বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

পরীক্ষার সময় মোবাইল নেওয়ায় রাগ, ছাত্রদের মারে মৃত্যু স্কুলকর্মীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পরীক্ষার সময় ছাত্রদের মোবাইল আনতে নিষেধ করেছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, সেই নির্দেশ অমান্য করে বেশ কয়েকজন মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছিল। তাই কয়েকটি মোবাইল আটকে রাখা হয়েছিল প্রধান শিক্ষকের ঘরে। অভিযোগ, পরীক্ষা শেষে ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষকের ঘর সহ প্রধান গেটে তালা দেওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্র চড়াও হয় স্কুলের অস্থায়ী কর্মী শিবু শী-র উপর। তাঁকে গালিগালাজ সহ মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় শিবুবাবুর (৬৫)। বুধবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে দত্তপুকুর থানার ছোট জাগুলিয়া হাইস্কুলে।
বারাসত ১ ব্লকের দত্তপুকুর থানা এলাকার এই  স্কুলে গত কয়েকদিন ধরে পরীক্ষা চলছিল। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা ছিল বুধবার। পাশাপাশি পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির সেমিস্টার পরীক্ষা সহ একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও ছিল এদিন। কয়েকজন ছাত্র নির্দেশ অমান্য করে মোবাইল ফোন স্কুলে আনায় সেগুলি আটকে রাখা হয় প্রধান শিক্ষকের ঘরে। বলা হয়, বিকালে অভিভাবকদের এনে ছাত্রছাত্রীরা যেন মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। কয়েকজন অভিভাবক এসে মোবাইল নিয়ে যান। তারপরেও কিছু মোবাইল  ছিল প্রধান শিক্ষকের ঘরে। বিকাল তিনটার পর বিদ্যালয় থেকে চলে যান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মানবেন্দ্র মণ্ডল। এরপরেই তাঁর ঘরে তালা দিয়ে দেন স্কুলের অস্থায়ী কর্মী শিবু শী। এরপর তিনি প্রধান গেটে তালা দিচ্ছিলেন। কেন ছাত্রদের মোবাইল আটকে রাখা হয়েছে, সেই অভিযোগে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী তাঁর উপর চড়াও হয়, চলে মারধর। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ছোটজাগুলিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মানবেন্দ্র মণ্ডল বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কয়েকজন পড়ুয়া মোবাইল আনায় আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর আমি চলে গিয়েছিলাম। শুনেছি একটা গণ্ডগোল হয়েছিল। এর জেরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শিবুর। মৃত শিবুর স্ত্রী কল্যাণী শী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমার স্বামীকে মারা যেতে হল। এর দায় বিদ্যালয়ের। আমি চাই দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া হোক। অন্যদিকে তাঁর আত্মীয় তানিয়া মিত্র বলেন, বিদ্যালয়ের ভিতরে সিসিটিভি রয়েছে। ফুটেজ দেখে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরা চালু ছিল। সবটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিস দেখছে। বারাসত পুলিস জেলার পুলিস সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
শিবু শীর শোকার্ত পরিবার। -নিজস্ব চিত্র

30th     November,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ