বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বারাসতের নবপল্লীতে শিবমন্দিরে পুজো। -নিজস্ব চিত্র

‘বেলেল্লাপনা বন্ধ করো’, উপদেশ শুনে মদ্যপ অবস্থায় মাকে বেদম মার সঙ্গতির

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাতভর মদের আসর। উইক-এন্ডে ট্যুর। বিলাস-বৈভবে ভরপুর জীবন। সেই সঙ্গে সারাক্ষণ ফোনে কারও না কারও সঙ্গে যোগাযোগ। এমন বেপরোয়া ও বেহিসেবি ‘লাইফস্টাইল’ মেনে নিতে পারছিলেন না লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনে ধৃত সঙ্গতি পালের মা। ‘বেলেল্লাপনা’ বন্ধ করে মেয়েকে সংসারি হওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণে মদ্যপ অবস্থায় মাকে মারধর করেছিলেন সঙ্গতি। চরম হতাশা ও রাগ থেকে থানায় দৌড়ে গিয়েছিলেন প্রৌঢ়া। সঙ্গতির নামে জেনারেল ডায়েরি করে পুলিসকে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি মা-মেয়ের নিছক ঝামেলা ভেবে পুলিস খুব একটা আমল দেয়নি। হাতিবাগানের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মী তথা ফটোগ্রাফার সার্থক দাস খুনের তদন্তে নেমে চার মাস আগের সেই ডায়েরি হাতে পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত পুলিস। 
অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ দমদমের মধুগড়ে সঙ্গতির হাতে খুন হন সার্থক। চারতলার ফ্ল্যাট থেকে তিন তলার সিঁড়ি পর্যন্ত চাপ চাপ রক্ত দেখে ঘটনার বীভৎসতা নিয়ে নিঃসংশয় ছিলেন নাগেরবাজার থানার তদন্তকারীরা। পুলিসকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা বা রক্তমাখা পোশাক লুকিয়ে ফেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁদের সাত বছরের ছেলেই সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে এনে দেয়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, উচ্চাকাঙ্খী সঙ্গতি বিলাসবহুল জীবনের মায়াবী হাতছানিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতি সপ্তাহে পার্লারে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা খরচ করে রূপচর্চা, হোটেলে উইক-এন্ড পার্টি, বাড়িতে থাকলে বহুমূল্য পানীয়ে চুমুক দেওয়া অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন তিনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ব্র্যান্ডেড কোম্পানির পোশাক ও গেজেট কেনার নেশা। এসব জোগান দিতে গিয়ে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সার্থকের আর্থিক অবস্থা ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছিল। এমন পরিস্থিতি হয় যে মাসখানেক আগে সার্থক তাঁর ক্যামেরা ধর্মতলার এক পরিচিত দোকানে গিয়ে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এমনকী মায়ের মৃত্যুর দিন কয়েক আগে তিনি লক্ষাধিক টাকার লেন্সও বিক্রি করে দেন। তারপর কোনও ইভেন্টে ছবি তোলার  কাজ থাকলে ক্যামেরা ভাড়া নিয়ে কাজে যেতেন তিনি। তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একজন মেক-আপ আর্টিস্ট হলেও বছরখানেক তেমন কোনও কাজ করছিলেন না সঙ্গতি। ফ্ল্যাটের ভাড়া, বৈভবের জীবনযাত্রা, রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা—সবই চলছিল সার্থকের টাকায়। কখনও সার্থক তাঁর উচ্ছৃঙ্খল জীবনে লাগাম দেওয়ার চেষ্টা করলেই শুরু হতো ঝামেলা ও হাতাহাতি। এসব খুব একটা অজানা ছিল না সঙ্গতির মায়ের কাছে। তাই বুধবার নাগেরবাজার থানায় তিনি যখন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তখন তাঁর চোখে জল নয়, ক্ষোভের আগুনই টের পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। প্রৌঢ়া প্রকাশ্যেই বলছিলেন, ‘এ আমার মেয়ে নয়। আামার মেয়ে এমন হতে পারে না। কঠোর সাজা দিন। ও যেন কারও এমন ক্ষতি আর না করতে পারে।’

3rd     March,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ