বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

দিনে ফেরিওয়ালা, রাতে অস্ত্রের ডিলার, পুলিসের অভিযানে ধৃত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কখনও ভ্যানে, কখনও আবার সাইকেলে দিনভর বিভিন্ন সামগ্রী ফেরি করে বেড়ায় সে। টিনভাঙা, লোহা ভাঙা, প্লাস্টিকের সামগ্রী ইত্যাদি নিয়েই তার কারবার। নিরীহ সেই ফেরিওয়ালাই কিন্তু রাত হলেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। রাতে সে হয়ে ওঠে অস্ত্র সরবরাহকারী। এ জন্য অন্য মাত্রায় আর এক ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের গল্প। 
বিহার, ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত আর্মস ডিলারদের সঙ্গে তার ওঠা বসা। শুধু তাই নয়, জেমুই, দেওঘরে ডাকাতির পর আসানসোলে তাদের শেল্টারও দিত সে। এমনই এক ভয়ঙ্কর ‘ফেরিওয়ালা’ এখন পুলিসের হেফাজতে। তাকে জেরা করে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক আধুনিক অস্ত্র। সন্ধান মিলছে অস্ত্র সরবরাহের নানা নতুন কৌশলের। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত ফেরিওয়ালার নাম মহম্মদ সাবির। অনেকে তাকে সাবির আবাস নামেও চেনে। 
এসিপি দেবারাজ দাস বলেন, একজন ফেরিওয়ালাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার কাছ থেকে একাধিক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র সরবরাহের নতুন একাধিক সূত্র পাওয়া গিয়েছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে এক কুখ্যাত ডাকাতকে খুঁজছিল বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পুলিস। সে একাধারে কুখ্যাত অস্ত্র সরবরাহকারী, অন্যদিকে সে নিজে বড় ডাকাতও। জেমুই, দেওঘর এলাকায় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড ছিল সে। পুলিসের কাছে খবর আসে, সেই ডাকাত গা ঢাকা দিয়েছে আসানসোলে। ঩সেই সূত্র ধরেই আসানসোল উত্তর থানার পুলিসের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে। ডাকাতের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তাকে আসানসোল থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ঝাড়খণ্ড থানার পুলিস। এই ঘটনায় আসানসোলের পুলিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। দেখা যায়, সেই ডাকাতের নিয়মিত একটি নম্বরে কথা হতো। সেই নম্বরের মালিক আসানসোল রেলপারের এক ফেরিওয়ালা। তারপরই তার উপর নজর রাখা শুরু করে পুলিস। পুলিস তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে, ফেরিওয়ালা নিজে একটি ঝুপড়িতে থাকলেও একটি নতুন পাকা বাড়ি করছে সে। টাকার সূত্র বের করতে গিয়েই পুলিসের নজরে আসে আসলে ফেরিওয়ালা পেশাটা ‘ভেক’। সে প্রকৃতপক্ষে অস্ত্র সরবরাহকারী। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে অস্ত্র এনে এখানে সরবরাহ করাই তার আসল পেশা। এরপরই পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাকে টানা জেরা শুরু করে পুলিস। তার পরই একে একে আধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিস। এখনও পর্যন্ত তিনটি ৭.৫৬ এমএমের তিনটি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। 
শুধু অস্ত্র উদ্ধার নয়, তাকে জেরা করে মিলছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এখানে বিভিন্ন সময়ে যে অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল, তার সঙ্গেও যোগ রয়েছে তার। মূলত বিহার, ঝাড়খণ্ডে অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে এখানকার অবৈধ অস্ত্র কারবারিদের যোগসূত্র ধরে দিত সে। ফেরিওয়ালা বেশে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ‘ডিল’ও করত এই কুখ্যাত অভিযুক্ত। 
শুধু অস্ত্র সরবরাহ নয়, ভিন রাজ্যের অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে দিত সে। পুরো কাজটিই সে করত অর্থের বিনিময়ে।  ধৃত অভিযুক্ত। নিজস্ব চিত্র

30th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ