বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

ইতিহাস মাখা পথে বেড়ানোর নতুন ঠিকানা গড়ভবানীপুর

পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার গড়ভবানীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতকের প্রথমে গড়ভবানীপুর ছিল ‘ভূরিশ্রেষ্ঠ’ বা ভুরশিট রাজ্যের রাজধানী। রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চতুরানন মহানিয়োগী। মুঘল আমলে এঁরা রায় উপাধি পেয়েছিলেন। সম্রাট আকবরের আমলে রাজ্যের নাম হয় ভুরশুট পরগনা। এই রাজ্যের রাজা রুদ্রনারায়ণের মৃত্যুর পর তাঁর বীরাঙ্গনা স্ত্রী রানি ভবশঙ্করী সিংহাসনে বসেন। তিনি কলিঙ্গের পাঠান সুলতান কতলু খাঁর সেনাপতি ওসমান খাঁকে পরাজিত করেছিলেন। তাঁর এই বীরত্বের কথা শুনে মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহকে গড়ভবানীপুরে পাঠিয়ে রানিকে ‘রায়বাঘিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
এই ঐতিহাসিক এলাকার স্মৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে রায়বাঘিনী রানি ভবশঙ্করী স্মৃতিরক্ষা সমিতি। সূত্রের খবর, ১০ একর এই জায়গাটিকে নিয়ে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে হাওড়া জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রায় ৪.৬ কোটি টাকায় ইকো পার্ক, শিশু উদ্যান, পদ্মপুকুর, অর্কিড বাগান, নার্সারি তৈরি করা সহ এই পর্যটন কেন্দ্র সাজিয়ে তোলা হবে। এছাড়াও গাছে ঘেরা ইকো পার্কে ক্যাফেটেরিয়া, রাজ পরিবারের ব্যবহৃত পুকুরের সৌন্দর্যায়ন, মাটির বাড়ি, গাছ বাড়ির আদলে পর্যটক আবাস, ভগ্নপ্রায় গোপীনাথ জিউ মন্দিরের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়ন হবে। এছাড়া দ্বিতল রাজবাড়ির আদলে হবে মডেল বাড়ি ও মিউজিয়াম। সেখানে একতলায় এলাকার ইতিহাসকে মডেল শো-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে এবং দ্বিতলে বিভিন্ন সংগৃহীত বস্তু ও বাংলার হস্তশিল্পের প্রদর্শনী কক্ষ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি মুক্ত সংস্কৃতি চর্চা মঞ্চ, দুই, চার শয্যার ডরমেটরি সহ পর্যটক আবাস, সম্মেলন কক্ষ, পার্কিং, ঝিলে মাছ ধরা ও বোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া রাজস্থানের চিতোরগড় দুর্গের প্রবেশদ্বারের আদলে প্রবেশে তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে।
রায়বাঘিনী রানি ভবশঙ্করী স্মৃতিরক্ষা সমিতির সম্পাদক সুখেন্দু চন্দ্র জানান, ২০০৫ সালে এই এলাকায় পুরাতত্ত্ব বিভাগের খনন থেকে প্রাচীন মুঘল আমলের নির্দশন পাওয়া যায়। তারপরেই এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্মৃতিরক্ষা সমিতির সভাপতি তথা উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা জানান, বাম সরকারের আমলে ঐতিহাসিক এই জায়গাকে অবেহেলা করা হয়েছিল। পরিবর্তনের সরকার আসার পর ইতিহাসকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই এলাকা রাজ্যের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে উঠছে। ইতিমধ্যে রাজ্য পর্যটন বিভাগের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া এলাকার ইতিহাস তুলে ধরার জন্য গত কয়েকবছর ধরে রানি ভবশঙ্করী স্মৃতি মেলার আয়োজন হচ্ছে। 

4th     December,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ