বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

ওষুধ খেতে খেতে ক্লান্ত, ১৭ তলা থেকে মরণঝাঁপ বৃদ্ধের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহুতলের ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুরের একটি আবাসনে। রঞ্জন বোস (৬৭) নামে ওই বৃদ্ধকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে পুলিসের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর ওষুধ খেতে খেতে তিনি ক্লান্ত। সেখান থেকে মানসিক অবসাদ এবং পরিণতি এই মরণঝাঁপ। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জনবাবু রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানির পদস্থ কর্তা ছিলেন। স্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী। মেয়ের দিল্লিতে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আবাসনের এই ফ্ল্যাটে রঞ্জনবাবু ও তাঁর স্ত্রীই থাকতেন। মাঝেমধ্যে তাঁরা মেয়ের কাছে চলে যেতেন। আবাসনের কারও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না। কম কথা বলতেন সকলের সঙ্গে। আবাসনের সম্পাদক নীলাঞ্জন মৈত্র জানিয়েছেন, কয়েকদিন হল রঞ্জনবাবু বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর স্ত্রী দিল্লিতে মেয়ের কাছে গিয়েছেন। এদিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নিরাপত্তারক্ষী আবাসনের বাইরের লাইট নেভাচ্ছিলেন। হঠাৎই তিনি ফেজ ওয়ানের ই ব্লকে হঠাৎ কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান। এসে দেখেন একজন নীচে চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছেন।  রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফেসিলিটি ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। খবর দেওয়া হয় পূর্ব যাদবপুর থানায়। কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসাররা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
তদন্তে নেমে পুলিস ওই বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রঞ্জনবাবু তেরো তলায় থাকতেন। ১৭ তলার লবি থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। পুলিস ওই তল থেকে রঞ্জনবাবুর চটি উদ্ধার করেছে। এরপর তেরো তলার ফ্ল্যাটে আসেন তদন্তকারীরা। সেখানে ঢুকে দেখেন, বিছানায় অসংখ্য ওষুধ ছড়িয়ে রয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বেশকিছু প্রেসক্রিপশন। তা দেখে পুলিস জেনেছে, একাধিক অসুখে ভুগছিলেন রঞ্জনবাবু। দিনে দশ থেকে বারোটি ওষুধ খেতে হতো। এতগুলি ওষুধ নিতে নিতে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। এরপরেও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা কমছিল না, যার ফলে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিছুদিন আগেও তিনি তেরো তলা থেকে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেবার নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন, তাই রঞ্জনবাবু ঝাঁপ দিতে পারেননি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভোরবেলা ব্লক পুরো ফাঁকা থাকবে এবং ওই জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, এটি জেনেই ঝাঁপ দেওয়ার জন্য তিনি ১৭ তলার ওই অংশটি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে খবর পাঠানো হয়। রাতেই তাঁরা কলকাতায় আসেন। বৃদ্ধের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। আত্মহত্যার আগে তিনি কাউকে কোনও মেসেজও পাঠাননি বলে মোবাইল ঘেঁটে জেনেছে পুলিস।

4th     December,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ