Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

স্বাধীনতার পথ

৭৯ বছর আগে আজকের দিনেই মূল ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রথম পা রাখে নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজ। রোমাঞ্চকর সেই অভিযানের কাহিনি তুলে ধরলেন সমৃদ্ধ দত্ত

ব্রিটিশ সরকার প্রাণপণে চাইছে হারানো জমি ফিরে পেতে। বার্মার আরাকান এলাকায় আবার আক্রমণের চেষ্টাও করা হল কয়েকবার। কিন্তু লাভ হয়নি। জাপানি সেনার হাতে ফের পরাস্ত হতে হয়েছে। পিছু হটল ব্রিটিশ ভারতীয় সেনা। এবার কী করা হবে? সুযোগের অপেক্ষা? ১৯৪৩ সালের প্রথমার্ধে এরকম বারকয়েক ধাক্কা খাওয়ার পর ব্রিটিশ সামান্য বিরতি দিল। অন্য ফ্রন্টে অক্ষশক্তির দুর্বল হওয়ার অপেক্ষা। দেখা যাক। তবে সামরিক বাহিনীকে বদল করা দরকার। একটু ডায়নামিক কোনও অফিসার এলে হয়তো প্ল্যানিং বদলে যেতে পারে। অনেক ভেবে লন্ডনে থাকা ওয়ার ক্যাবিনেট স্থির করল, উইলিয়ম স্লিমকে বর্মায় থাকা ফোর্সের জেনারেল করা যেতে পারে। সেটাই হল। উইলিয়ম স্লিম হলেন প্রথমে বার্মার ফোর্সের জেনারেল। তারপর ফোরটিন্থ আর্মির কমান্ডার। এবং ক্রমেই বার্মার গোটা ফোর্সের চিফ কমান্ডার। 
সমস্যা হল, এরপর কী সেটা জাপানী ফোর্স স্থির করতে পারছে না। অথাৎ আরাকান দখল হয়েছে। এবার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? মালয়, সিঙ্গাপুর, বার্মা, একের পর এক এলাকা ব্রিটিশদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে জাপানীরা দুটি বিষয়ে নিশ্চিত। তারা জঙ্গল যুদ্ধে অনেক অভিজ্ঞ হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত এই তিনটি এলাকা দখলের সময়ই বোঝা গিয়েছে ব্রিটিশ যোদ্ধারা এখনও এই নদী আর জঙ্গলের ওয়ারফেয়ারে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। অতএব সবথেকে যা বিপজ্জনক সেটাই গ্রাস করছে ক্রমেই জাপানকে। সেটি হল, অতি আত্মবিশ্বাস! জেনারেল রেনে মুতাগুচ্চি জাপানের ফিফটিন্থ আর্মির কমান্ডার। তিনি সর্বাধিক সাহসী ও আত্মবিশ্বাস। বার্মা ফ্রন্ট থেকে ইন্ডিয়ায় অ্যাটাক করার প্ল্যান নিয়ে যখন একাধিকবার প্ল্যান বদল, স্থগিত, বাতিল আবাব বদল এবং বিরতি ইত্যাদি সিদ্ধান্তহীনতা চলতেই থাকছে, তখন একমাত্র জেনারেল মুতাগুচ্চি বললেন, সাপ্লাই, কমিউনিকেশন সমস্যা, আকাশযুদ্ধে মিত্রশক্তি এগিয়ে, বর্ষা আসছে, এসব নিয়ে বেশি ভাবলে আমাদের সাম্রাজ্যকে আর সম্প্রসারিত করতে পারব না। অতএব এই সমস্যাগুলির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি চান বার্মা থেকে বর্ডার ক্রস করে ভারতে ঢুকতে। কী করা উচিত? ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী তোজোর বার্তা এল। তিনি চাইছেন সীমান্ত পেরনোই হোক। তাঁর কাছে যা ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট আছে, সেটা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এখন মিত্রশক্তির জাপানী ফোর্সকে প্রতিহত করার মতো নিপূণ প্রশিক্ষণ নেই। সময় লাগবে ট্রেনিংএ। অতএব এটাই সময়! 
সুভাষচন্দ্র বসু সবদিক থেকে তৈরি। কিন্তু তাঁর একটা সন্দেহ হচ্ছে। জাপানীদের নিয়ে। তাঁর বাহিনীর প্রধানদের থেকেও রিপোর্ট পাচ্ছেন। সমস্যা সেই একই। জার্মানীর সঙ্গে যা হয়েছিল। অর্থাৎ আজাদ হিন্দ ফৌজকে জাপান মিলিটারি যুদ্ধের সঙ্গী হিসেবে পরিচয় দিতে যেন দ্বিধাগ্রস্ত। জাপানের সিংহভাগ অংশের মনোভাব অনেকটা যেন আজাদ হিন্দ বাহিনী তাদের অনুগত। কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মানুষ এই মনোভাব মানবেন কেন? তাঁর সাফল শর্ত, ভারতে যে কোনওরকম অভিযান যখন হবে, তখন ব্রিটিশদের পরাস্ত করে যে অঞ্চলই দখল করা হোক, সেটা আজাদ হিন্দ সরকারের অধীনে হবে। জাপানের নয়। ১৯৪৪ সালে সুভাষচন্দ্র তাঁর সরকার ও বাহিনীর সদর দপ্তর নিয়ে গেলেন রেঙ্গুন। 
তার আগে ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবরই গঠন করা হয়ে গিয়েছে প্রভিশনাল গভর্ণমেন্ট অফ আজাদ হিন্দ। প্রথম স্বাধীন ভারত সরকার। পাঁচজন মন্ত্রী। আজাদ হিন্দ ফৌজের ৮ জন সমস্য সরকারে আছেন। সরকারে প্রধানমন্ত্রীর নাম সুভাষচন্দ্র বসু। যুদ্ধ ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত মন্ত্রকও তাঁর অধীনে। অর্থমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নে.ল এ সি চ্যাটার্জি। জার্মানী, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, মাঞ্চুকুয়ো, নানকিং, ফিলিপাইনস, থাইল্যান্ড বার্মার পক্ষ থেকে এসেছে সরকারের স্বীকৃতি।
 জাপান রাজি হয়েছে ভারত আক্রমণে। যে কোনও সময়। কিন্তু সুভাষচন্দ্রের কাছে সবথেকে বড় শঙ্কা হল, সাপ্লাই। খাবার, ওষুধ আর চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত নেই। বোঝাই যাচ্ছে। একবার সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করলে কীভাবে সম্ভব এই সমস্যাগুলির সমাধান? রেঙ্গুনের স্থায়ী বাসিন্দা জোরা সিং রাজি হলেন। সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে যে বাহিনী বার্মায় এসেছে, তাদের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন জোরা সিং। কিন্তু একার পক্ষে কি করা সম্ভব এত মানুষের খাদ্য সংগ্রহ? সিঙ্গাপুর থেকে আসছে কিছু সাপ্লাই। কিন্তু যথেষ্ট নয়। আর ওষুধের আকাল এতটাই যে, কালোবাজারে সোনার বিনিময়ে যোগাড় করতে হচ্ছে ওষুধ। কে দিল সেনা? প্রবাসী ও স্বদেশী ভারতীয়েরা যখন যেমন যেভাবে পেরেছেন সহায়তা করছেন তাঁদের নয়নের মণি সুভাষচন্দ্রকে। 
জাপানের কমান্ডার মুতাগুচ্চিকে সুভাষচন্দ্র বললেন, একবার জাপানী বাহিনী যদি ভারতে প্রবেশ যায় এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীকে সামনে অগ্রসর হতে সাহায্য করে, তাহলে ভারতের মানুষ এবং ব্রিটিশ ভারতীয় সেনায় থাকা ভারতীয় সেনা ও অফিসাররা কিন্তু তৎক্ষণাৎ আজাদ হিন্দ বাহিনীর দিকেই চলে আসবে। সেই বিশ্বাস আছে। সেটা অবিশ্বাস করার কারণ নেই। কিন্তু মুতাগুচ্চির বাহিনীর বৈঠকে আলোচনা করা হল, ব্রিটিশ শক্তি অন্তত দেড় লক্ষ। আজাদ হিন্দ বাহিনীর এই মুহূর্তে যারা সীমান্ত ক্রস করবে তাদের সংখ্যা খুব বেশি হলে ৮ থেকে ১০ হাজার। ভারতের যে এলাকা দখল করা হবে, সেটা কি ধরে রাখা সম্ভব হবে? তার থেকে বরং আজাদ হিন্দ বাহিনীকে নিছক প্রচার এবং প্রোপাগান্ডার ভূমিকা দেওয়া হোক এখন। রাজি নন সুভাষচন্দ্র। তিনি দুই পক্ষের সমান মর্যাদা। 
ফিল্ড মার্শাল কাউন্ট তেরৌচি রাজি হলেন। তিনি আজাদ হিন্দ বাহিনীকে সঙ্গে নিতে রাজি। ১০ হাজার আজাদ বাহিনীকে তিনটি রেজিমেন্টে বিভাজিত করা হল। আজাদ হিন্দের বাহাদুর গ্রুপ (স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ) বার্মা সীমান্ত ছাড়িয়ে মণিপুরের দিকে অগ্রসর হবে। তারা পথ দেখাবে জাপানী সেনাকে। এভাবেই সমান মর্যাদা, সম্মান এবং লড়াইয়ের স্বীকৃতি আদায় করলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিশ্বের এক মহাশক্তিমান রা঩ষ্ট্রের কাছে। সামান্য নত না হয়ে। 
আজাদ হিন্দের প্রথম গেরিলা রেজিমেন্ট রেঙ্গুন ছেড়ে অগ্রসর হল ফেব্রুয়ারিতে। যাবে প্রোম। সেখান থেকে চিন হিলস। বাধা এল  কমনওয়েলথ আফ্রিকান ইউনিটের কাছ। তুমুল যুদ্ধ। কিন্তু কমনওয়েলথ ইউনিট পরাস্ত হল। এই ইউনিট এরপর চট্টগ্রামের কাছে থাকা মোডক দখল করবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের নেতৃত্বে  কর্ণেল শাহ নওয়াজ খান। সেই বাহিনী টপকে গেল ছিন্দউইন নদী। এভাবে তারা একা নয়। এএকর পর এক ইউনিট ওই নদী ক্রস করে গেল। আর তারপর সূত্রপাত সেই মহাসন্ধিক্ষণের। বার্মা সীমান্ত থেকে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত প্রবেশ। ১৮ মার্চ। 
এই পজিশন থেকে দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের একটি ইউনিট সরে গেল ফালামের দিকে। আর অন্য একটি বাহিনী  হাকা অভিমুখে। আর তৃতীয় ব্যাটেলিয়ন ততদিনে ফোর্ট হোয়াইট টোনজাং অভিমুখে গিয়েছে। এই তিন এলাকা থেকে আজাদ হিন্দ বাহিনীর শুরু হয়ে গেল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অ্যামবুশ, হিট অ্যান্ড রান এবং গেরিলা ওয়ারফেয়ার। যা ব্রিটিশ সেনাকে চরম নাজেহাল করল।  মুতাগুচ্চির তিনটি ডিভিশন ইম্ফল দখলের দিকে অগ্রসর হয়েছে। তাদের সঙ্গে আজাদ হিন্দ বাহিনীর একটি ফোর্স। 
দ্বিতীয় রেজিমেন্ট একইভাবে একটি কাজ করল। ছিন্দউইন নদী ক্রস করে তারা চলে গেল টামুর দিকে। হঠাৎ জানা গেল, পালেল এয়ারফিল্ডে জাপানী কমান্ডার ইয়ামামোতোর বাহিনী আক্রমণ করবে। আজাদ হিন্দ বাহিনীকে দরকার। কিন্তু ততক্ষণে দ্বিতীয় রেজিমেন্ট বেশ দূরে। বাছাই করা ৩০০ জনের একটি পৃথক বাহিনী তৈরি করা হল। যার নেতৃত্বে থাকবেন মেজর প্রীতম সিং। সেভাবে হাতে ভারী অস্ত্র নেই। বুকে আছে সাহস। পদে পদে বাধা পেতে হল। প্রীতম সিং এর বাহিনী তোয়াক্কা করল না। চরম কাউন্টার অ্যাটাকে ছত্রভঙ্গ হল ব্রিটিশ বাহিনী। কয়েকদিনের যুদ্ধের পর আকাশপথের বোমাবর্ষণে এই বাহিনীর পরাজয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে গেল। 
আর সুভাষচন্দ্র বসুর সিক্রেট সার্ভিস গ্রুপ কী করছে? তারা ব্রিটিশ সেনার বন্ধু ও ইনফর্মার সেজে ভারতীয় সেনাদের মধ্যে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালাচ্ছে! ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে থাকা বহু ভারতীয় এই গোপন অপারেশনে সাড়াও দিয়েছে। তারা গোপন অভিযানে করেছে ভূমিকা বদল। অর্থাৎ আজাদ হিন্দ বাহিনীতে যোগ দিয়েছে অথবা পরিণত হয়েছে ডাবল এজেন্টে। ব্রিটিশ ভেবেছে এরা তাদের স্পাই। আসলে এরা আজাদ হিন্দের স্পাই! 
ইম্ফল, কোহিমা, মৈরং হয়তো বেশিদিন দখলে রাখা সম্ভব হয়নি। কারণ অনেক। খাদ্যাভাব। অস্ত্রাভাব। অসুস্থতা। কিন্তু স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছিল। আবেদন নিবেদন অথবা আলোচনার মাধ্যমে নয়। যুদ্ধের মাধ্যমে। সেই গৌরব নিছক আবেগ ছিল না। ব্রিটিশের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ভারতীয়রা যে যুদ্ধে তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি ও পারঙ্গম, সেই বার্তা পেয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। অতএব ক্ষমতা হস্তান্তর পর্ব ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা! 
১৯৪৪ সালের মার্চ মাসের এই গৌরবগাথাটি ইতিহাস বইয়ের পাশাপাশি ভারতীয়দের হৃদয়ে চিরকালের জন্য স্থাপন করলেন কে? একটি অগ্নিশিখা! নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। 
19th  March, 2023
রূপকথার জন্ম

চতুর্দিকে যেন একটা সমুদ্রের গর্জন চলছে। স্লোগানে, আবেগে আর জয়ধ্বনিতে মুখরিত এয়ারপোর্ট চত্বর। কর্নেল প্রেম সেহগলের কানে আসছে কিছু বিক্ষিপ্ত উচ্চকিত মন্তব্য। এসেছেন... এসেছেন... আর চিন্তা নেই... এবার আমাদের অপেক্ষার দিন শেষ...। বিশদ

19th  March, 2023
ইউএফও রহস্য

পোর্টসমাউথের বেটি-বার্নি, নিমিটজের পাইলট বা পেন্টাগন—সকলেই প্রত্যক্ষ করেছে ইউএফওদের। তাও সংশয় কাটে না। প্রশ্ন ওঠে, এ বিশ্বে ভিনগ্রহীদের উঁকিঝুঁকি কেন স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটিগুলির আশপাশে? মানুষের প্রতিরোধের বহর মাপতেই কি ঘনঘন আগমন তাদের? নাকি কোনও অরূপরতনের খোঁজ মিলেছে? উত্তর খুঁজলেন মৃন্ময় চন্দ।
বিশদ

12th  March, 2023
ভারতের 
অজানা উড়ন্ত বস্তুরা
সৌম্য নিয়োগী

১৯৫৭। স্বাধীনতা সবে ১০ বছরে পা দিয়েছে। মানভূম তখনও পুরোপুরি বিহারে। খনিসমৃদ্ধ অঞ্চল। মূলত বাঙালিদেরই দাপট চলে। গণ্ডগ্রাম কাটোরিও তার ব্যতিক্রম নয়। গ্রাম থেকে খানিক দূরে রয়েছে অভ্রের খনি। সেটির মালিক ঘোষবাবুকে গ্রামের প্রায় কেউই দেখেননি। কলকাতায় থাকেন। বিশদ

12th  March, 2023
মধুর বসন্ত এসেছে
ডঃ পূর্বা সেনগুপ্ত

‘পঞ্চশর তোমারই এ পরাজয় জাগো জাগো অতনু’—চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের এই লাইন সকলেরই মনে আছে। কামদেবের আরাধনা করে নিজের মধ্যে রূপান্তর এনেছিলেন মণিপুর নৃপ দুহিতা চিত্রাঙ্গদা। কুরূপা থেকে হয়ে উঠেছিলেন সুরূপা। কামদেবকে আরাধনার দিন হল ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি। বিশদ

05th  March, 2023
বাবু কলকাতার রঙের উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

ঊনবিংশ শতকে বাবু সংস্কৃতির কলকাতায় রং লেগে থাকত সারা বছর। চুনোট ধুতি পরা বাবুদের মৌতাতের রংয়ে কী আর খামতি ছিল? ঘুড়ির লড়াই, বেড়ালের বিয়ে, বুলবুলির লড়াই থেকে পায়রা ওড়ানো, বাঈ নাচ, বাগানবাড়ি, এসব ঘিরেই বাবু জীবনে অষ্টপ্রহর লেগে থাকত মৌতাতের রং। বিশদ

05th  March, 2023
কৃষ্ণপ্রেমের রঙে মাতোয়ারা জীবন
মাধব মুরারি দাস

(মিখাইল মেশানিন)

কুয়াশা কাটছে। বসন্তের আলো ফুটছে ধীরে ধীরে। মন্দির চত্বরে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভিড় জমিয়েছেন বিদেশি ভক্তরাও। এবার একাধিক দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন দিকে বের হবে মিছিল। নগর পরিক্রমার প্রস্তুতি চলছে। খোল-করতালের সুর মিশছে আকাশ-বাতাসে। বিশদ

05th  March, 2023
নস্টালজিয়ার ১৫০
হরিপদ ভৌমিক

পালকির যুগে কলকাতার পুলিস পালকি বেহারাদের উপর কিছু নতুন নিয়ম চালু করলে, প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট করে কলকাতাকে অচল করে দিয়েছিল। ১৮২৭ সালের এই ধর্মঘট ভারতবর্ষের প্রথম ধর্মঘট। এই সময় ব্রাউনলো নামে এক সাহেব নিজের পালকির ডান্ডা দু’টি খুলে নিয়ে, তলায় চারটি চাকা লাগিয়ে এক ঘোড়ায় টানা ঘোড়ার গাড়ি বানিয়ে ফেললেন। তাঁর নামেই এই গাড়ি নাম হয় ‘ব্রাউন বেরি’ গাড়ি। এই সময় থেকে কলকাতায় ঘোড়ার গাড়ির যুগের সূচনা!
  বিশদ

26th  February, 2023
ট্রাম যাপন
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

তখন আমি হয়তো বা কেলাস থ্রি। পেটকাটি-মুখপোড়া-মাছরাঙা ঘুড়ি। থাকি ভাড়া বাড়িতে। গ্যালিফ স্ট্রিট ট্রাম ডিপো এবং বাগবাজার ট্রাম ডিপোর মাঝামাঝি একটা জায়গায়। আমার ঘুড়ি গুরু-ডাংগুলি গুরু টুটলেও থাকে আমাদের ভাড়া বাড়িতেই, অন্য ঘরে। বিশদ

26th  February, 2023
একুশে   ফেব্রুয়ারি
সমৃদ্ধ দত্ত

একটা কথা স্পষ্ট করে বলছি শুনুন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে ঊর্দু। অন্য কোনও ভাষা নয়। এই নিয়ে কেউ যদি আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে বুঝবেন সে রাষ্ট্রের শত্রু। একটিমাত্র রাষ্ট্রভাষা ছাড়া কোনও জাতির পক্ষে একই সূত্রে গ্রোথিত হয়ে পারস্পরিক সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়। বিশদ

19th  February, 2023
আমার দুঃখিনী বর্ণমালা...
পদ্মশ্রী ধনীরাম টোটো

স্বাধীনতার পর থেকে এপর্যন্ত দেশজুড়ে অবলুপ্ত অন্তত শখানেক ভাষা-উপভাষা। সঙ্কটের মুখে আরও ৩০টি। যে কোনও দিন হারিয়ে যেতে পারে তারা। সেগুলির মধ্যে অন্যতম আমার মাতৃভাষা, টোটো। মাত্র হাজার দেড়েক মানুষের কথা বলার মাধ্যম। বিশদ

19th  February, 2023
তপ্ত তাওয়াং
মৃন্ময় চন্দ

‘সালামি স্লাইসিং’ কায়দায় গভীর রাতে অরুণাচলের ‘ইয়াংসে’কেই কেন বারবার টার্গেট করছে চীন? বাষট্টির ‘নুরানাং যুদ্ধে’ যশবন্ত-সেলা-নুরার অবিশ্বাস্য প্রতিরোধকে চূর্ণ করেও তারা অরুণাচলের দখল নিতে পারেনি কেন? চীন-ভারত মন কষাকষির আড়ালে কি অন্য রহস্য লুকিয়ে?  বিশদ

12th  February, 2023
প্রতিভাত

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনকে যদি একটি বাক্যে ব্যাখ্যা করা যায়, তবে তাঁর কবিতার একটি পংক্তিকেই বেছে নিতে হবে। সেটি হল, ‘আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিনু।’ কবির এই আত্মবিলাপের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে তিনি কী স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং কী যন্ত্রণাময় পরিণতির দিকে ভাগ্যদেবতা তাঁকে ঠেলে দিয়েছিলেন। বিশদ

05th  February, 2023
দেবতার গ্রাস

দুই ছেলেকে হারানো পূর্ণিমার ক্ষোভ বর্ষিত হয় আত্মঘাতী উন্নয়নের দিকে। চিৎকার করেন, ‘আমি অভিশাপ দিচ্ছি, এই সব কাজ জীবনে শেষ হবে না।’ সে ১০ বছর আগের কথা। সেই অভিশাপই কি ফলে গেল যোশিমঠে? লিখলেন 
সমৃদ্ধ দত্ত
বিশদ

29th  January, 2023
নেতাজির পূর্বপুরুষদের সন্ধানে
ডঃ জয়ন্ত চৌধুরী

ব্রিটিশ শাসনকাল। পরাধীন ভারত। সেই পরাধীন রাষ্ট্রের এক ‘অঘোষিত’ রাষ্ট্রদূতের মতোই ইউরোপের বিভিন্ন স্বাধীন দেশের বিভিন্ন শহরে ঘুরছেন সুভাষচন্দ্র বসু। যোগ দিচ্ছেন একের পর এক স্থানীয় সভায়। কথা বলছেন সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে। বিশদ

22nd  January, 2023
একনজরে
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে কি নয়া সমীকরণ? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের পোস্ট করা একটি ছবি জল্পনা উস্কে দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। ...

পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের শক্তি প্রমুখ গৌতম মাল সহ চারজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। ...

তিনদিনের মস্কো সফর সেরে ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে গিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। পশ্চিমি দুনিয়ার শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। ...

বিশ্বকাপের আর বেশি বাকি নেই। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটারদের চোট-আঘাত নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। ঘোর অনিশ্চিত যশপ্রীত বুমরাহ, শ্রেয়স আয়ারের খেলা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

মেয়াদি সঞ্চয় থেকে অর্থাগম যোগ আছে। সন্তানের আবদার মেটাতে অর্থ ব্যয়। ধর্মকর্মে মন আকৃষ্ট হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস
বিশ্ব আবহাওয়া দিবস

১৬০৩: ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথের মৃত্যু
১৬৯৩: ইংরেজ সূত্রধর ও ঘড়ি-নির্মাতা জন হ্যারিসনের জন্ম
১৮৬১: লন্ডনে প্রথম ট্রাম চলাচল শুরু হয়
১৮৭৪:  বিশ্বের অন্যতম সেরা জাদুকর হ্যারি হুডিনির জন্ম
১৯০৫: ফরাসি লেখক জুল ভার্নের মৃত্যু
১৯৩৩: এড্লফ হিটলার জার্মানির একনায়ক হন
১৯৫৬: পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়
১৯৬১: ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ডিন জোন্সের জন্ম
১৯৬৫: মার্কিন পেশাদার কুস্তীগির দ্য আন্ডারটেকারের জন্ম
১৯৭৯: অভিনেতা ইমরান হাসমির জন্ম
২০০৫: সঙ্গীতপরিচালক,আবহসঙ্গীতপরিচালক ও যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী ভি বালসারার মৃত্যু
২০২২: টলিউড অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৮১.৩৩ টাকা ৮৩.০৭ টাকা
পাউন্ড ৯৯.৬৭ টাকা ১০৩.০৭ টাকা
ইউরো ৮৮.১২ টাকা ৯১.২৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫৯,৯০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৫৬,৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫৭,৭০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৯,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৯,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ চৈত্র, ১৪২৯, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩। তৃতীয়া ২৮/১৭ অপরাহ্ন ৫/১২। অশ্বিনী নক্ষত্র ১৯/১২ দিবা ১/২২। সূর্যোদয় ৫/৪১/২২, সূর্যাস্ত ৫/৪৫/৮। অমৃতযোগ দিবা ৭/১৬ মধ্যে পুনঃ ৮/৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৫ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/৯ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ৩/১৬ গতে ৪/৪ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/৩১ গতে ১১/১৯ মধ্যে পুনঃ ৪/৪ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৪২ গতে ১১/৪৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৪৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে। 
৯ চৈত্র, ১৪২৯, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩। তৃতীয়া রাত্রি ৭/৩০। অশ্বিনী নক্ষত্র দিবা ৩/৫০। সূর্যোদয় ৫/৪৩, সূর্যাস্ত ৫/৪৫। অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ মধ্যে ও ৭/৫৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১২/৫৩ গতে ২/৩২ মধ্যে ও ৪/১১ গতে ৫/৪৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৩ গতে ৮/৫৬ মধ্যে ও ৩/৭ গতে ৩/৫৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/২৯ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ৩/৫৩ গতে ৫/৪২ মধ্যে। বারবেলা ৮/৪৩ গতে ১/৪৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৪৫ গতে ১০/১৪ মধ্যে। 
১ রমজান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কালীঘাটে জনতা দলের (সেকুলার) নেতা কুমারস্বামীকে স্বাগত জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

05:26:00 PM

৩৫৩ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স

03:10:12 PM

রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ
লোকসভায় সদস্যপদ খোয়ালেন রাহুল গান্ধী। আজ, শুক্রবার সেই বিষয়ে লোকসভার ...বিশদ

02:24:00 PM

কুপওয়ারায় অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিকে নিকেশ করল নিরাপত্তা বাহিনী
উপত্যকায় নিকেশ এক জঙ্গি। আজ, শুক্রবার জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার জাব্দির ...বিশদ

02:00:25 PM

মুর্শিদাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি

01:47:17 PM

২৪ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

01:38:25 PM