বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

লক্ষ্য লোকসভা ভোট, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে জোর জেলা পরিষদ সদস্যদের
 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতো গাজর ঝোলানো নয়। মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল সরকার। সেইমতো নদীয়া জেলায় মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ সদস্যদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলা হয়েছে। যাতে তাঁরা কাজ ধরার সময় বিষয়টি মাথায় রাখেন। কোনও জেলা পরিষদ সদস্যের কেন্দ্রে কোনও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা থাকলে সেখানকার সমস্যাকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ওই এলাকাগুলোতে আগামী‌ দিনে আর কী কাজ করা যায় সেটাও দেখতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ সদস্যরা বেশি কিছু প্রকল্প জমা করেছেন। খুব শিগগিরই সেই কাজ শুরু করা হবে। 
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র সরকার প্রতি ভোটে মতুয়াদের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। যা মতুয়ারা বুঝতে পেরেছেন। তাই তাঁরা আস্তে আস্তে সরে আসছেন। আমারও উন্নয়নমূলক কাজ করার ব্যাপারে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলেছি‌। যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা পরিষদ সদস্যরা মতুয়া এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে জোর দেন। 
প্রসঙ্গত, এবারের লোকসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলায় মতুয়া ভোট শাসক-বিরোধী উভয় দলের কাছেই ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হতে চলেছে। মূলত রানাঘাট সাংগঠনিক জেলাতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। অতীতেও নির্বাচনে রানাঘাট লোকসভায় মতুয়া ভোট বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তৎকালীন সময়ে নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক বিজেপির দিকে হেলে থাকত‌। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভোট ব্যাঙ্কে অনেকটাই ফাটল ধরেছে। ভোট এলেই সিএএ চালু করার গালভরা প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিজেপির নেতাদের আনাগোনা বাড়ে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা কখনওই বাস্তবায়িত হয় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই মতুয়া মানুষদের মধ্যেও, কবে সিএএ চালু করা হবে সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে কাজে লাগাতে চাইছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখেও ফের সিএএ প্রসঙ্গ শোনা যায়। ২০১৯-এর লোকসভা, ২০২১-এর বিধানসভার পর ২০২৩-এর লোকসভা ভোটের আগে তিনি বলেন, সিএএ আমরা চালু করবই। কিন্তু কোনওবারই তার বাস্তবায়ন হয়নি। এবারও মতুয়া ভোটকে ঢাল করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি। 
উল্টোদিকে মতুয়াদের দাবিদাওয়া ও তাঁদের সমস্যাকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে ‘ফার্স্ট প্রায়োরিটি’-র তালিকায় রাখতে বলা হয়েছে জেলা পরিষদের সদস্যদের। যদিও এই নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ, সারা বছর মতুয়াদের বঞ্চিত করে তৃণমূল মতুয়া ভোট পেতে মরিয়া হয়েছে। 
রানাঘাটের জেলা পরিষদ সদস্য সমীর পোদ্দার বলেন, বহিরগাছি এলাকায় ৫৬ লক্ষ টাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ নেয়া হয়েছে। ওই এলাকাটি মতুয়া অধ্যুষিত। কেন্দ্র সরকারের মতো মানুষকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে নয়, প্রতিশ্রুতি পূরণ করার মাধ্যমেই আমরা মতুয়াদের মন জয় করতে চাই। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। মতুয়া মানুষের কিছু দাবি দাওয়াও রয়েছে। তা পূরণ করাই প্রাথমিক লক্ষ্য‌। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, সারাবছর মতুয়াদের কথা তৃণমূল মনে রাখে না। সামনে ভোট তাই মতুয়া‌ মানুষদের কথা মনে পড়ছে। কিন্তু এতে কিছুই হবে না। মতুয়া মানুষরা বিজেপির সঙ্গেই আছে।

6th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ