Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

মোট জঞ্জালের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার কেজি! একটা বিয়েতেই তো কত কিছু নষ্ট হয়। এখানে আবার দুটো বিয়ে হয়েছে। তাই বিবাহের পরদিন জমে থাকা জঞ্জালের পরিমাণ একটু বেশি হতেই পারে। সেইসব নষ্ট হওয়া এবং ফেলে দেওয়া জঞ্জালের মধ্যে আবার একটা বড় অংশই হল বাটার নান, পরোটা, স্যালাড, ফল এবং আলু। আলু খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো নয়। তাই ধনীরা আলু পছন্দ করেননি। কিন্তু ১৫১ রকম মেনুতে তো আলুর ডিশ রাখতেই হয়। বোধহয় সেরকম কেউ খাননি। তাই ফেলে দিতেই হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের পাদদেশের এই জায়গাটি পর্যটনপ্রিয় বাঙালি খুব ভালোমতোই চেনেন। আউলি। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে পাহাড়ের কোলে এই ছোট্ট জনপদই ছিল বিবাহবাসর। দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত অনাবাসী ভারতীয় শিল্পপতি গুপ্তা ব্রাদার্স নামক পরিচিত দুই ভাইয়েরই পুত্রদের বিবাহ হয়ে গেল। বেশি খরচ হয়নি। ২০০ কোটি টাকা! কে না জানে আজকাল স্ট্যাটাসের নাম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং! অর্থাৎ ধনী, সেলেব্রিটি তো বটেই, একটু পয়সাওয়ালা হলেই আজকাল আর কেউ নিজের পাড়ায়, নিজের শহরে ভাড়া বাড়ি করে কিংবা হোটেল বুক করে ছেলেমেয়ের বিয়ে দেয় না। নতুন প্রবণতা হল ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। অর্থাৎ অনেক দূরে কোনও ট্যুরিস্ট স্পটে অন্য শহরের কোনও এক বিখ্যাত প্যালেস কিংবা বিদেশের কোনও শান্ত নির্জন ফার্ম হাউস অথবা লাস ভেগাসের মতো উচ্ছ্বল নগরীতে বিবাহ করে থাকেন ধনীরা। বিরাট কোহলি বিয়ে করেছেন ইতালিতে গিয়ে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বিয়ে করেছেন যোধপুরে উমেদ ভবন প্যালেসে। ঈশা আম্বানির বিয়ের রিসেপশন হয়েছে উদয়পুরে। এরকমভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার সবথেকে চর্চিত এবং অন্যতম ধনী শিল্পপতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুপ্তা ব্রাদার্সদের দুই পুত্রের বিবাহের জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন শান্ত হিমালয়কে। আউলি! আউলি স্কাই রিসর্টে জুন মাসের ১৯ আর ২০ তারিখ বিয়ে হয়েছে অজয় গুপ্তর পুত্র সূর্যকান্তের। আর ২১ এবং ২২ তারিখ হয়েছে অতুল গুপ্তের পুত্র শশাঙ্কের বিবাহ। বিয়েতে আনন্দ, মজা আর উৎসব করাই নিয়ম। তাই হিমালয়ের ঠিক নীচে আদিগন্ত সবুজ প্রান্তরের বুকে বিবাহের পাঁচদিন ধরে যোগাসনের সেশন হয়েছিল। কে পরিচালনা করলেন সেই যোগাসন? এক্ষেত্রের এক নম্বর মানুষটি। বাবা রামদেব। হিন্দি সিনেমার গানের সঙ্গে একটু নৃত্যানুষ্ঠান থাকবে এবং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেই অনুষ্ঠানের প্রধান নৃত্যশিল্পী ছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ। এসেছিল অসংখ্য হেলিকপ্টার। সেগুলিকে ল্যাণ্ড করতে হয়েছে যোশীমঠে। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে আসতে হবে আউলিতে বিবাহবাসরে। ধনীদের বিবাহে এসব হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। সমস্যা হল ওই ৩২ হাজার কেজি জঞ্জাল হিমালয়ের কোলে জমা হওয়া নিয়ে। ওই বিবাহ এবং ৩২ হাজার কেজি জঞ্জাল জমা হওয়ার ঠিক ১৫ দিন পর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর দিল্লিতে বাজেট নিয়ে কথা বলার সময় বলেছিলেন, আমাদের বাজেট বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমরা বসুন্ধরাকে সবুজ আর আকাশকে নীল রাখতে বদ্ধপরিকর। জানা গেল বাজেটে এবার ৪৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে পরিবেশকে দূষণহীন করতে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে একদিকে যখন সরকার ঘোষণা করছে তারা দেশের পরিবেশ রক্ষায় কোনও আপস করবে না, তাহলে আউলিতে হওয়া ওরকম বিবাহের আয়োজনের অনুমতি কেন দেওয়া হচ্ছে? ওড়িশার সম্বলপুরের গ্রামে প্রকাশ্য এলাকায় মলত্যাগ করার জন্য দরিদ্র গ্রামবাসীদের স্পট ফাইন করা হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছিল সরকারি শৌচালয় থাকা সত্ত্বেও কেন এই খারাপ অভ্যাস তাঁরা ত্যাগ করছেন না? ভয়ে ভয়ে তাঁরা সরকারি বাবুদের বলেছিলেন, সরকারি শৌচালয় খুব সুন্দর, শুধু একটাই সমস্যা। জল নেই। গোটা দেশজুড়ে এটা স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অন্যতম সমস্যা এটা আজকাল সামান্য খোঁজ করলেই জানা যায়। অর্থাৎ জলসংকট এমন যে সেখানে শৌচালয়ে জলব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা রাখার মতো অবস্থা নেই বহু গ্রামে। কিন্তু প্রশ্ন হল সরকার যখন পরিবেশ নিয়ে এতটাই কঠোর তখন চরম পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি নিয়েও এই হাই প্রোফাইল বিয়ের অনুমতি দেওয়া হল কেন? পুরসভা সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। দেড় লক্ষ টাকা পৃথক জরিমানা। কতটা দূষণ হয়েছে? শুধু আউলির ওই পরিবেশে প্রকাশ্য মলত্যাগের জরিমানা করা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। লেবাররা কোথায় শৌচকার্য করবেন? তাই হিমালয়ের কোলে। কিন্তু জরিমানা করে কী হবে? বরং ওই অনুমতি না দেওয়া হলে অনেক কড়া বার্তা দেওয়া হতো যে সত্যিই আমাদের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি পরিবেশ নিয়ে ভাবিত। কিংবা মুখে যা বলে, তাই পালন করা হয়। আদতে কিন্তু দেখা যাচ্ছে তা নয়। বরং কাজে ও কথায় বিস্তর গরমিল।
মুম্বইয়ের কাছে পালাঘর জেলার জওহর এলাকার তিনটি গ্রামের মানুষ এবার সকাল থেকে ভোট দেননি। গ্রামবাসীর বেশিকিছু দাবি ছিল না। শুধু বলা হয়েছিল জলের ট্যাঙ্কার যেন সপ্তাহে তিনদিনের পরিবর্তে চারদিন আসে। অন্তত এই গরমের সময়টা। জওহর এলাকার তিনটি গ্রামের জলের সোর্স হল দুটো কুয়ো। তবে দুটোই শুকনো কুয়ো। কুয়োর নিজস্ব জল নেই। সপ্তাহে তিনদিন সরকারি ট্যাঙ্কার এসে সেই কুয়োয় জল ঢেলে যায়। নতুন ভারতে এটা অবশ্য চালু দৃশ্য। আরও ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা যাবে নাসিকে। রামঘাটে মাঝেমধ্যে গোদাবরী নদীতে ট্যাঙ্কার এসে জল ঢেলে দিয়ে যায়। যাই হোক, যে তিনদিন গ্রামে ট্যাঙ্কার আসে, সেই তিনদিন ভোর সাড়ে চারটেয় ঘুম থেকে উঠে গোটা গ্রামের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্য খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে যায় জল আনতে। দেখা যাবে দলে দলে মিছিলের মতো করে গ্রামবাসী যতরকম পাত্র আছে হাতে, মাথায় নিয়ে ওই কুয়োর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুথে ভোটকর্মীরা বসে আছেন। ভোটার নেই। এই খবর যেতেই অবশেষে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার নিজে এলেন। প্রতিশ্রুতি নিয়ে নয়। ট্যাঙ্কার নিয়ে। তাঁর গাড়ির পিছনেই ছিল ট্যাঙ্কার। সেই ট্যাঙ্কার কুয়োয় জল ঢাললো। তারপর গ্রামবাসী ভোট দিতে গেলেন। পালাঘরের জলসংকটের যেখানে এই ভয়ঙ্কর অবস্থা, সেখানে পালাঘর থেকে থানে জেলার এলাকার পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষাকারী ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে ফেলা হবে বলে স্থির হয়েছে। কারণ বুলেট ট্রেন। মুম্বই থেকে আমেদাবাদ ৫০৮ কিলোমিটার বুলেট ট্রেনের জন্য শুধু মহারাষ্ট্রের এই এলাকাগুলিতে ৫৪ হাজার ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুলেট ট্রেনের জন্য গুজরাত আর মহারাষ্ট্রের ১৪০০ হেক্টর জমি লাগবে। ১২টি স্টেশন লাগবে, ৩৫০ কিলোমিটার ঘণ্টায় স্পিড। মুম্বই থেকে আমেদাবাদ যেতে সময় কমে যাবে ২ ঘণ্টা। কোন কোন এলাকা পড়বে এই রুটে? সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক, যেখানে লেপার্ডের সংখ্যা সবথেকে বেশি, থানে ক্রিক ফ্লেমিঙ্গো স্যাংচুয়ারির যেটা মাইগ্রেটরি বার্ডসের চারণভূমি। গোটা প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার গাছ কাটা হতে পারে। মহারাষ্ট্রে যেখানে সবথেকে বেশি খরা আর জলসংকট, সেখানে ঠিক সেই জেলাগুলির উপর দিয়েই বুলেট ট্রেন নিয়ে যাওয়ার দরকার পড়ল কেন? যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সমস্যার কথা উপলব্ধি করে জলসংকট থেকে রক্ষা পেতে এবার বাজেটে সবথেকে জোর দিয়েছেন এবং বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, সেখানে কেন এই সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা করে দরকার হলে অন্য রুটে বুলেট ট্রেন নিয়ে যাওয়া হবে না? যাতে অন্তত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পায়? সরকারের কথায় ও কাজে মিল দেখতে না পেলে দেশবাসী সেই সরকারকে সিরিয়াসলি নেবে কেন?
গুজরাতের ভাদোদরা জেলার চান্দোড়ে ৬০০ জন মাঝি প্রতিদিন নিজেদের নৌকা নিয়ে চোখের সামনে দেখতে পান একটু একটু করে এতদিনের চেনা নর্মদা শুকিয়ে যাচ্ছে। এই মাঝিদের জীবিকা হল মাল্লারাও ঘাট থেকে ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্যার্থীদের নিয়ে যাওয়া এবং সেই সঙ্গমে ডুব দিয়ে পুণ্যার্থীরা পিতামাতার অস্থি বিসর্জন করে আবার ফিরে আসে ঘাটে। নর্মদা, ওরসাং এবং গুপ্ত সরস্বতী। এই তিন নদীর মিলনস্থল। তাই সঙ্গম। একটা সময় এখানে নর্মদার বন্যায় আশেপাশের গ্রামে জল ঢুলে পড়ত। আর আজ এই মুহূর্তে অর্থাৎ এই বর্ষাতেও দেখা যায় চান্দোড়ের শুকনো নর্মদায় গাড়ি পার্ক করে পুণ্যার্থীরা কিছুটা হেঁটে হাঁটুজল পেরিয়ে সেই সঙ্গমে চলে যাচ্ছেন। চান্দোড়ের ৬০০ জন মাঝি আর তাঁদের নৌকাগুলি সারাদিন বসে থাকে। সর্দার সরোবর বাঁধ মাঝেমধ্যে যদি জল ছেড়ে দেয় তাহলে নর্মদার এই অংশে জল আবার পূর্ণ হয় কিছুটা। আর নচেৎ সারাবছর শুকনো। এর পরিণাম কী? চান্দোড় ছেড়ে দলে দলে মানুষ চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। ফুড মাইগ্রেশন, জব মাইগ্রেশন, ওয়াটার মাইগ্রেশন দেখছে ভারত অবিরত। এখন রিভার মাইগ্রেশন। নদীতে জল নেই। তাই কৃষি ঩নেই। অর্থাৎ কাজ নেই। সুতরাং গ্রামে থেকে লাভ নেই। দেশের সর্বত্র এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গুজরাত সরকার নিজেদের কোটা থেকে মাঝেমধ্যে বাঁধ থেকে জল রিলিজ করলেও সেটা স্থায়ী সমাধান নয়। একমাত্র ট্রাইবুনালকে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা করতে হবে। সেটাও করা হচ্ছে না। ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি?
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
চীনা ঋণের ‘নাগপাশ’
মৃণালকান্তি দাস

বৈদেশিক ঋণের পাহাড় কীভাবে একটা দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতির চাকাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে, শ্রীলঙ্কা তার ক্ল্যাসিক দৃষ্টান্ত। হামবানতোতা বন্দরকে ৯৯ বছরের লিজে চীনের কাছে হস্তান্তরে বাধ্য হওয়ার পর সেই ধারণাই আরও জোরালো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিবিদ উমেশ মোরামুদালি লিখেছেন, শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের চেহারা আসলে যা ভাবা হচ্ছে, তার চেয়েও অনেক বেশি সাঙ্ঘাতিক। চীনের ঋণ একা দায়ী নয়। হামবানতোতা বন্দর নির্মাণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাঙ্ক থেকে শ্রীলঙ্কা যে ঋণ নিয়েছিল তার জন্য প্রতিবছর যে টাকা শোধ করতে হচ্ছে, সেটা শ্রীলঙ্কার মোট বার্ষিক ঋণ পরিশোধের ৫ শতাংশও নয়। অন্যভাবে বললে, হামবানতোতা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
বিশদ

05th  July, 2019
জি-টোয়েন্টির মঞ্চে ভারতের সফল কূটনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ 

বাস্তবিকই তাই। দ্বিতীয়বার জিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বিপুল জনসমর্থনকে ভারতের বহির্বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে মজবুত করার কাজে নিযুক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর দ্বিতীয়বার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিমস্টেকের অন্তর্গত সকল সদস্য রাষ্ট্র ও সাংহাই কোয়াপারেশন অর্গানাইজেশনের এখনকার সভাপতি কিরঘীজ রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি মোক্ষম চাল দিয়েছেন। 
বিশদ

04th  July, 2019
অ্যাঞ্জি, আয়লান ও মানবিকতার হত্যা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 আরও একটা ছবি...। মর্মান্তিক বললেও কম। আর সেটাই গোটা দুনিয়ার চোখে আঙুল দিয়ে ফের দেখিয়ে দিল, মানবিকতার থেকে অর্থনীতির গুরুত্ব আজ অনেক বেশি। কালো টি-শার্ট, কালো শর্টস পরা শরীরটা মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে কাদায়। আগাছার মধ্যে। টি-শার্টটা একটু উঠে। তার ফাঁক থেকে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট আর একটা শরীর। ২৩ মাসের অ্যাঞ্জির।
বিশদ

02nd  July, 2019
রাজ্য মেধাতালিকা ও প্রান্তিক সুন্দরবন
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

 অনেকেই বলাবলি করেন: রাজ্যের মেধাতালিকায় কোথায় আর সুন্দরবন। কথাটা ঠিক নয়। ক্ষেত্রসমীক্ষা বলছে—মেধাতালিকায় সে-মাথায় দার্জিলিং তো এ-মাথায় সুন্দরবন। সদ্য বের হল জয়েন্টের মেধাতালিকা। পঞ্চম স্থানে অর্ক দাস। অর্কের শিকড় আসলে সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে। খোদ সুন্দরবনের জ্ঞানপীঠ বিদ্যায়তনে ওর প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ।
বিশদ

01st  July, 2019
এক জাতি, এক নির্বাচন, অনেক ভীতি
পি চিদম্বরম

 প্রধানমন্ত্রীকে আপনার বাহবা দিতে হবে যে সাধারণ মানুষের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিয়ে দেওয়ার মতো ইস্যুগুলো তিনি খাড়া করে দিতে পারেন। তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরেন যে বিরোধীরা বহু কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সেগুলি সবসময় অকাট্য বা যুক্তিনির্ভর হবে না।
বিশদ

01st  July, 2019
অশান্তি ঠেকাতে পুলিসের একাংশের ভূমিকা অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
শুভা দত্ত

  পুলিসি দক্ষতা এবং সময়ানুগ সক্রিয়তা বজায় থাকলে অনায়াসে অনেক কিছুই সহজে মিটে যায় বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রাণও বাঁচে। কিন্তু, মার ঠেকাতে গিয়ে যদি পুলিসই প্রাণঘাতী মারমুখী হয়ে ওঠে তবে তো বিপদ। সেই বিপদের আভাস মিলেছে। যতদূর খবর, বিপদ যাতে বাড়তে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছে মমতা সরকার।
বিশদ

30th  June, 2019
কাটমানি ও শুদ্ধিকরণ
তন্ময় মল্লিক

এক ফোঁটা গোচোনা যেভাবে গোটা বালতির দুধ নষ্ট করে দেয়, তেমনই তৃণমূলের মাতব্বরদের কাটমানি খেয়ে ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়ে ওঠা মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত ভালো কাজে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানির মূলেই কুঠারাঘাত করেছেন। তাঁর এই ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ২০২১ সালটা হবে ইতিহাস সৃষ্টির বছর। রচিত হবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের ইতিহাস।
বিশদ

30th  June, 2019
একনজরে
 বিএনএ, চুঁচুড়া: ডাক্তারের গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার রোগীর বাড়ির লোকজন বিক্ষোভ দেখালেন পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। অবিলম্বে ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করতে হবে বলে তাঁরা দাবি করেন। পরে বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রয়াত হলেন পাঁচ ও ছয়ের দশকে বাংলার অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার সৌমেন কুণ্ডু (৭৭)। গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন তিনি। সৌমেন কুণ্ডু বাংলা ও রেলের হয়ে রনজি ট্রফি খেলেছেন। ...

লখনউ, ১১ জুলাই (পিটিআই): দেশের বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতে সরকারকে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার ট্যুইটারে এই অভিযোগ করলেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। একই সঙ্গে ‘দলবদলু’ বিধায়কদের সদস্যপদ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে বিধায়কদের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের দাবিতে আনা একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বেশি বন্ধু-বান্ধব রাখা ঠিক হবে না। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য আসবে। বিবাহযোগ আছে। কর্ম পরিবেশ পরিবর্তন হতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৩: কলকাতা বন্দর থেকে ছাড়ল ভারত নির্মিত প্রথম বাষ্পচালিত জাহাজ ‘ডায়না’
১৯০০:অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের জন্ম
১৯০৪: চিলির নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার জন্ম
১৯০৯: চিত্র পরিচালক বিমল রায়ের জন্ম
১৯৬৫: ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকরের জন্ম
১৯৭২: গুগলের কর্ণধার সুন্দর পিচাইয়ের জন্ম
১৯৯১: ফুটবলার হামেস রডরিগেজের জন্ম
১৯৯৭: পাকিস্তানি শিক্ষা আন্দোলনকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম
১৯৯৯: অভিনেতা রাজেন্দ্রকুমারের মৃত্যু
২০১২: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের মূত্যু
২০১৩: অভিনেতা প্রাণের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৫৫ টাকা ৬৯.২৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.১০ টাকা ৮৭.২৪ টাকা
ইউরো ৭৫.৬৬ টাকা ৭৮.৫৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,২০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৪০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৯০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ৪৮/৪০ রাত্রি ১২/৩১। বিশাখা ২৭/১৪ দিবা ৩/৫৭। সূ উ ৫/৩/১৩, অ ৬/২০/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ১২/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৬ গতে ২/৫৫ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/২২ গতে ১১/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২১ মধ্যে।
২৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ৫৩/৮/৩৭ রাত্রি ২/১৮/৩৩। বিশাখানক্ষত্র ৩৪/৮/৪১ সন্ধ্যা ৬/৪২/৩৪, সূ উ ৫/৩/৬, অ ৬/২৩/৬, অমৃতযোগ দিবা ১২/৯ গতে ২/৪৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৩০ মধ্যে ও ১২/৪৬ গতে ২/৫৫ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/৩ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৩/৬ গতে ১০/৩/৬ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৬ গতে ১১/৪৩/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৩/৬ গতে ১০/২৩/৬ মধ্যে।
৮ জেল্কদ
এই মুহূর্তে
রাজাবাজারে গুলি চালনার ঘটনায় ধৃত ১ 

06:47:00 PM

চৌবাগা খালে বাস উল্টে জখম বেশ কয়েকজন 

06:32:34 PM

মুর্শিদাবাদের প্রদীপপাড়ায় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে গুলি করে খুন

04:06:59 PM

৮৭ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:59:16 PM

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ মেনে এনইএফটি, আরটিজিএস, আইএমপিএস-এর চার্জ প্রত্যাহার করল এসবিআই 

03:16:50 PM

দিল্লিতে বান্ধবীকে ছুরি মারার অভিযোগ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে

02:54:00 PM