বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

জ্বলজ্বল করছে খাতায় কলমে, শহরে অস্তিত্ব নেই ৮২৫০ জলাশয়ের

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: অনেকদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, এবার তার প্রমাণ মিলল খোদ রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা পুরসভার ‘অ্যাডেড এরিয়া’ বলে চিহ্নিত ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের আট হাজারের বেশি জলাভূমির কোনও অস্তিত্ত্বই নেই। প্রশাসনিক পরিভাষায় বলা হয়, ৪৪টি ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ১৯৫টি মৌজায় জলাভূমি হিসেবে চিহ্নিত ১২ হাজার ৪৪২টি জমির মধ্যে ৮ হাজার ২৫০টি ক্ষেত্রেই ‘রেকর্ড অব রাইটস’ বা জমির চরিত্র বদল করা হয়েছে। কলকাতা শহরে জলাভূমি ভরাট নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তর যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতেই সামনে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দপ্তরের ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে অ্যান্ড জয়েন্ট রিফর্মস কমিশনারের তরফে ওই ওই রিপোর্ট পেশ করা হয়। 
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এভাবে একের পর এক জলাজমি বিলীন হয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার কোনও তথ্য নেই রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভার কাছে। রিপোর্টে কেবল বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে জমির চরিত্র বদল ও জলাভূমি ভরাটের জন্য ২০১০ সাল থেকে মোট ১৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ ভূমিসংস্কার আইন ১৫৫-র ৪সি(৫) নম্বর ধারা অনুযায়ী ১০৫টি শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে। কিন্তু মামলাকারীর আইনজীবী প্রজ্ঞানদীপ্ত রায়ের অভিযোগ, রাজ্যের রিপোর্টেই স্পষ্ট, মোট ৮,২৫০টি জলাভূমির রেকর্ড অব রাইটস পরিবর্তন করা হয়েছে। সেই জায়গায় মাত্র ১৭টি এফআইআর ও ১০৫টি শোকজ করা হয়েছে। ওই এফআইআর ও শোকজের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে রাজ্যের কাছে কোনও তথ্য নেই। তাছাড়া, ২০১০ সাল থেকে এফআইআরগুলি করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। আসলে ২০২১ সালে মামলাটি দায়ের হওয়ার পরই কিছুটা নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। 
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ৩,৭৯০টি জলাভূমি রয়েছে। বর্তমানে এই জলাভূমিগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তার রিপোর্টও পেশ করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলাকারীর আইনজীবীর আরও অভিযোগ, এক্ষেত্রে ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান পেশ করেছে রাজ্য। তার এতদিন পর জলাভূমিগুলি কেমন আছে, তা নিয়ে রাজ্য অন্ধকারে। 
আইনি মহলের মতে, রাজ্য ভূমি ও ভূমিসংস্কার আইন অনুযায়ী ১৯৮৯ সালের আগে যদি কোনও জলাভূমি ভরাট হয় বা চরিত্র বদল হয়ে গিয়ে থাকে, শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে ওই জমির ‘রেকর্ডস অব রাইটস’ পরিবর্তন সম্ভব। আর এখানেই ধন্ধ লেগেছে। ঠিক কোন সময়ে এই বিপুল সংখ্যক জলাভূমির ‘রেকর্ডস অব রাইটস’ বদল হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি রাজ্যের রিপোর্টে। সম্প্রতি পৃথক একটি মামলার সূত্রে রাজ্যের পেশ করা এই রিপোর্ট উল্লেখ করেন আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী। বিষয়টি জানতে পেরে রীতিমতো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। ৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানি। 

30th     November,   2023
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ