদের হাতে তৈরি পোশাকের। পাশাপাশি গ্রামের অনেক শিল্পী কাজ পাচ্ছেন। 
প্রাচীন কালের সূক্ষ্ম মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসাবে জামদানি শাড়ি বাঙালি মহিলাদের কাছে পরিচিত ছিল। মসলিনের উপর হাতে করে নকশা ফুটিয়ে তুলে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়। আর সেই জামদানি শাড়ি দিয়ে মহিলাদের পোশাক ছাড়াও ওড়না, পর্দা, স্কার্ফ প্রভৃতিও তৈরি করা হয়। তাছাড়া মুঘল আমলেও জামদানির প্রচলন ছিল। পরে ধীরে ধীরে সেই জামদানি হারিয়ে গেলেও ফের বাংলার শিল্পীদের হাত ধরে তা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে অনেকে এদেশে আসার পর জামদানি বুনতে শুরু করেন। তাছাড়া এখানে  খাদির মসলিন সুতোর শাড়ির উপর জড়ি, বুটি, রেশম সিল্ক প্রভৃতির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সবই হাতে তৈরি করা হয়। গোটা পোশাক জুড়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম কারুকার্য করা পোশাকের বাজার মূল্য পাঁচ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে শিল্পীরাও ভালো মজুরি পাচ্ছেন। 

6th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ