বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

ভগবান

স্থান—বেলুড় মঠ, ১৯১৪
ঠাকুর বলতেন, “তিন টান এক হলে ভগবানকে পাওয়া যায়। বিষয়ীর বিষয়ের ওপর—মায়ের সন্তানের ওপর, সতীর পতির ওপর, এই তিন টান যখন ভগবানে হবে, তখন তাঁকে পাওয়া যাবে।” এ কথাটার মানে কি? যখন সব বাসনা মন থেকে উঠে গিয়ে ভগবানকে লাভ করবার জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগবে, তখনই তাঁকে লাভ করা যাবে, তখনই তাঁর দর্শন-স্পর্শন লাভ করে আমরা ধন্য হব। গীতায় ভগবান বলছেন—“সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ,” যা কিছু সব ত্যাগ করে আমাকে (শ্রীভগবানকে) আশ্রয় কর। শরণাগত, শরণাগত, শরণাগত—এ ছাড়া আর গতি নেই। কলির জীব অন্নগতপ্রাণ, অল্পায়ু। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করতে হবে। সেই শক্তি-সামর্থ্য ত্যাগ-তপস্যা ও সাহস নেই, মন দুর্বল, কাজেই ভোগাসক্তি বেশি। তা সত্ত্বেও কিন্তু ভগবানকে পেতে হবে, তা না হলে এ জীবনটা বৃথা গেল, কেবল আসা-যাওয়া সার হলো। তাঁর শরণাগত হয়ে পড়ে থাকা ছাড়া এ যুগে সহজ রাস্তা আর নেই। শরণাগত বলতে আমরা কি বুঝি? আমাদের কিছু করতে হবে না—আমরা কি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকব? না, তা নয়। তাঁর কাছে সরল প্রাণে সর্বদা প্রার্থনা করতে হবে, “হে প্রভু, আমি ভালমন্দ কিছু জানি না, আমি তোমার আশ্রিত, আমার যা অভাব তুমি তা পূরণ কর, যে রাস্তায় চললে আমার কল্যাণ হবে সে রাস্তায় নিয়ে চল, তোমার স্মরণ-মনন করার শক্তি দাও।” শরণাগত হয়ে পড়ে থাকা কি সোজা রে? মুখে অনেকে বলে আমি তাঁর শরণাগত—তিনি যেমন করাচ্ছেন তেমনি করছি। কিন্তু তার জীবনটা লক্ষ্য করে দেখলে দেখতে পাবে, মুখে যেটি বলে ঠিক তার উল্টোটি করছে। ভাল কাজ কিছু করলে ভগবানকে ভুলে গিয়ে ‘আমি করছি’ ‘আমি করছি’ বলে লাফালাফি করে। যেই কিছু বিপদ হলো অমনি ভগবানের ঘাড়ে দোষ চাপায়, আর বলে, তিনি আমায় কষ্ট দিচ্ছেন, দুঃখ দিচ্ছেন ইত্যাদি। অধিকাংশ লোকই এই ভাবে জীবন কাটায়।
আমরা বাইরের movement (চালচলন) দেখে লোক ভাল কি মন্দ বিচার করি; কিন্তু ভগবান অন্তর্যামী—তিনি মন দেখে বিচার করেন। সরল প্রাণে একটিবার ডাকলেই তিনি দৌড়ে আসেন। সরল হও, মন সুখ এক কর, তাঁর রাজ্যে অবিচার নেই। ঠাকুর বলতেন, “আমি ষোল টাং করেছি, তোরা এক টাং কর।” কত সহজ করে দিয়েছেন। এইটুকু বুঝে ধারণা করে নাও।...আমরা এত কুঁড়ে, এত ফাঁকিদার, নিজেকে ঠকাতে এত মজবুত যে, তৈরি রান্না জিনিস কেবল মুখে তুলে খাওয়া, তাও আমাদের দ্বারা হয়ে উঠছে না। আমাকে অনেকে বলে, আশীর্বাদ করুন, কৃপা করুন। শুনে আমার হাসি পায়। যা করতে বলব তা করবে না, সামনে থেকে সরে গিয়ে নিজের মনের মতো যা ইচ্ছা করে, আর মনে করে নিজে একজন মস্ত সমঝদার। যদি জিজ্ঞাসা করা যায়, যেমনটি বলেছিলুম করবার চেষ্টা করছ তো? হয় বলে, সময় হয় না; না হয় বলে, আমার মতো দুর্বল, পাপীর দ্বারা কি হয়? যদি বিশ্বাসই নেই, কথাও মানবি নে, তাহলে যা ইচ্ছা কর না বাপু। কেবল ফাঁকি মারবার চেষ্টা।
স্বামী ব্রহ্মানন্দের ‘ধর্মপ্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দ’ থেকে

31st     January,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ