বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কয়েন জমিয়ে স্বপ্নপূরণ, শখের বাইক কিনলেন রামপুরহাটের লটারি বিক্রেতা

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: মল্লারপুরের বাইকের এই শোরুমটি বেশ বড়। সারি দিয়ে সাজানে হরেক বাইক, স্কুটি। বুধবার সবে মাত্র শোরুম খুলেছে। টোটোয় চেপে শোরুমের সামনে এসে থামলেন এক যুবক। তাঁর চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ। টোটো থেকে একের পর এক বস্তা নামাচ্ছেন, আর সেগুলি রাখছেন শোরুমের মূল গেটের সামনে। তাঁর এই কাণ্ড থেকে হকচকিয়ে যান বাইক-বিপণির কর্মীরা। জানতে চান, গেটের সামনে এসব কি রাখছেন। কেনই বা রাখছেন, সরিয়ে নিন। তখনও কেউ জানেন না এই বস্তাগুলির মধ্যে আসলে গচ্ছিত রয়েছে যুবকের টুকরো টুকরো স্বপ্ন। টোটোর ভাড়া মিটিয়ে সেই স্বপ্নের কথা বললেন যুবক—‘আমি  একটা বাইক কিনতে। বস্তাগুলিতে সব দশ টাকার কয়েন রয়েছে।’ 
প্রথমে দ্বিধাবোধ করেন শোরুমের কর্মীরা। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন যুবকটি একরাশ আশা নিয়ে এসেছেন। তাঁকে নিরাশ করা ঠিক হবে না। অবশেষে কয়েনের বস্তাগুলি নিয়ে যুবকের হাতে বাইকের চাবি তুলে দেন তাঁরা। ওই যুবকের নাম তাপস লেট। বাড়ি রামপুরহাটের চাকপাড়া গ্রামে। পেশায় লটারি বিক্রেতা। তিনি প্রমাণ করে দিলেন ‘বিন্দুতে সিন্ধু’ প্রবাদ বাক্যটি।  একটু একটু করে সঞ্চয় করলে একদিন না একদিন স্বপ্নপূরণ হবেই।
তারাপীঠ রোড স্টেশন এলাকায় টেবিল লাগিয়ে লটারি বিক্রি করেন তাপস।  তাতে সামান্য আয় হয় তাঁর। সেই টাকা দিয়েই কোনও মতে চালাতে হয় সংসার। তার থেকে কিছু ১০ টাকার কয়েন বাঁচিয়ে জমাতেন লক্ষ্মীর ভাঁড়ে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি জমাচ্ছিলেন। স্বামীর স্বপ্নপূরণে সাথ দিয়েছিলেন স্ত্রীও। দিনকয়েক আগে দু’জনে মিলে ভাঙেন ভাঁড়গুলি। গুনে দেখেন, জমা হয়েছে এক লক্ষেরও বেশি টাকা।
এদিন বাইকের চাবি হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তাপস। বলছিলেন, ‘বছর তিনেক আগে একটি বাইক কেনার শখ জাগে। কিন্তু অভাবের সংসারে প্রথমে ভেবেছিলাম স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। পরে ভাবি, চেষ্টা করতে তো আপত্তি নেই। প্রতিদিন অনেকে দশটাকার কয়েন দিয়ে লটারি কেনেন। আমি সেই কয়েনগুলি দুবছর ধরে লক্ষ্মীর ভাঁড়ে জমাচ্ছিলাম। তবে, এত টাকা জমা হয়েছে বুঝতেই পারিনি। ওই কয়েনগুলি ১০টি ছোট বস্তায় ভরে টোটোয় চাপিয়ে বাইক কিনতে চলে আসি মল্লারপুরের একটি শোরুমে। কিন্তু এত কয়েন শোকর্মীরা নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু তাঁরা আমাকে নিরাশ করেননি। 
তাপসের বাইকের দাম পড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩০০ টাকা। তাপস ও শোরুমের তিন কর্মী মিলে কয়েন গুনতে শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে কয়েন গোনা। অবশেষে দুপুরে তাপসের হাতে বাইক তুলে দেওয়া হয়। তবে সবটাই যে কয়েনে তা নয়। কিছু নোটও দিয়েছেন তাপস।  শোরুমের এক কর্মী জানান, তাঁরা প্রথমে অত কয়েন নেবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। পরে ওই যুবকের মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছেন। বারবার তাপস তাঁদের বলছিলেন, একটি বাইক কিনতে চান। তাঁর আকুতির কথা শোরুমের কর্মীরা ম্যানেজারকে জানালে তিনি রাজি হয়ে যান। বাইকের চাবি নিয়ে  গর্বের হাসি হাসেন তাপস।

30th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ