বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 


 

বর্ষবরণের প্রস্তুতি। শনিবার উত্তর কলকাতায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে পুড়িয়ে খুন, শিশুকন্যার সাক্ষ্যে বাবার যাবজ্জীবন

সুকান্ত বসু, কলকাতা : চোখের সামনে বাবা কেরোসিন ঢেলে মাকে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ছিল। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদে মা’কে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখে ছিল চার বছরের শিশু কন্যা। সাক্ষী দিতে এসে কাঠগড়ায় নাগাল পাচ্ছিল না একরত্তি। টুলে দাঁড়িয়ে সেই ছোট্ট মেয়েটি অভিযুক্ত বাবাকে শনাক্তপর্বে চিৎকার করে উঠেছিল—‘এই লোকটাই আমার মা’কে জ্বালিয়ে দিয়েছিল।’ এতটাই রেগে ছিল যে মাতৃহন্তা বাবা’র মুখের দিকে তাকাতে চায়নি সেদিন। মাতৃহারা ছোট্ট শিশুর সেই  সাক্ষ্যেই অবশেষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন দোষী সাব্যস্ত বাবা শম্ভু চৌধুরী। সোমবার আলিপুরের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রাজেশ তামাং ওই রায় দিয়েছেন। এই সাজার সঙ্গেই কুড়ি হাজার টাকার জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের হাজতবাসের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। রায় শুনে এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শম্ভু। বলেন, ‘কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল, তা ভাবতে পারছি না। আমাকে কম সাজা দেওয়া হোক!’ বিচারক সরকার পক্ষের বক্তব্য জানতে চান। এরপরই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মশিয়ার রহমান সুজা বলেন, ‘যেভাবে ওই বধূকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তাতে এই অপরাধীকে আদালত কঠোরতম সাজা দিক।’ তিনি বলেন,‘ এই মামলার ওই দম্পতির চার বছরের কন্যার সাক্ষ্যেও মামলায় গতি এসেছিল। সে ছিল এই মামলার অন্যতম সাক্ষী।‘ এরপরই বিচারক অপরাধীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের আনা অভিযোগ সব দিক থেকে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আপনার মেয়ে সহ সমস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত আপনাকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে কলকাতার হরিদেবপুর থানা এলাকায় ওই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নানা বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যেই স্বামী‑স্ত্রীর মধ্যে বাক‑বিতন্ডা চলত। ওইদিন দুপুরে পরিস্থিতি চরম আকার নেয়। তখন বিছানায় বসে পুতুল নিয়ে খেলা করছিল চার বছরের ওই বালিকা। আচমকা উত্তেজিত হয়ে শম্ভু তাঁর স্ত্রী অঞ্জনার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন ওই গৃহবধূ। ধোঁয়ায় ঘর ভরে যাওয়ায় কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসে ছোট্ট ওই বালিকা। প্রতিবেশীরা গিয়ে কোনওক্রমে আগুন নিভিয়ে অগ্নিদগ্ধ বধূকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তারই মধ্যে সুযোগ বুঝে চম্পট দেয় অভিযুক্ত স্বামী। পরে ওই বধূ মারা যান। পুলিস খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অন্যতম সাক্ষী করা হয় মৃত বধূর চার বছরের মেয়েকে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেল হেফাজতে রেখেই চলে ধৃতের বিচার।                                                                                                               

5th     March,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ