বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

শীতবস্ত্র পৌঁছয়নি, মঞ্চে
বসে পড়লেন ক্ষুব্ধ মমতা
গাফিলতির জন্য জেলা প্রশাসনকে তুলোধোনা

বিশ্বজিৎ মাইতি, সামসেরনগর: জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ—সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অংশের বাসিন্দাদের জীবনজীবিকার নিত্য সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। বিপদসঙ্কুল জল আর জঙ্গলে তাহলে রক্ষা করবেন কে? উত্তর একটাই, বনবিবি! এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সুন্দরবনের মানুষের আরাধ্যা সেই দেবীর মন্দিরে পুজো দেওয়ার মনস্থির করেন। শুধু পুজো নয়, জনসাধারণের কাছে একগুচ্ছ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াও ছিল লক্ষ্য। সেইমতো মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের সামসেরনগরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য সোয়েটার, কম্বল আর চাদরের মতো শীতবস্ত্রের সম্ভার। সরকারি পরিষেবা প্রদানের মঞ্চ থেকে সেসব বিলিবণ্টন করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাধ সাধল প্রশাসনিক গাফিলতি। সঠিক সময়ে এসেই পৌঁছল না শীতবস্ত্র। মঞ্চে পৌঁছে তা দেখে নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক থেকে শুরু করে হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও, কেউই নিস্তার পাননি তাঁর তোপের মুখে। শুধু ক্ষোভ উগরে দিয়ে ক্ষান্ত হননি। যতক্ষণ না পর্যন্ত শীতবস্ত্র আসছে, মঞ্চেই বসে থাকবেন—এ ঘোষণাও করেন মমতা। বক্তৃতা থামিয়ে প্রায় ১৯ মিনিট ঠায় বসেছিলেন মঞ্চে। পরে কিছু শীতবস্ত্র এনে প্রশাসনের তরফে তাঁর ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এই মঞ্চেই আগামী কাল শীতবস্ত্র বিলি করা হবে। যা নিয়ে এসেছেন, তার চেয়ে বেশি লাগলে আবার পাঠানো হবে। তুমুল করতালিতে ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানান দ্বীপবাসী।
এদিন সামসেরনগর পৌঁছে প্রথমে বনবিবির মন্দিরে পুজো দেন মমতা। তারপর যান সরকারি মঞ্চে। সেখানে অন্যান্য পরিষেবা প্রদানের কাজ শুরু করার মাঝেই তিনি জানতে পারেন, শীতবস্ত্র এসে পৌঁছয়নি। তা রয়ে গিয়েছে নদীর ওপারে বিডিও অফিসে। দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ হাজার শীতবস্ত্র কিনে এনেছি। তার মধ্যে পাঁচ হাজার পিস সোয়েটার, পাঁচ হাজার কম্বল, পাঁচ হাজার পিস চাদর। নিজের হাতে দেব ঠিক করেছি। কিন্তু সেসব কোথায়? কাকে দিয়েছেন? কোথায় রেখেছেন?’ জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদী উত্তর দেন, ‘ম্যাডাম, বিডিও অফিসে রয়েছে।’ এবার ধমকের সুর মমতার গলায়—‘কেন বিডিও অফিসে থাকবে? বিডিওকে আনতে বলুন। পুলিস বা সরকারের কেউ অন্যায় করলে, দোষ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়ে। গালাগালি খাই আমি। অথচ আমি এসবের কিছুই জানিনা। এখানে এসে দেখছি সব ভোঁ ভাঁ। বিডিও অফিসে রাখার জন্য তো সেসব পাঠাইনি!’
এখানেই থামেননি প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর গলায় শোনা যায় আরও কড়া সুর—‘যদি বিডিও এবং আইসিরা ঠিকমতো কাজ না করেন, ডিএমরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করেন, আমি দুঃখিত হয়ে বলছি, আমাকে অ্যাকশন নিতেই হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত শীতবস্ত্র আসছে, আপনারা বসুন, আমিও বসলাম।’ সভাস্থল জুড়ে তখন শুধুই মুখ্যমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনি। বক্তৃতা থামিয়ে মঞ্চে চেয়ারে বসে পড়েন মমতা। থমথমে মুখে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে প্রশাসনের তরফে কিছু শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়। কয়েকজন কচিকাঁচার হাতে তা তুলে দিয়ে ফের বক্তব্য রাখতে শুরু করেন মমতা। 

30th     November,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ