বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

যাদবপুরে ফের র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নালিশ করে মেইন হস্টেল ছাড়লেন ছাত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের র‌্যাগিংয়ের ছায়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনাস্থলও সেই মেইন হস্টেল। হেনস্তা ও র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলে হস্টেল ছাড়লেন স্নাতকোত্তরের এক পড়ুয়া। হস্টেলের মেস কনভেনর হয়েই দক্ষিণবঙ্গের একটি দূরবর্তী জেলার এই পড়ুয়া অন্যান্যদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যাদবপুরের পড়ুয়াদের একাংশের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন, এই ভয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরের কোনও হস্টেলে তাঁকে রাখার আবেদন জানিয়েছেন ওই ছাত্র।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে পড়েননি ওই ছাত্র। পরে কলা বিভাগের একটি বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ডি ব্লকের আবাসিক ওই ছাত্র মেস কনভেনর হন। সেই কারণেই তাঁকে বাজারও করতে হতো। তবে, জুনিয়র, সমসাময়িক এবং সিনিয়র ছাত্ররা তাঁর সেই ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলতেন। মাছের পিস কেন ছোট, ডাল কেন পাতলা, আলুভাজা কেন কম—এসব প্রশ্ন তুলে প্রত্যেকদিনই অতিষ্ঠ করা হতো এই ছাত্রকে। দিনের পর দিন চলত গালিগালাজ। সেই অকথ্য ভাষা শুনে দিন দিন অবসাদে চলে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্র। একদিন তিনি জানতে পারেন, তাঁকে বাদ দিয়ে একটি বৈঠক (জিবি) ডাকা হয়েছে। জানতে পারেন, সেখানে তাঁকে ‘টাইট’ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবাসিকদের একাংশ। এরপরেই প্রমাদ গোনেন তিনি। বিপদের আশঙ্কায় দ্রুত বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে হস্টেল ছাড়েন ওই ছাত্র।
ডিন অব স্টুডেন্টস এবং ডিন অব আর্টসকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগ জমা পড়েছে অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটির কাছেও। ওই ছাত্রের কাতর আবেদন, কোনওভাবেই যেন তাঁর অভিভাবকদের বিষয়টি না জানানো হয়। তাহলে তাঁরা ভয় পেয়ে তাঁকে বাড়ি নিয়ে চলে যাবেন। ফলে তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। এই অভিযোগ পেয়ে বেশ ক্ষুব্ধ অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। তিনি এই দায় চাপিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার কমিটির উপরে। তাঁর বক্তব্য, ওই কমিটিকেই দায়িত্ব দেওয়া ছিল, নতুন ছাত্রদের সঙ্গে পুরনো ছাত্রদের হস্টেল যেন আলাদা করে দেওয়া হয়। কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও কেন সেই কাজের বাস্তবায়ন হচ্ছে না, সেই জবাবদিহি তিনি চাইবেন। ঘটনাটি রাজ্য সরকারকেও জানাবেন।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সল্টলেকের ইজেডসিসিতে শিক্ষাদপ্তরের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাইরে থেকে প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রতিকূল, অসহিষ্ণু এবং ফুটন্ত করে তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। ব্রাত্যবাবু আরও বলেন, এ ব্যাপারে রাজ্য কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে সরকারের একটি মামলা চলছে। এর পরে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিবর্তন আসে, উপাচার্য বদল হন, তখন কোনও পরামর্শ চাইলে রাজ্য দেবে।
এই ঘটনায় শিক্ষকদের একাংশ আবার বুদ্ধদেব সাউকে কাঠগড়ায় তুলছেন। হস্টেল পৃথকীকরণ থেকে শুরু করে দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও শাস্তির আওতায় আনতে না পারার জন্য উপাচার্যের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, র‌্যাগিংয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পরে আরও দু’টি নতুন র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল যাদবপুরে। সেগুলির তদন্তও এখন বিশ বাঁও জলে। 

30th     November,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ