বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনে আটকে রেলগেটে ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ

সংবাদদাতা, বেলদা: অনুমোদন পাওয়ার পর প্রায় দু’বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হল না বেলদা কেশিয়াড়ি মোড় সংলগ্ন ২৪ নম্বর রেলগেটের ওপর ওভারব্রিজের নির্মাণ কাজ। সৌজন্যে আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন। এই ওভারব্রিজের সম্পূর্ণ টাকা কেন্দ্র সরকার দিচ্ছে বলে সাংসদ দিলীপ ঘোষ দাবি করলেও স্থানীয় বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট জানাচ্ছেন, রাজ্যকে অর্ধেক টাকা দিতে হবে, যা এই মুহূর্তে রাজ্যের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে সাংসদের দাবিকে নস্যাৎ করে রেল দপ্তরের দাবি, বর্তমানে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলির সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার কেন্দ্র সরকার নিলেও ২০২১ সালে অনুমোদন পাওয়া এই ওভারব্রিজের জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সমান সমান অর্থের দায়ভার নেবে। ফলে লাল ফিতের ফাঁসে আটকে রয়েছে এই প্রকল্পের কাজ।
নারায়ণগড় ব্লকের বেলদার কেশিয়াড়ি মোড় সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ের একদিকে রয়েছে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, কলেজ, অপরদিকে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বাজার। এই লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে খুব সহজে যাওয়া যায় নয়াগ্রাম হয়ে ঝাড়গ্রাম। এছাড়া নয়াগ্রামে জঙ্গলকন্যা সেতু হয়ে যাওয়ার পর হলদিয়া থেকে ওড়িশার পারাদ্বীপ যেতে গেলে এই লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে নয়াগ্রাম হয়ে বারিপদা হয়ে খুবই সহজে যাওয়া যায়। প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে লেভেল ক্রসিং পার হয় কয়েক হাজার পণ্যবাহী যান ও যাত্রীবাহী বাস। রেলের খড়্গপুর-বালেশ্বর ডিভিশনে এই লাইন দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ ভারতগামী প্রচুর এক্সপ্রেস ও মালবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। 
সম্প্রতি খড়্গপুর থেকে জলেশ্বর পর্যন্ত রেলের তৃতীয় লাইনের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে পারাপার করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। 
নিত্যদিন এই লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে দীর্ঘ যানজটে ভোগেন বেলদাবাসী। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হয় অ্যাম্বুলেন্সকে। বেলদাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ২০২১ সালে এই লেভেল ক্রসিংয়ের উপরে উড়ালপুলের অনুমোদন দেয় রেল। দু’বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জমছে এলাকাবাসীর মনে।
সাংসদ দিলীপ ঘোষের দাবি, কেন্দ্র সরকার এই উড়ালপুলের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিলীপবাবু এই দাবি করলেও ভিন্নমত পোষণ করছে রেল দপ্তর। রেল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে সমস্ত উড়ালপুল অনুমোদন করা হচ্ছে, তার আর্থিক দায় যদি রাজ্য সরকার বহন করতে না পারে, তাহলে রেল সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে। কিন্তু এই উড়ালপুলের অনুমোদন ২০২১ সালে দেওয়া হয়েছিল। আর তখনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল রেল ও রাজ্য অর্ধেক অর্ধেক ব্যয়ভার বহন করবে। খড়্গপুরের ডিআরএম কে আর চৌধুরী বলেন কেন্দ্র ও রাজ্য মিলেই নকশা হয়েছে, দু’তরফে অর্থ ও জমি সমস্যা মিটলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। স্থানীয় বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন, আমি বিধায়ক হওয়ার পর বারে বারে রেলমন্ত্রককে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়েছি। বর্তমান রাজ্য সরকারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক বোঝা নেওয়া সম্ভব নয়। জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। তবে সাংসদ যেভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমে কেন্দ্র সম্পূর্ণ টাকা দেবে বলে মিথ্যে বুলি আওড়াচ্ছেন, তা ঠিক নয়।
এই চাপান‌উতোরের মাঝে পড়ে যাতে এই উড়ালপুরের নির্মাণ আটকে না থাকে, সেই দাবি করলেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রদীপকুমার দাস বলেন, কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে লালফিতের ফাঁসে এই প্রকল্পকে আটকে না রেখে দু’ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।-নিজস্ব চিত্র

30th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ