বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

গুরু

ঠাকুর বলছেনঃ “শাস্ত্র কত পড়বে? শুধু বিচার করলে কি হবে? আগে তাঁকে লাভ করবার চেষ্টা কর, গুরুবাক্যে বিশ্বাস করে কিছু কর্ম কর। গুরু না থাকেন, তাঁকে ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা কর, তিনি কেমন—তিনিই জানিয়ে দেবেন।”
ঠাকুরের লক্ষ্য সেই অনুভূতির দিকে। তাঁর সব কথার মধ্যেই যেন এই মূল সুরটি বাঁধা। সবকিছুর মধ্যেই ঈশ্বরকে অনুভব করবার চেষ্টা করতে হবে—এই কথাটিই ঠাকুর বারবার বলতেন। অনেকের মনে হয়, জপ-ধ্যান করছি তবু অনুভূতি হয় না কেন? হ্যাঁ, শুধু জপ-ধ্যান করে গেলেই হবে এমন নয়। বিষয়ের প্রতি ভোগতৃষ্ণা কাটাতে হবে। অনুভূতি এবং ভোগ—দুটো একসঙ্গে হয় না। যত বাসনা কাটানো যাবে, তত আনন্দ হবে। সাধনের আনন্দ। সাধনের একটা আলাদা আনন্দ আছে। ঠিক ঠিক ভাবে গুরু উপদেশ ধরে নিয়মিত জপ-ধ্যান করলে আনন্দ পাওয়া যাবে। কিন্তু সে-আনন্দও কিছুই নয়। আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ তো পথের আনন্দ। গন্তব্যস্থলে পৌঁছালে তো আর কিছু বলা যায় না। Burning (জ্বলন্ত) বৈরাগ্য চাই। নাহলে কি করে হবে! ম্যাদাটে ভাব নয়। ঠিক ঠিক বৈরাগ্য যার আসে তার মধ্যে কোন ম্যাদাটে ভাব আসতে পারে না। বৈরাগ্য যত প্রবল হবে, বিষয় থেকে যত মন উঠবে তত সাধক বীরত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাবে তাঁর দিকে।
বৈরাগ্য মানে চিত্তের বৃত্তিগুলিকে শান্ত করা। আমাদের অন্তঃকরণে ‘চিত্তহ্রদ’ আছে। ইন্দ্রিয় মনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সেই হ্রদে কতকগুলি চিন্তার প্রবাহ তোলে। এই প্রবাহই ‘বৃত্তি’। এই বৃত্তিগুলিকে শান্ত করে একমুখী করতে হবে। একটি একটি করে বৃত্তি শান্ত করব, তা নয়। সাধনার লক্ষ্য—সমস্ত বৃত্তির নিরোধ। ভগবৎ-চিন্তা যত করা যাবে, বৃত্তিগুলি আপনা থেকেই ততই শান্ত হয়ে যাবে। জাগ্রত, স্বপ্ন—সর্বাবস্থায় সর্বান্তঃকরণে তাঁর চিন্তা করা চাই। পথে গুরুবাক্যই সম্বল। গুরুবাক্যে বিশ্বাস চাই। গুরু যেমন বলে দিয়েছেন, তেমনিভাবে তাঁর চিন্তা করতে হয়। সাধন ঠিক ঠিক হলে তার লক্ষণ হচ্ছে, একটা আনন্দ হবে। সাধন একটি সামগ্রিক পদ্ধতি। এতে স্বাধ্যায় আছে, বিচার আছে, ভজন আছে, স্মরণ-মনন আছে, নাম-শ্রবণ, নাম-কীর্তন আছে, ধ্যান-নিদিধ্যাসন আছে। সাধনের আনন্দ মানে এগুলির আনন্দ।
নিয়মটি ঠিক রাখতে হয়। প্রতিদিন নিয়মমত স্বাধ্যায় (সদগ্রন্থপাঠ), জপ-ধ্যানাদি করতে হয়। প্রতিদিনের একটা রুটিন করে নিতে হয়। নিয়মিত করতে করতে একটা অভ্যাস হবে। অভ্যাসটাই ক্রমে স্বভাবে পরিণত হবে। তখন না করলে ভাল লাগবে না। মনে হবে যেন অঙ্গহানি হয়ে গেল, খুবই প্রয়োজনীয় কিছু বাদ চলে গেল। মনে একটা অস্থিরতা আসবে, একটা তীব্র অভাববোধ জাগবে। যতক্ষণ না করছি ততক্ষণ শান্তি হবে না।
এই প্রসঙ্গে কয়েকটা কথা বলি। অনেকে বলেন, ঠাকুরকে বোঝার জন্য প্রথমে স্বামীজীর বই পড়া উচিত। আমার মনে হয়, এরকম কোন গণ্ডি দেওয়া ঠিক নয়। স্বামীজীর ভাষণ, রচনা যে ঠাকুরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সর্বপ্রধান ভাষ্য সে-বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘মায়ের কথা’? মায়ের মতো ঠাকুরকে এত সহজভাবে, এত প্রাঞ্জলভাবে বোঝাতে স্বামীজীও পারেননি।
স্বামী নির্বাণানন্দের ‘দেবলোকের কথা’ থেকে

26th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ