বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

৮১০টি জলের মিটার চুরি, উদাসীন পুলিস

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ই এম বাইপাস সংলগ্ন শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে পানীয় জলের মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে। কলকাতা পুরসভার দাবি, পাটুলি, কসবা ও যাদবপুর থানায় গত এক বছরে এ সংক্রান্ত কয়েকশো অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকী, কয়েক মাস আগে পুরসভার তরফে লালবাজারের অন্যতম শীর্ষকর্তাকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। ফের পুরসভা এনিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, বহু জলের মিটার চুরি হয়ে যাওয়ায় কোন বাড়িতে রোজ কত জল ব্যবহার হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট পরিমাণও জানতে পারছে না পুরসভা। 
জলের অপচয় রোধে শহরের কিছু অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি জলের মিটার লাগানো শুরু করেছে পুরসভা।  এক-একটি পরিবারে প্রতিদিন কত জল প্রয়োজন হচ্ছে, তা নথিভুক্ত করাও মিটার লাগানোর অন্যতম উদ্দেশ্য। পাটুলি, কসবা, আনন্দপুর ও যাদবপুর অঞ্চলে ইতিমধ্যে ৯৪০০টি জলের মিটার বসানো হয়েছে। পুরসভার কেইআইআইপি প্রকল্পের আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এডিবি) টাকায় এই কাজ চলছে। সুয়েজ নামে একটি সংস্থা গোটা প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে। সূত্রের খবর, গত এক বছরে এই তিন থানা এলাকা থেকে ৮১০টি জলের মিটার উধাও হয়েছে। বাড়ির বাইরে কিংবা রাস্তার ধারে বসানো মিটার ভেঙে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এমনকী, সিসি ক্যামেরায় মিটার চুরির ছবি ধরা পড়েছে। তবু দুষ্কৃতীরা অধরা। চুরিও বন্ধ হয়নি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিসের যুগ্ম পুলিস কমিশনার (অপরাধ) সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
কয়েক মাস আগে ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে এই সমস্যা নিয়ে ফোন আসে। তার প্রেক্ষিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জলের মিটারগুলি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন আধিকারিকদের। কেইআইআইপির কর্তারা জানাচ্ছেন, যেহেতু এডিবির টাকায় এই কাজ চলছে, তাই চুরি যাওয়া মিটারগুলির জায়গায় নতুন করে তা বসানো হবে কি না, এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। কারণ, সেক্ষেত্রে এডিবিকে খরচের হিসাব দিতে হবে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘কয়েক মাস আগে লালবাজারে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাশীপুর-বেলগাছিয়া অঞ্চলে জলের মিটার চুরির ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। কিন্তু গত এক বছরে কসবা, পাটুলি কিংবা আনন্দপুর অঞ্চলে চুরির কোনও কিনারা হয়নি। ফের অভিযোগ জানাব।’ জলের মিটার সর্বত্র না থাকায় গোটা প্রকল্পই সার্বিকভাবে ধাক্কা খাচ্ছে বলে জানান তিনি। চুরির কারণে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে কাশীপুর-বেলগাছিয়া অঞ্চলে ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সব বাড়িতে জলের মিটার বসানো হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাইপাস সংলগ্ন পাঁচটি ওয়ার্ডে এই মিটার বসছে। পুরসভা সূত্রে খবর, গত জুন মাস থেকে শুরু হয়েছে জলের মিটার চুরি। এই অঞ্চলে প্রথম বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি টাউনশিপ থেকে মিটার চুরির অভিযোগ আসে। তারপর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে।

29th     February,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ