বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

জ্ঞান

যথার্থ জ্ঞানের দ্বারা জীবের অবিদ্যারূপ উপাধির বিনাশ হয়, অন্য কোন উপায়ে ইহার নাশ হয় না। ব্রহ্মের সহিত আত্মার একাত্বানুভবই জ্ঞান, শ্রুতি ইহা বলেন। আত্মা কি, অনাত্মাই বা কি, এই বিচার যথাযথ ভাবে করিতে পারিলে আত্মজ্ঞানের উৎপত্তি হয়। অতএব জীব ও ব্রহ্মের স্বরূপ বিচারের দ্বারা নির্ণয় করা কর্তব্য। অত্যন্ত কর্দমাক্ত জল যেমন (ফটকিরি প্রভৃতির সংযোগে) কাদা থিতাইয়া যাওয়ার পর স্বচ্ছ ও নির্মল হইয়া যায়, অবিদ্যা-দোষ দূরীভূত হইলে আত্মাও সেইরূপ স্ব-মহিমায় প্রকাশ পায়। মিথ্যাজ্ঞানের নিবৃত্তি হইলে জীবের অন্তরতম আত্মাই যে নিত্যশুদ্ধ ব্রহ্ম, ইহা প্রত্যক্ষরূপে অনুভূত হয়। এই কারণে সম্যগ্‌রূপে বিচারের দ্বারা আত্মাতে আরোপিত অন্তঃকরণাদি-অনিত্যবস্তুসমূহের নিরাস করা অবশ্য কর্তব্য। 
পূর্বে যেসকল যুক্তি দেওয়া হইয়াছে সেইসকল-অনুসারে বিজ্ঞানময়কোশ চিদাত্মা হইতে পারে না। এই বিজ্ঞান ময়-কোশ বিকারশীল (কাম, সংকল্প প্রভৃতি বিকার ইহাতে উৎপন্ন হয়)। ইহা জড়, দেশকালের দ্বারা সীমাবদ্ধ, দৃশ্যবস্তু এবং ব্যভিচারী (সর্বকালে একরূপ থাকে না—যেমন সুষুপ্তিকালে ইহা প্রকাশ পায় না)। এই প্রকার অনিত্য বস্তু কখনও নিত্য আত্মার সহিত অভিন্ন হইতে পারে না। বাঞ্ছিত বস্তুর লাভে প্রকাশপ্রাপ্ত, প্রিয়-মোদ-প্রমোদরূপে পরিণত, স্থিরীভূত এবং অন্তর্মুখ-তমোবৃত্তি আনন্দ-স্বরূপ আত্মার দ্বারা প্রতিবিম্বিত হইয়া আনন্দময়-কোশরূপে পরিণত হয়। সৌভাগ্যশালী ব্যক্তিগণের পুণ্যকর্মের অনুভবের সময় এই আনন্দময় কোশ স্বতঃ প্রকাশ পায়। দেহধারী জীব-মাত্র বিনা চেষ্টায় এই আনন্দময়-কোশে সুখানুভব করে। সুষুপ্তিকালে আনন্দময়-কোশের বিশেষ প্রকাশ হয়। স্বপ্নদর্শনের সময় বা জাগ্রৎকালে বাঞ্ছিত বস্তুসমূহের দর্শন-শ্রবণাদির ফলে ইহার অল্প প্রকাশ দেখা যায়। 
তমোগুণরূপ উপাধিযুক্ত বলিয়া, প্রকৃতির পরিণাম বলিয়া, পূর্বকৃত পুণ্যকর্মসমূহের ফলে উৎপন্ন বলিয়া এবং অন্নময়াদি বিকারসমূহের মধ্যে বর্তমান বলিয়া এই আনন্দময় কোশও পরমাত্মা হইতে পারে না। যুক্তির দ্বারা এবং শ্রুতিপ্রমাণের সহায়ে অন্নময়াদি পাঁচটি কোশ আত্মা নয় ইহা প্রমাণিত হইলে মিথ্যা বলিয়া প্রমাণিত এই কোশসমূহ যাঁহার আশ্রয়ে প্রকাশিত হয়, সেই স্বয়ংপ্রকাশ চৈতন্যস্বরূপ আত্মা অবশিষ্ট থাকেন। পঞ্চকোশ হইতে ভিন্ন স্বপ্রকাশ এই যে আত্মা, তিনিই অবস্থাত্রয়ের সাক্ষী, তিনি নির্বিকার, নিরঞ্জন এবং আনন্দস্বরূপ। বিদ্বান্‌ ব্য঩ক্তি (শ্রুতি, যুক্তি ও অনুভবসহায়ে) এই শুদ্ধ আত্মাকে স্বীয় আত্মার সহিত অভিন্ন বলিয়া জানিবেন। 
শিষ্য বলিলেন—হে গুরো, পাঁচটি কোশই মিথ্যা বলিয়া প্রমাণিত এবং সেইগুলি আত্মা নয় বলিয়া স্থিরীকৃত হওয়ার ফলে, নিজের মধ্যে এবং স্থূল ও সূক্ষ্ম জগতের মধ্যে সবকিছুর অভাব ব্যতীত অন্য কিছু দেখিতে পাই না। অতএব আত্মবিচারশীল ব্যক্তির পক্ষে নিজের আত্মস্বরূপে সত্যবস্তুরূপে জ্ঞেয় কোন বস্তু আছে কিংবা নাই?
শ্রীগুরু বলিলেন—হে বুদ্ধিমান শিষ্য, তুমি ঠিকই বলিয়াছ। তুমি বিচারে নিপুণ হইয়াছ। সেই অহংপ্রভৃতি বিকারসমূহ, সে সব কিছু জ্ঞানগোচর বিষয়, জাগ্রৎকালে (যখন তাহাদের প্রকাশ দেখা যায় তখন) এবং পরে সুষুপ্তিকালে (যখন তাহাদের অভাব হয়, প্রকাশ থাকে না, তখনও) যাঁহার দ্বারা অনুভূত হয়, অথচ যিনি নিজে অন্য কিছুর অনুভবের বিষয় হন না, সূক্ষ্ম বুদ্ধির সহায়ে তুমি সেই জ্ঞাতা আত্মাকে জ্ঞান। কোন বিষয় যদি কেহ দর্শন করে তবেই বলা যায় যে, সে সেই বিষয়ে সাক্ষী। কিন্তু যে বিষয় যে ব্যক্তি দেখে নাই, সে সেই বিষয়ের সাক্ষী হইতে পারে না। যে হেতু ‘নিজেই নিজের সাক্ষী’ এই ভাব নিজের দ্বারাই অনুভূত হয়, সেই হেতু জীবাত্মাই সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম; জীবাত্মা পরমাত্মা হইতে ভিন্ন আর কিছু নয়।
স্বামী বেদান্তানন্দ অনূদিত ‘বিবেকচূড়ামণি’ থেকে 

7th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ