বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

শীতের শুরুতেই মরশুমি আনাজের দাম তলানিতে, বিপাকে মুর্শিদাবাদের চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সবেমাত্র শীতের আমেজ পড়েছে জেলায়। এরই মধ্যে মরশুমি আনাজের দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। খুচরো বাজারেও সস্তায় মিলছে সব্জি। এতে আমজনতার মুখে হাসি ফুটলেও, বেকায়দায় পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বেগুন, সিম, গাজরের দাম রয়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। বড় সাইজের ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস মিলছে ৫-১০ টাকার মধ্যে। চাষ করেও ঠিকমতো ফসলের দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। সার ও বীজের দামের খরচ তোলাই চাপ হয়ে যাচ্ছে বলে আক্ষেপ মুর্শিদাবাদের চাষিদের। বাজারে যে দামে সব্জি বিক্রি হচ্ছে, তার অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না বলে তাঁদের অভিযোগ।
পাইকারি থেকে খুচরো বাজার সর্বত্রই সব্জির দাম কিছুটা নিম্নমুখী। বহরমপুরের নতুনবাজারে সাধারণত পাইকারি দামে সব্জি বিক্রি হয়। সেখানে ১০ টাকা কেজিতে মুলো বিক্রি হচ্ছে। মাত্র পাঁচ টাকা দামে ভালো কপি পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচালঙ্কার দাম কেজিপিছু ২৫ টাকা। অনেকেই এই বাজার থেকে সব্জি কিনে আশেপাশের বাজারে বিক্রি করেন। সেখানে সব্জির দাম কিছুটা বেশি হলেও, চাষিদের কোনও সুরাহা হচ্ছে না। চাষিদের কাছ থেকে ছয়-সাত টাকা কেজি দরে বেগুন কিনে পাইকারি বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা দরে। সিম ও গাজর ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাষিরা দিচ্ছেন। তবে একমাত্র পটল ও ঢেঁড়শ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের থেকে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে পটল কিনছেন ব্যবসায়ীরা। তারপর ৪০ টাকা কেজি দরে তা বিকচ্ছে বাজারে। অধিকাংশ জায়গায় গরমের সব্জির দাম কিছুটা বেশি। শীতের শুরুতে সব্জি বাজারে এলেও, দাম না মেলায় চিন্তার ভাঁজ প্রকট হচ্ছে চাষিদের কপালে।
হরিহরপাড়ার সব্জিচাষি নীলকান্ত ঘোষ বলেন, আমাদের চাষ করে কোনও লাভ নেই। দু’মাস ধরে কপি চাষ করে এখন এক-একটি বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে চার-পাঁচ টাকায়। কী করে সংসার চলবে আমাদের। মনোরঞ্জন সাধু নামের এক সব্জি চাষি বলেন, খুচরো বাজারে আনাজের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও চাষিরা কিন্তু লাভ পাচ্ছে না। মাঝখান থেকে মুনাফা করছে ফড়েরা। পাইকারি বাজারে দাম কম বিভিন্ন আনাজের। এদিকে আমরা দাম চাইলে ফসল কিনছে না কেউ। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছি।
অনেক চাষিও এখন নতুনবাজারে এসে সরাসরি সব্জি বিক্রি করেন। ফুলকপি চাষি আমজাদ শেখ বলেন, মাঠ থেকে সব্জি বিক্রি করলে একেবারে লাভ পাচ্ছি না। তাই গাড়ি ভাড়া করে কপি সরাসরি এই বাজারে নিয়ে এসেছি। এখানে ১৫ টাকা জোড়া কপি বিক্রি করতে পারছি। ভালো বড় সাইজের কপি ১০ টাকা দামেও কিনছেন মানুষ। তবে বাজারে অনেক কপি চলে এলে তখন পাঁচ টাকা দামে ছেড়ে দিচ্ছি। 
নতুন বাজারের পাইকারি বাজারে এদিন সব্জি কিনতে এসেছিলেন কাশিমবাজারের বর্ণালি দাস। তিনি বলেন, এই বাজার থেকে ১০০ টাকার সব্জি কিনলেই বাজারের ব্যাগ ভরে যাচ্ছে। অন্য বাজারে প্রায় দ্বিগুণ দামে সব্জি বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই এখন নতুনবাজারে এসে কম দামে খুচরো সব্জি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

30th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ