Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

দাদা, কেমন আছ?
 অমর মিত্র

দাদা, কেমন আছ?
কে বলছ? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
দাদা, আমি অনুপ।
কোন অনুপ?
গলার স্বরে বুঝতে পারছ না, বেলঘরিয়ার অনুপ।
ও, মিত্রা সিনেমার অনুপ? বীরেন চিনতে পারে।
সিনেমা কতদিন আগে ছেড়েছি, তুমি এখন কোথায়?
আমি রূপলেখায়, বইয়ের কাজ।
বইয়ের কাজ ভালো? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
ভালো তো, তুই এখন কোথায়?
অনুপ বলল, হল বন্ধ হওয়ার অনেক আগে বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিলাম।
কাপড়ের কাজ জানিস?
জানতাম, আমি আগে তো বেলঘরিয়ায় ওই কাজই করতাম, বাজার আগুন লেগে পুড়ে গেলে আমাকে মিত্রা সিনেমায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল কাউন্সিলারের ভাই।
হুঁ, আজ কি ছুটি?
পয়লা বৈশাখের চাপ গেল পরশু, কদিন একটু হাল্কা, তুমি?
বীরেন বলল, আমার এখন অফ সিজিন শুরু বলতে পারিস, যা চাপ সব শীতকালে, লাস্ট বইমেলা গেল গড়বেতায়।
অনুপ বলে, আমাদের আবার আরম্ভ হবে, কাপড়ের দোকানে অফ সিজিন নেই বলা যায়, ক’দিন বাদে ঈদের বাজার লাগবে, ঈদ যেতে যেতে পুজোর বাজার।
মিত্রা বন্ধ হওয়ার আগে ছেড়েছিলি? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
হুঁ, বুঝতে পারছিলাম নতুন মালিক হল রাখবে না।
তুই বইয়ের লাইনে আসবি?
বুঝতে পারছি না, এখানে কাজ করাবে কিন্তু বেতন দিতে হাত খোলে না, খাটনি খুব।
বীরেন জিজ্ঞেস করল, চাপের সময় এক্সট্রা পাস?
পয়লা বৈশাখে টাকা দেয় না, শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি, হাজার টাকার ভিতরে যা হয়, শুধু পুজোয় দেয়।
চুপ করে থাকে বীরেন। কী কথা বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। অনুপের সঙ্গে তার কাজ হয়েছিল মিত্রা সিনেমায়। সে কম দিন হল না। অনুপ লাইটম্যান। বীরেন কাউন্টারে। খুব কম মাইনে। তার পোষায়নি। পাড়ার একজনের হাত ধরে ক’দিন বাদেই কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় শ্রীমা পাবলিশার্সে ঢুকল, এখন রূপলেখায়। বইয়ের কাজ খুব কঠিন না, কিন্তু সব কাজেরই একটা ধরণ আছে। খবর রাখতে হয় বেশি। রূপলেখার সব বইয়ের খোঁজ না রাখলে সে মেলায় মেলায় ঘুরবে কী করে? শীতের সময় ঘুরতে হয় জেলায় জেলায়। বইমেলায়। আবার কোন বইয়ের বিষয় কী, তাও জানতে হয়। জানলে খরিদ্দারকে বলা যায়। বইয়ে বীরেনের আগ্রহ অনেক দিনের। লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়াও ছিল তার অভ্যেস। সুতরাং কাজটা বেশ মনে ধরেছে। তবে বেতন কম। ছোট সংসার, চলে যায়। মেয়ের বিয়ে হয়েছে শ্রীমার কর্মচারীর সঙ্গে। তাই তার রূপলেখায় আসা। এক জায়গায় শ্বশুর-জামাই থাকা ঠিক না।
অনুপ বলল, বীরেনদা, বলাইয়ের খবর জানো?
জানি। বীরেন স্তিমিত স্বরে বলল।
কোম্পানি ওকে ছাড়িয়ে দিয়েছে?
ও যায়নি অনেকদিন, কাজ থাকে কী করে? বীরেন বলল।
ওর তো বড় অসুখ। অনুপ বলল।
তুই কি গিয়েছিলি?
ও থাকে না তো বাগমারিতে। বলল অনুপ।
দেশে ফিরে গেছে।
দেশ তো গড়বেতা।
হ্যাঁ, আমার কাছে এসেছিল। বীরেন কথা বানাতে থাকে।
রূপলেখায় ?
না, বীরেন বলল, গড়বেতা বইমেলায়।
ফোন নম্বর আছে?
বীরেন বলল, আমার ডায়েরিতে লেখা আছে, ডায়েরি বাড়িতে। ও কি কাজের জন্য এসেছিল ?
না, তা আসেনি।
বীরেন গড়বেতা গিয়েছিল মেলা করতে। সেখানেই দেখা। কলকাতা ছেড়ে বলাই দেশে ফিরে গেছে। কবরেজি চিকিৎসা করছে। ব্যথা নেই এখন। তবে কঙ্কালসার চেহারা। দেখেই বোঝা যায় যে কোনও দিন মরে যাবে। বীরেন এসব বলল না। বলল, কাজ দেশেই করছে। বীরেন ওর ভাইয়ের সঙ্গে গণগণির ডাঙা দেখতে গিয়েছিল। শিলাবতী নদীর ধারে লাল মাটির ভাঙন দেখে মনে হয়েছিল বড় বিস্ফোরণ হয়ে গেছে ওখানে। বলাইয়ের রোগটার সঙ্গে খুব মিল। বলাইয়ের ভাই কানাই খুব সার্ভিস দিয়েছিল তাকে। কানাই তার খিদমত খেটেছে ক’দিন। যদি একটা কাজ পায়। বইয়ের কাজ। তার দাদা করত ঢালাই কারখানার কাজ। অসুখটা ওখান থেকে এসেছে মনে হয়।
ভালো আছে? জিজ্ঞেস করে অনুপ।
আছে, দেশে ওদের অনেক সম্পত্তি, আমাকে গণগণির ডাঙায় নিয়ে গেল, নেমতন্ন করল।
তাহলে কেন কলকাতায় কাজ করতে এসেছিল?
এমনি, গাঁয়ে কেউ থাকতে চায়, কলকাতায় আসতে চায় সকলে। বীরেন বলল।
অনুপ বলল, আমাদের হাসনাবাদে কিছু নেই, আমার হাসনাবাদ ফিরে যাওয়া হবে না।
বীরেন বলল, একদিন আয়, এখন দুপুরে চাপ নেই, ফোনে এত কথা হয় না।
যাব বীরেনদা, বলছি অসীমের খোঁজ জান ?
অসীম মিদ্দে?
হ্যাঁ, মিদ্দে অসীম।
বীরেন ভাবল বলে, মিদ্দে অসীম বেঁচে নেই। আচমকা বুক চেপে বসে পড়েছিল এই বিধান সরণিতে। সঙ্গে ছিল ঢাউস বইয়ের ব্যাগ। খুব ভার। হার্ট অ্যাটাক। সময় দেয়নি। আড়াই-তিন মাইল দূরে বসেও তা জানে না অনুপ। খবর যায়নি। বীরেন বলল, শুনেছি আরামবাগ চলে গেছে।
দেশের বাড়ি?
আরামবাগে দেশের বাড়ি কি না জানে না বীরেন। মনে হল, তাই বলে দিল। অসীমের হার্ট ভালো ছিল না। ভার নিতে কষ্ট হতো। দম বন্ধ হয়ে আসত। সেই কথা জিজ্ঞেস করল অনুপ, ভালো আছে কি না। হ্যাঁ, ভালো আছে, এক সাধুর দেওয়া শিকড়-বাকড়ে ভালো হয়ে গিয়েছিল। আরামবাগে বইয়ের দোকান করেছে। স্কুল বই ছাড়া, গল্পের বইও রাখে। নিজেই বই ছাপবে বলছে। প্রকাশক হয়ে যাবে। শুনে অনুপ বলল, ও পারবে ঠিক, কলকাতায় আসে?
আসে, এলেই রূপলেখায় আসে।
ফোন নম্বর আছে? অনুপ জিজ্ঞেস করল।
বীরেন সেই একই কথা বলল। নম্বর ডায়েরিতে। ডায়েরি বাড়িতে। অনুপ চুপ করে থাকে। বীরেন বলল, রাখি, আমার বইয়ের অর্ডার সাপ্লাই করতে যেতে হবে।

অনুপের মনে হয় চাকরিটা ছেড়ে দেয়। বরিশাল ক্লথ স্টোরে ঢুকেছিল। তা এখন হয়ে গেছে জয়পুর ক্লথ স্টোর। হাত বদল হয়ে মালিক এখন গগন শর্মা। শর্মা বলেছে, অনুপের না পোষালে ছেড়ে দিতে পারে। তার কোনও ছুটি নেই। সাতদিন আসতে হবে। তবে সানডে বেলা তিনটে থেকে। সপ্তাহে এক বেলা করে ছুটি। শর্মা তুই-তোকারি করে। খুব চাপে রাখে। টার্গেট দিয়ে দেয়। ফুলফিল করতেই হবে। না পারলে ছেড়ে দে। একজনের কাজ গেছে এর ভিতরে। অনুপ পরের দিন রূপলেখায় ফোন করতে বীরেন বলল, ব্যস্ত আছি, পরে করিস।
তুমি রোববার ফ্রি আছ ?
রোববার চন্দননগর যাব।
অনুপ বলল, আমার জন্য একটা কাজ দেখো বীরেনদা।
বীরেন বলল, তুই কি আরামবাগ যেতে পারবি?
সে তো অনেক দূর, আমি থাকি গড়িয়া। অনুপ বলল।
তাহলে হয়তো একটা ব্যবস্থা হতো।
তোমার রূপলেখায় হবে না ?
বীরেন বলল, আমি চেষ্টা করছি নিজের ব্যবসা করতে, আয় এক সঙ্গে ব্যবসা করি।
ব্যবসা করব, কীসের ব্যবসা? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
বইয়ের, তুই আয়, প্ল্যান করি।
দুদিন বাদে এল অনুপ। সত্যিই এল। বলল, গগন শর্মা তার চাকরি খেয়ে নেবে এবার। বলছে রোববার সকালে সোদপুরে ডিউটি দিতে। সেখানেও ক্লথ স্টোর আছে। সকালে খোলা, বিকেলে বন্ধ। শ্যামবাজারে বিকেলে খোলা সকালে বন্ধ। সম্ভব না। খাটিয়ে মেরে দেবে। অনুপের চোখমুখ বসে গেছে। বীরেনের রূপলেখায় এখন কদিন ঝিমুনি চলছে। মালিক দোকানেই থাকে। মালিক তারই মতো কর্মচারী ছিল। বই নিয়ে অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, কানপুর ঘুরে বেড়াত। বই বেচেই ফিরত। ঘুরতে ঘুরতে বইয়ের বাজার বুঝে গিয়েছিল। তারপর নিজেই রূপলেখা গড়ে তুলে বই ছাপছে। বীরেন বলল, সে ওই রকম কিছু করতে চায়।
হবে বলছ ?
হবে। বলল বীরেন, আমি বই লিখব।
তুমি লিখবে, লেখা বললেই কি লেখা যায়?
বীরেন বলল, সে বহুদিন ধরে লেখে। তার পাণ্ডুলিপি তৈরি। রূপলেখা ছাপতে চায়। সে রাজি নয়। নিজেই বের করতে চায়। লাভ নিজের কাছেই রাখতে চায়। অনুপ চুপ করে থাকে। বুঝতে পারে না কী বলবে? বীরেন কুণ্ডুর লেখা কেন লোকে পড়বে? বড় লেখকের লেখা ছাপলে তবে হতে পারে। তার মনের কথা যেন পড়ে নিয়েছে বীরেন, বলল, বই বেচার দায়িত্ব তার। সে জানে কীভাবে বেচতে হয় বই। দরকারে সে রবীন্দ্রনাথের নামে ছেপে দেবে তার লেখা।
বইয়ের নাম হবে যোগাযোগ। রবি ঠাকুরেরও যোগাযোগ আছে। তারপর টাকা উঠে গেলে সেই বই নিজের নামে। এমন হয় নাকি? হয়, একজনের লেখা শ্রীমা পাবলিশার্স ছেপেছিল, কুড়িটা গল্প। তার ভিতরে একটি বাদে সব গল্পই অন্য লেখকের। নাম বদল করে নিজের নামে ছেপেছিল লেখক। ধরা পড়ার আগে হাজার বই বিক্রি করে দিয়েছিল। এমন তো হয়। অনুপ বলল, বড় লেখকের বই ছাপলে কী হয়?
ছাপাই যায়। বীরেন বলল, কিন্তু নিজেদের বই ছাপাই ভালো, সবটাই আমাদের, বড় লেখকের বই পেতে টাকা খরচ করতে হবে, রয়্যালটি দিতে হবে।
অনুপ কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না। সে বইয়ের কাজ জানে না। কাপড়ের কাজ, ভাঁজ খোলা আর বন্ধ করা খুব ভালো পারে। আর গুণমান বিচার করতে পারে। সে বলল, বই না, আমরা কাপড়ের ব্যবসা করতে পারি, ফুলিয়া, ধনেখালি থেকে কাপড় কিনে...
তাকে থামিয়ে দেয় বীরেন, বলল, বেচবি কীভাবে, ফেরি করে বেড়াবি, তুই কর গে যা।
অনুপ চলে গেল। অনুপ কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। বীরেন চায় হাজার পনেরো। ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে। একসঙ্গে পাঁচখানি বই ধরবে। অনুপের বউ বলল, তোমার টাকায় নিজের বই ছেপে নেবে বীরেনদা, তুমি যেখানে করছ, কর।
একবেলাও ছুটি নেই। অনুপ ক্ষুব্ধ হয়ে বলল।
অনুপের বউ তন্দ্রা বলল, ছুটি কারও নেই, ব্যবসা করলে আরও নেই, শনি রবি সোম মঙ্গল সব এক।
তখন অনুপ বলল, তার ছুটি ভালো লাগে। ছুটির দিনে ঘুমতে ভালো লাগে। ছুটির দিনে গঙ্গার ধারে বেড়াতে যেতে ভালো লাগে। সে বলল, আমি পারব না, আমার ছুটি চাই।
কেন?
আমার ছুটির দিনে শুয়ে পা দোলাতে ভালো লাগে, গগন শর্মার চাকরি যায় যাক।
তন্দ্রা একটা কাজ করে। প্রাইমারি ইস্কুলের ডি-গ্রুপ কর্মচারী। বেতন পায় তার চেয়ে বেশি। আর তন্দ্রার ছুটি আছে। অনুপ পরের দিন আবার বীরেনকে ফোন করল। বীরেন বলল, তার বই সে প্রেসে পাঠাবে, অনুপ জিজ্ঞেস করল, তুমি কখন লেখ বীরেনদা ?
কেন রাত জেগে, লেখকরা তেমনিই লেখে।
সারারাত?
রাত দুটো-আড়াইটে। বীরেন কথা বানাতে ওস্তাদ।
তখন সব মনে আসে? অনুপ জিজ্ঞেস করে।
কী মনে আসবে?
যে গল্প লেখ? অনুপ বলল।
হ্যাঁ, সকলে আমার চেনা লোক তো। বীরেন বলল।
আমি যদি রাত জাগি?
কী করবি রাত জেগে? বীরেন জিজ্ঞেস করে।
অনুপ বলল, লিখব।
তুই কি লেখক যে লিখবি? বিরক্তির সঙ্গে বলল বীরেন।
তুমি যে লেখ তাও তো জানতাম না।
বীরেন বলল, তখন আমি লিখতাম গোপনে।
অনুপ বলল, আমিও লিখতাম গোপনে, অসীমও লিখত গোপনে, অসীমের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে বীরেনদা, অসীম বলেছে আমার বই ছাপবে, থিম শুনেছে, ঐতিহাসিক...
বীরেন চুপ করে গেল। বুক ধক ধক করতে লাগল। অনুপ কি তাহলে সত্যিই পারবে নিজের কথা আর স্বপ্নের একটা আকাশ এঁকে দিতে? বীরেন বলল, অসীমকে নিয়ে আমার কাছে আসিস, মনে থাকবে তো?
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
09th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: জোড়াবাগান থানার বিপরীতে নিমতলার বিখ্যাত মিত্র বাড়ির এই দুপুরের সময়টা বউদের বড়ই ব্যস্ততার মধ্যে কাটে। এই বাড়ির প্রখ্যাত, রাশভারী শ্বশুরমশাই পুজো সেরে এখনই খেতে বসবেন।   বিশদ

07th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
অমরকণ্টক  পর্ব-১৮

ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: বিন্ধ্যপর্বতের যে অংশটির নাম মেকল বা মৈকল, তীর্থভূমি নর্মদার সেই স্থানই অমরকণ্টক। শুধু তীর্থভূমি নয়, অমরকণ্টক হল সৌন্দর্যের খনি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।  বিশদ

07th  July, 2019
শাল-পিয়ালের চুপকথা 

সুপর্ণা সেনগুপ্ত: পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাগমুণ্ডি। আকাশ যেখানে গল্প করে মেঘের সঙ্গে। ঘন জঙ্গল, পাহাড় আর ঝর্ণা ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম, আঁকা থাকে নীল আকাশের ক্যানভাসে। বর্ষায় সেখানে নদীর জল ছাপিয়ে যায়।   বিশদ

07th  July, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয় 

ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: মধ্যপ্রদেশের গুণা জেলায় সুন্দরী চান্দেরিতে এক বনময় পর্বতের গুহায় দেবী জাগেশ্বরীর অধিষ্ঠান। ইনি শুধু দেবী নন, মহাদেবী। মাত্র ২০০ মিটার উঁচু এই দুর্গ শহরের আকর্ষণ ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দেবী মহিমা ও লোভনীয় চান্দেরি শাড়ির জন্য।  বিশদ

30th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: ঋষি এবং তাঁর স্ত্রী খুব ভালো মিডিয়াম— এই কথাটা শুনে শরৎচন্দ্র হাসতে হাসতে ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, তুমি কী করে জানলে তাঁরা খুব ভালো মিডিয়াম?
গিরীন্দ্রনাথ বললেন, আমি এবং আমার বন্ধু রায়সাহেব হরিসাধন মুখোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে প্ল্যানচেটে বসেছিলাম। বিশদ

30th  June, 2019
মোম জোছনা 

সঞ্জয় রায়: ‘হেই, হ্যাট্‌-হ্যাট্‌-হ্যাট্‌, যাঃ যাঃ-যাঃ। উঃ, দ্যাকো দিকিনি উঠোনটা খালি খালি নোংরা করে। অ্যাই, যাঃ-যাঃ-যাঃ।’ কুসুম সক্কালবেলায় হাঁসের দলটাকে উঠোন থেকে তাড়াচ্ছিল। দীননাথ দাওয়ায় বসে কুসুমের ছলকে পড়া যৌবনটাকে জরিপ করছিল।  বিশদ

30th  June, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
সিদ্ধপীঠ জলপা, পর্ব-১৬
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 মৈহরপীঠ দর্শনের পর সে রাতটা মৈহরেই কাটালাম। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কাটনিতে। মধ্য রেলওয়ের কাটনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন। এ যাত্রায় আমি ঘরমুখো হব বলেই কাটনিতে এলাম। কেন না এখানে ট্রেন একটু বেশিক্ষণ দাঁড়ায় তাই।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
১৬
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 গিরীন্দ্রনাথ সরকার। সাহিত্যিক হিসেবে তেমন খ্যাতি অর্জন করতে না পারলেও, তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভূপর্যটক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই তাঁর ঘোরা ছিল। বহুকাল তিনি সরকারি কন্ট্রাক্টর হিসেবে ব্রহ্মদেশে কাজ করেছিলেন। আর এইসময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।
বিশদ

23rd  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১৫
নিস্তব্ধ নির্জন ঘর, দেবতা বিশ্রাম করছেন খাটে। ঘরের এককোণে চুপ করে বসে আছেন মতিলাল। প্রদীপটা তখনও মিটমিট করে জ্বলছে। সময় যেন আর কাটতেই চাইছে না। মাঝে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন মতো হয়ে পড়েছিলেন মতিলাল। সেই রেশ কাটাতে তিনি ঘরের ভেতর পায়চারি করতে শুরু করলেন।  
বিশদ

16th  June, 2019
পুন্য ভূমির পুন্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

মৈহর পীঠ, পর্ব-১৫
মৈহর হল মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা তহশিলের এক প্রসিদ্ধ দেবীস্থান। একান্ন পীঠের অন্তর্গত পীঠ না হলেও উপপীঠ। এখানে সতীর দেহাংশ নয় কণ্ঠহার পড়েছিল। এই পুণ্যভূমিতেই ত্রিকূট পর্বতের চূড়ায়। সতীমাঈ কি হার। তাই থেকেই মাঈহার, মৈহার ও বর্তমানে মৈহর।  
বিশদ

16th  June, 2019
প্রাণেশদার শান্তিনিকেতন
আশিস ঘোষ 

স্টাফরুমে বসেছিলাম। ঘরের টিউব লাইট খারাপ থাকায় আবছা অন্ধকার। একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। একটু যেন শীত শীত ভাব। অশোক কথা বলছিল। আমাদের কয়েকজনের অফ পিরিয়ড। কোনও তাড়া নেই। আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। এমন সময় খবর এল, প্রাণেশবাবু আর নেই। 
বিশদ

16th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

১৪

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। ভাগ্যদেবী কোনওদিনই এই মানুষটির প্রতি বিন্দুমাত্র সদয় ছিলেন না। চিরকালই তিনি তাঁর কৃপা-করুণা লাভে বঞ্চিত থেকেছেন। ফলস্বরূপ তাঁর পরিবার পরিজনকে যথেষ্ট সঙ্কটের মধ্যেই দিন কাটাতে হতো।  
বিশদ

09th  June, 2019
পুন্য ভূমির পুন্য ধুলোয়
দেবী ত্রিপুরমালিনী
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

পর্ব-১৪

এবার বলি দেবী ত্রিপুরমালিনীর কথা। পীঠ নির্ণয় তন্ত্রে আছে ‘ভীষণা ভৈরবস্তত্র দেবী ত্রিপুরমালিনী’। পাঞ্জাব প্রদেশে এই সতীপীঠ জলন্ধর পীঠ নামে খ্যাত। কিন্তু এই পীঠ সম্বন্ধে নানারকম বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়ার কারণে এর সঠিক অবস্থান কিছুতেই নির্ণয় করতে পারিনি।  বিশদ

09th  June, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই 
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

১৪

কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। ভাগ্যদেবী কোনওদিনই এই মানুষটির প্রতি বিন্দুমাত্র সদয় ছিলেন না। চিরকালই তিনি তাঁর কৃপা-করুণা লাভে বঞ্চিত থেকেছেন। ফলস্বরূপ তাঁর পরিবার পরিজনকে যথেষ্ট সঙ্কটের মধ্যেই দিন কাটাতে হতো।
বিশদ

02nd  June, 2019
একনজরে
 করাচি, ১০ জুলাই (পিটিআই): অর্থ নিয়ে বচসার জেরে পাকিস্তানে খুন হলেন একজন টিভি সঞ্চালক। মঙ্গলবার রাতে খায়াবন-ই-বুখারি এলাকায় বোল নিউজ চ্যানেলের টিভি সঞ্চালক মুরিদ আব্বাস ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডোমিসাইল বিতর্কের জল এবার গড়াতে চলেছে আদালতে। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছে নিট পাশ ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের একাংশ। শুক্রবার এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। ...

  সংবাদদাতা, খড়্গপুর: নারায়ণগড়ের কুশবসান পঞ্চায়েতের গেনুয়া রেড়িপুর গ্রামে বুধবার তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাত্রের বাড়ির দাবিমতো বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় বিয়ের সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম আতিফা খাতুন (১৬)। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আবেগের বশে কোনও কাজ না করাই ভালো। দাম্পত্য জীবনে বনিবনার অভাবে সংসারে অশান্তি বাড়বে। কর্মে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
১৮২৩ সালের এই দিনে ভারতের তৈরি প্রথম জাহাজ ডায়না কলকাতা বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
১৮৮৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়।
১৯২১: মঙ্গোলিয়ায় গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করল লাল ফৌজ
১৯৩০ সালের এই দিনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডন ব্রাডম্যান এক দিনে ৩০৯ রান করার রেকর্ড করেন, পরে টেস্ট ম্যাচে তা ৩৩৪ রানের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল।
১৯৫৬: সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষের জন্ম
১৯৬২: প্রথম ট্রান্সআতলান্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হল
১৯৬৭: সাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ির জন্ম
১৯৭২: বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম খেলা ববি ফিশার ও বরিস স্পাসকির মধ্যে শুরু হল
১৯৭৯: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহাকাশ স্টেশন স্কাইল্যাব পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। সেটিকে ভারত মহাসাগরে ফেলে ধ্বংস করা হয়।
২০০৬: মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২০৯জনের মৃত্যু
২০১২: আবিষ্কার হল প্লুটোর পঞ্চম উপগ্রহ এস/২০১২ পি ১





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৮৩ টাকা ৬৯.৫২ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৯৪ টাকা ৮৭.০৭ টাকা
ইউরো ৭৫.৪৬ টাকা ৭৮.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৪,৭৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩২,৯৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৪৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৬ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দশমী ৫০/০ রাত্রি ১/৩। স্বাতী ২৭/১১ দিবা ৩/৫৫। সূ উ ৫/২/৪৯, অ ৬/২১/১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৪১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১২ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ২/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪২ গতে ১/২ মধ্যে।
২৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, নবমী ০/১৫/১৭ প্রাতঃ ৫/৮/৪৭ পরে দশমী ৫৬/১২/২১ রাত্রি ৩/৩১/৪০। স্বাতীনক্ষত্র ৩৫/৩৮/১৯ রাত্রি ৭/১৮/৪, সূ উ ৫/২/৪৪, অ ৬/২৩/১০, অমৃতযোগ দিবা ৩/৪২ গতে ৬/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ২/১২ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪৩/৬ গতে ৬/২৩/১০ মধ্যে, কালবেলা ৩/৩/৩ গতে ৪/৪৩/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪২/৫৭ গতে ১/২/৫৪ মধ্যে।
৭ জেল্কদ
এই মুহূর্তে
 বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

09:49:59 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ২১০/২ (৩০ ওভার)

09:41:16 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ১৪৭/২ (২০ ওভার)

08:55:51 PM

বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ৫০/০ (১০ ওভার)

08:00:01 PM

 মুচিপাড়া ডাকাতি: একজন কনস্টেবল পলাতক

06:46:00 PM

 বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ডকে ২২৪ রানের টার্গেট দিল অস্ট্রেলিয়া

06:44:41 PM