বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

ক্যান্সারমুক্ত করতে অভিনব পন্থা, আর জি করে হাঁটু থেকে ফিমার বোন বের করে রেডিওথেরাপি!

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: মঙ্গলবার, একই দিনে শহরের দুই সরকারি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের দক্ষতায় হাঁটু বাঁচল দুই রোগীর। দু’জনের ক্ষেত্রে হাঁটুতে মারাত্মক টিউমার হয়েছিল। তাঁদের একজন শুভজিৎ আড়ি। তিনি জগাছার বাসিন্দা। তাঁর ডান হাঁটুতে ছিল একটি মারাত্মক টিউমার। পিভিএনএস নামে এই বিরল টিউমারটি ক্যান্সারাস না-হলেও এটির বৈশিষ্ট্যই হল, যেখানে হবে, সেখানকার হাড়, কোষ, শিরা, মাংসপেশি, লিগামেন্ট প্রভৃতি নষ্ট করে দেবে। ডান হাঁটুজুড়ে অক্টোপাসের মতো ছড়িয়ে থাকা টিউমারটি বাদ দিয়ে রোগীকে অনেকটাই সুস্থ করে তুলেছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা। এখানকার অর্থোপেডিক বিভাগের শিক্ষক চিকিৎসক ডাঃ সৈকত সাউ বলেন, শুভজিৎবাবুর ক্ষেত্রে সময়ে অস্ত্রোপচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেটাই করা হয়েছে। তারপর হাঁটিয়েও দেখা হয়েছে তাঁকে। 
দ্বিতীয় রোগীর নাম মুলাতেব হোসেন। আর জি কর-এর ওই রোগীর ডান পায়ের ফিমার বোনে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছিল। এক্ষেত্রে ইসিআরটি বা এক্সট্রা করপোরিয়াল রেডিয়েশন অ্যান্ড রি ইমপ্ল্যান্টেশন পদ্ধতির আশ্রয় নেয় এখানকার অর্থোপেডিক বিভাগ। ওয়াকিবহল মহলের খবর, রাজ্যের সরকারি ক্ষেত্রে লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটার (লাইন্যাক) মেশিন ব্যবহার করে এই প্রথম ইসিআরটি হয়েছে।  মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ শুরু হয় অপারেশন। চলে বিকেল সাড়ে ৫টা-৬টা পর্যন্ত। অর্থোপেডিক, রেডিওথেরাপি এবং অ্যানাসথেসিওলজি—তিন বিভাগের চিকিৎসকদের টিম যৌথভাবে প্রায় এক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করে তোলেন। এক্ষেত্রে ক্যান্সার আক্রান্ত মুলাতেবের ডান হাঁটুর ফিমার বোন শরীর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চটজলদি পাঠানো হয় সেখানকার রেডিওথেরাপি বিভাগে। চিকিৎসকরা প্রস্তুত ছিলেন। সেখানে টানা আধ ঘণ্টা ধরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয় রোগীর ফিমার বোনে। হাড়টিকে ক্যান্সারমুক্ত করে ফের ফেরত আনা হয় অর্থোপেডিক বিভাগে। তারপর জুড়ে দেওয়া হয় শরীরের যথাস্থানে। 
২০২১ সালে রাজ্যের সরকারি ক্ষেত্রগুলির মধ্যে পিজি হাসপাতালে ডাঃ আনন্দকিশোর পালরাও এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার আক্রান্ত পায়ের হাড় ক্যান্সারমুক্ত করে ফের শরীরে জুড়ে দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর ব্যবহার করা হয়নি।
আর জি কর-এ এই অপারেশনটি করে ডাঃ আনন্দকুমার গর্গের নেতৃত্বাধীন টিম। সেদিক থেকে বলতে গেলে রাজ্যের সরকারি ক্ষেত্রে এই নিয়ে প্রথমবার এই ধরনের অপারেশন হল। অস্ত্রোপচারকারী টিমের সদস্য ডাঃ অতনু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পুরোদস্তুর চিকিৎসকজীবনের সূচনালগ্নে এত বড় একটি অস্ত্রোপচারের টিমে থাকতে পেরে গর্বিত লাগছে। 
কী বলছেন রোগীর বাড়ির লোকজন? ১৮ বছরের মুলাতেবের ভগ্নিপতি রেজাউল হক বলেন, কী বলে যে ধন্যবাদ দেব চিকিৎসকদের! অসম্ভব ভালো ব্যবহার। রোজ বলেছেন, ‘রোগীর যেকোনও সমস্যায় আমাদের ফোন করুন।’ ভাবতেই পারছি না, এত বড় অপারেশন করা যে সম্ভব! আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। পা নড়াচড়াও শুরু করেছেন রোগী। 
লাইন্যাক মেশিনে ফিমার বোনের রেডিওথেরাপি। -নিজস্ব চিত্র

14th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ