বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

তিলজলা কাণ্ডে তান্ত্রিক-তত্ত্ব সাজানো
উদ্দেশ্য ছিল ধর্ষণ,ধৃতের কথায় অসঙ্গতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারবার বয়ান বদল। তান্ত্রিকের নাম-ঠিকানা পর্যন্ত ঠিক করে বলতে পারছে না ধৃত মূল অভিযুক্ত অলোক কুমার। এমনকী যার কথা বলা হচ্ছে, তার অস্তিত্বই আছে কি না সন্দেহ! তাহলে কি শুধু তদন্তকারীদের নজর ঘোরাতেই এই তান্ত্রিক-তত্ত্বের অবতারণা? তিলজলায় শিশুকন্যাকে খুন ও যৌন নিগ্রহের ঘটনার তদন্তে নেমে ক্রমশ এমন ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে পুলিসের। সূত্রের খবর, তন্ত্রসাধনার তত্ত্বের সমর্থনে কোনও তথ্য দিতে পারেনি অভিযুক্ত। ফলে তদন্তকারীরা বেশ বুঝতে পারছেন, ধর্ষণই ছিল তার আসল উদ্দেশ্য। তা ঢাকতেই তান্ত্রিকের প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে। অলোকের কোনও অপরাধের রেকর্ড আছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিস। মঙ্গলবার এই ইস্যুতে রাজ্য পুলিসের ডিজিকে নোটিস পাঠায় জাতীয় শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশন। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, নিমতলার একটি ঠিকানায় ওই তান্ত্রিক বসে বলে জেরায় জানিয়েছিল ধৃত অলোক। সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এখানে ওই নামে কেউ থাকে না। অন্য কয়েকজন তান্ত্রিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও সূত্র মেলেনি। ফলে গোয়েন্দাদের মনে সন্দেহের সূত্রপাত হয়। অলোককে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সে তান্ত্রিকের ভিন্ন ভিন্ন নাম বলতে থাকে। তখনই পুলিস বুঝতে পারে, কোনও একটি বিষয় আড়াল করতে চাইছে অভিযুক্ত। তাই বারবার বয়ান বদল করছে। ফলে আদৌ কোনও তান্ত্রিক বাবাজির অস্তিত্ব আছে কি না, ধন্দে গোয়েন্দারা।
শিশুকন্যার দেহের পাশাপাশি অলোকের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক প্যাকেট গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিস। জানা যাচ্ছে, তার দায়ও তান্ত্রিকের উপর চাপিয়েছে ধৃত অলোক। অফিসারদের প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, ওই তান্ত্রিক এটি রাখতে বলেছিল তাকে। কারণ, প্রচণ্ড গাঁজার নেশা করে থাকলে নরবলি দিতে কোনও অসুবিধা হবে না। তবে ওই শিশুকন্যাকে অপহরণের বিষয়টি ছিল ধৃত অলোকের মস্তিষ্কপ্রসূত। সে-ই তান্ত্রিককে বলেছিল, সকালে ওই ফ্ল্যাটে কেউ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন না। আর শিশুটি সাড়ে সাতটার মধ্যে প্রতিদিন ময়লা ফেলতে নামে। তাই তাকে অপহরণ করতে অসুবিধা হবে না।
কিন্তু তান্ত্রিকরা তো সাধারণত শ্মশানেই নরবলি দেন। এক্ষেত্রে অলোককে বাড়িতে শিশুবলি দিতে বলা হয়েছিল কেন? সূত্রের খবর, ধৃত অলোকের কাছে এই প্রশ্ন করেন এক তদন্তকারী অফিসার। জবাবে সে জানায়, প্রথমে শ্মশানেই এই কাজ করা হবে বলে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া সাত বছরের বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়ারও সমস্যা ছিল। তাই সেই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসা হয়। তবে সেকেন্ডের মধ্যে এই বয়ানও বদল করে অভিযুক্ত। পরে সে বলে, ফ্ল্যাটের মধ্যে শিশুকে খুন করে শবসাধনা করার কথা জানিয়েছিল তান্ত্রিক। সেজন্য তার বাড়িতে আসার কথা ছিল ‘বাবাজির’।
তদন্তকারীদের অবশ্য দাবি, এই গোটা গল্পটিই সাজানো।  ঘটনার দিন গাঁজা খেয়ে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল অলোক। ধষর্ণই ছিল তার উদ্দেশ্য। সেই কারণে তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, শিশুর খোঁজ না মেলায় এলাকায় হইচই শুরু হয়। এটি অলোকের কানে যেতে দেরি হয়নি। সে বুঝে যায় পালানোর কোনও রাস্তা নেই। তাই শিশুটিকে খুন করে গভীর রাতে দেহ অন্যত্র ফেলে চম্পট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। 
এদিকে, এই মামলায় তন্ত্র-যোগ সামনে আসায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজ্ঞান মঞ্চ। কালাজাদু, তন্ত্রসাধনা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের চিন্তাধারার উন্নয়নে গাইড লাইন তৈরির দাবিতে তারা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। সেটির দ্রুত শুনানির জন্য এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারী সব্যসাচী ভট্টাচার্য। আদালত আবেদন জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

29th     March,   2023
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ