বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

পাট চাষে খরচ বাড়লেও দাম তলানিতে
 

সংবাদদাতা, বনগাঁ: এবছর সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। ফলে পাট চাষে বাড়তি খরচ করতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক কৃষক বাড়তি দিয়ে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে পাট পচিয়েছেন। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনই পাটের গুণগত মান কমেছে। তার উপর গতবারের তুলনায় এবছর পাটের দাম অনেকটাই কম। ফলে খরচই উঠছে না। অনেকেই বাড়িতে পাট রেখে দিয়েছেন, দাম বৃদ্ধি পেলে বিক্রি করবেন বলে ভেবে। এদিকে, পাট বিক্রি না হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে রবিশস্য চাষে। বেশিরভাগ কৃষক পাট বিক্রির টাকায় রবি চাষ করেন। ফলে এখনও পাট বিক্রি করতে না পারায় তাঁরা সেভাবে আলু বা অন্য শস্য চাষ করতে পারেননি। গত বছর পাটের দাম ছিল ভালোই। লাভের মুখ দেখেছিলেন কৃষকরা। সেই দাম এবছর পাটচাষে উৎসাহ দিয়েছিল কৃষকদের। কিন্তু এবার সেভাবে দাম না পাওয়ায় মাথায় হাত তাঁদের। কী করে বাড়তি খরচ তুলবেন, এখন সেই চিন্তাই প্রধান তাঁদের কাছে। গত বছর কুইন্টাল প্রতি ৬০০০ টাকারও বেশি দামে পাট বিক্রি হয়েছিল। এবছর সেই দাম ৩০০০-৩৫০০ এসে ঠেকেছে। ভালো পাট হলে ৪০০০-৪৫০০ টাকা দাম পাচ্ছেন অনেকে। তবে ওই দামে পাট বিক্রি হলেও খরচ উঠবে না বলেই জানাচ্ছেন কৃষকরা। কারণ এবছর পাটচাষে খরচও বেড়েছে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় ১৪ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এই এক বিঘা জমিতে সাধারণত পাঁচ কুইন্টাল পাট উৎপন্ন হয়। কুইন্টালে তিন হাজার টাকায় তা বিক্রি হলে ১৫০০০ টাকা আয় হয়। এটা খরচের থেকে সামান্য বেশি। একে একপ্রকার লোকসানই বলছেন কৃষকরা। বনগাঁর গাঁড়াপোতার বাসিন্দা কৃষক সঞ্জীব মোহন্ত বলেন, নিজের তিন বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছিলাম। বৃষ্টির অভাবে পাট পচাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এমন অবস্থায় আলুচাষের জন্য আগেভাগে কুইন্টালে তিন হাজার টাকা করে পাট বিক্রি করে দিয়েছি। ফলে লাভ কিছুই হয়নি। গাইঘাটার কৃষক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছিলাম। অর্ধেক পাট সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি। বাকিটা ঘরে আছে। জানি না কী হবে। একই কথা জানান বনগাঁ নতুনগ্রামের কৃষক সমীর সাহা। তিনি বলেন, ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবার পাট চাষ করে। সেই পাট ২১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। নিজের শ্রমের দামও ওঠেনি।
বনগাঁ মহকুমা সহকারী কৃষি অধিকর্তা নারায়ণ দেবনাথ বলেন, পাটের দাম এবছর অনেকটাই কম। তবে সহায়ক মূল্যে সরকারের পক্ষ থেকে পাট কেনা চলছে। মহকুমা চারটি জায়গায় ভালো পাট ৫০৫০ টাকা কুইন্টাল দরে কিনছে সরকার। কৃষকরা সেখানেও পাট বিক্রি করতে পারেন।

4th     December,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ