বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বারাসতের নবপল্লীতে শিবমন্দিরে পুজো। -নিজস্ব চিত্র

৩ মাস আগেই শান্তাকে ‘বিয়ে’ করেন সমকামী বান্ধবী ইফফাত, সম্পর্ক স্থায়ী করতে পথের কাঁটা শ্রেয়াংশুকে খুন 

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চার বছর ধরে ছোট্ট শ্রেয়াংশুকে তাঁদের ‘মাঝখানে’ সহ্য করতে পারছিলেন না ইফফাত? করোনার পরে শান্তাকে নিয়ে তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন। শ্রেয়াংশুকে বাড়িতে রেখেই। বহু আব্দার সত্ত্বেও মা নিয়ে যায়নি তাকে। সেই যে ছিল পথের কাঁটা। তাই তিনমাস আগে শান্তার সঙ্গে ‘বিয়ে’ সেরে ফেলার পরও শান্ত হতে পারেননি ‘সমকামী’ ইফফাত। শান্তার হাতে চুড়ি পরিয়ে সেদিন উৎসব পালন করেছিলেন। কিন্তু সেই ছবি মোবাইলেই গোপন থেকে গিয়েছিল। আর ধীরে ধীরে চোখের বালি হয়েছিল শ্রেয়াংশু। অভিযোগ, সুন্দরী এবং জেদি ইফফাত বারবার তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। শান্তার দ্বিধা ছিল একটাই—ছেলে। তার পরিণতি, শ্রেয়াংশুকে খুন। কোন্নগরের নৃশংস শিশুহত্যার তদন্তে এমনই তথ্য উঠে আসছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনার আগে বিহারের দ্বারভাঙার বাড়িতে শান্তাকে বেড়াতে নিয়ে যান ইফফাত। সঙ্গে শ্রেয়াংশুও ছিল। প্রায় একমাসের সফরে অধিকাংশ দিনই ছেলেকে অন্য ঘরে রেখে ইফফাতের সঙ্গেই রাত্রিবাস করতেন শান্তা। একটি ফুডকোর্টে সন্ধ্যার সময় কাজ করতেন তিনি। সপ্তাহে একদিন ছুটি পেতেন। সেদিন পড়িমরি করে ইফফাতের কাছেই ছুটতেন। এইসব অতীত খুঁড়তেই তাজ্জব বনে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা। চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা বৃহস্পতিবার জোরের সঙ্গে বলেন, আমরা নিশ্চিত, সঠিক মানুষদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শান্তা ও ইফফাতকে জেরা এবং তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই মনোবিদ ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিস। জানা গিয়েছে, বুধবার পুলিস হেফাজত হওয়ার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছেন দু’জন। তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তবে শান্তা ও ইফফাতের নিজেদের মধ্যের রসায়ন অটুট। আর খুন কেমন করে হয়েছিল, তা নিয়ে তত্ত্বতালাশে চমকে উঠেছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ইফফাত আসার পরই প্রথমে শ্রেয়াংশুকে খেতে দেওয়া হয়। যখন সে খেতে ব্যস্ত, তখনই উঠোনের ইট তুলে তার মাথার পিছনে জোরালো আঘাত করা হয়। তারপর ফলকাটা ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে শিরা-উপশিরা ছিঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় শ্রেয়াংশুর। 
ঘটনার সন্ধ্যায় কাজে বেরিয়েই চশমা ফেলে আসার নামে বাড়ির কাছাকাছি এসেছিলেন শান্তা। দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি দোকানের সামনে। শ্রেয়াংশুই তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চশমা দিয়ে আসে। সন্তান একা আছে কি না, নিশ্চিত হওয়ার জন্যই ওই কৌশল ‘মা’ নিয়েছিলেন বলে দাবি তদন্তকারী অফিসারদের। খুনের রাতে বাড়ি ফিরেই চৌবাচ্চার জল বদলানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিলেন শান্তা। সেখানেই কি রক্তাক্ত হাত ধোয়া হয়েছিল? 

23rd     February,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ