বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 


 

বর্ষবরণের প্রস্তুতি। শনিবার উত্তর কলকাতায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

এনআরএসে সফল অস্ত্রোপচার, পায়ুদ্বার তৈরি হল ৮ বছরের তোতার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জন্মের পর দেখা গেল শিশুটির পায়ুদ্বারই নেই। ফলে পেট কাটা হল। সেখানে ব্যান্ডেজ বাঁধা থাকে। মা মাঝেমধ্যে ব্যান্ডেজ খুলে মল বের করে দেন। বাচ্চাটি একটু বড় হওয়ার পর জানা যায় একমাত্র এই অসুস্থতা শুধু নয়, তার হৃদযন্ত্রটিও খারাপ। এই দুই রোগকে সঙ্গী করে বড় হ঩তে থাকে সে। দেখতে দেখতে আট বছর হয়ে গেল। জটিল অসুস্থতার কারণে বাচ্চাটিকে স্কুলে পর্যন্ত ভর্তি করেননি অভিভাবকরা। চার বছর আগে বাচ্চাটির হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়। এখন পায়ুদ্বার তৈরির অপারেশনও হল। ফলে বাচ্চাটির তো বটেই তার বাবা-মার মুখেও হাসি ফুটেছে।
শিশুটির বাবা-মা ভালোবেসে তোতা বলে ডাকেন। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে অস্ত্রোপচারের হয়েছে তার। একটি মলদ্বার তৈরি করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এখনও বছরখানেক লাগবে। আর একটি ছোট অপারেশনের পর স্বাভাবিক জীবনের মুখ দেখতে পাবে সে।
নবদ্বীপে একচিলতে বাড়িতে থাকেন তোতার বাবা-মা। বাবা পেশায় তাঁতি। জন্মের পর থেকে পায়ুদ্বারের ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না বাচ্চাটি। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় হাসপাতালে নিয়মিত আসেন দম্পতি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আগে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা হবে তারপর পায়ুদ্বারের অপারেশন। তা না করলে অপারেশন টেবিলেই প্রাণ যেতে পারে শিশুটির। তারপর জীবনের সব সঞ্চয় ঢেলে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে হৃদযন্ত্রের অপারেশন করান শিশুর বাবা। সে বেঁচে ফেরে। ধাতস্থ হতে সময় লাগে চারবছর। এবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনআরএসে ভর্তি হয় সে। ২০ ফেব্রুয়ারি পায়ুদ্বার তৈরির অপারেশন হয়। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা একরত্তি শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার চলে। নিম্নাঙ্গের বেশ খানিকটা অংশ কেটে পাকস্থলি থেকে নলের মাধ্যমে মল বেরনোর পথ তৈরি করেন চিকিৎসকরা। ২২টি সেলাই পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মলদ্বার তৈরি হলেও এখনও সেখান দিয়ে মলত্যাগ করতে পারবে না বাবা-মায়ের তোতা। তার জন্য আরও একটি অপারেশন করতে হবে। ডাঃ দীপক ঘোষ ও ডাঃ দেবলীনা সরকার রোগীর পরিবারকে জানিয়েছেন, বছরখানেক বাদে আবার অপারেশন হবে। তা সফল হলে রোগমুক্তি তোতার। বাবা বলেন, ‘আটবছর বয়স হলে গেলতাও মেয়েকে আমরা স্কুলে পাঠাতে পারি না। ওর পেট কাটা। মলত্যাগের সময় স্ত্রী ব্যান্ডেজ সরিয়ে থলি পরিষ্কার করে। স্কুলে যেটা সম্ভব নয়। এছাড়া কোথাও পড়ে গেলে ওকে আর বাঁচানো যাবে না’। মা বলেন, ‘মেয়েটা সুস্থ হয়ে যাক। আর কিচ্ছু চাই না আমি’। আট বছরের শিশুর কথায়, ‘আমার কিছু হবে না। আমি ঠিক হয়ে গিয়ে পড়াশোনা করব’। মেয়ের চিকিৎসার খরচ কম নয়। কালঘাম ছুটে যাচ্ছে এই তাঁতি পরিবারের। গৃহকর্তা জানালেন, আর্থিক অনটন ক্রমশ গ্রাস করছে সংসার।

5th     March,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ