Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই। তাই তাঁর পাসপোর্টটিও অবৈধ। ডিপোর্ট করার উপায় নেই। আবার নিউ ইয়র্ক শহরেও যেতে দেওয়া যাবে না ভিক্টরকে। ওই দিন থেকে পরবর্তী ন’মাস বিমানবন্দরের টার্মিনালই হয়ে উঠেছিল ভিক্টরের আস্তানা। টার্মিনালের একটা পরিত্যক্ত অংশে কোনওমতে বিছানা পেতে শোওয়া, ঘুরেফিরে খাবারের ব্যবস্থা করা... রাষ্ট্রহীন এক নাগরিকের ওই ন’মাসের জীবন নিয়েই স্টিভেন স্পিলবার্গ সিনেমা বানিয়েছিলেন ‘দ্য টার্মিনাল’। যা ছিল আসলে মেহরান করিমি নাসিরি নামে এক ব্যক্তির জীবনচিত্র অবলম্বনে। যদিও সিনেমা আর বাস্তবে জমিন-আসমানের ফারাক। আর সেই সংখ্যাটা যদি একের বদলে ১৯ লক্ষ হয়?
অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এমন হঠাৎ ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অপরাধ, তাঁরা কেউ এদেশের নাগরিক হওয়ার মতো যথাযথ কাগজপত্র এনআরসির দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের সামনে পেশ করতে পারেননি। আর তাই এই ১৯ লক্ষ মানুষ বলতে পারবেন না, তাঁরা ভারতীয়। উদ্যোগটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সে নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। উঠতেও পারে না। কারণ, শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সীমান্তবর্তী ওই রাজ্যে ফাঁকতালে ঢুকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বহু ‘বিদেশি’কে চিহ্নিত করার জন্য। হয়তো তারা বাংলাদেশি। হয়তো নয়। মোদ্দা কথা হল, সীমান্তে কাঁটাতার পেরিয়ে চলে আসবে, আর এই নেতা ওই নেতাকে ধরে ভোটার বা আধার কার্ড বানিয়ে ভারতীয় হয়ে যাবে... এটা চলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যাদের ‘ঘুসপেটিয়ো’ বলে থাকেন আর কী! তাই ক্যাম্প বানাও, বিদেশি হটাও। প্রশ্ন এখানে দু’টি, ১) যে পদ্ধতিতে নাগরিক বা অ-নাগরিক বাছাই হয়েছে সেটা কি ঠিক? এবং ২) যাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেন না, অর্থাৎ এই ১৯ লক্ষ ‘রাতারাতি রাষ্ট্রহীনের’ ভবিষ্যৎ কী?
আসা যাক প্রথম প্রশ্নে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে খেদানোর পাইলট প্রজেক্ট কিন্তু মোদি জমানার নয়! অনুপ্রবেশকারী বলতে যাঁরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর এদেশে এসেছেন। প্রক্রিয়াটির সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। অসম থেকেই। তবে গোটা রাজ্য নয়। দু’টি মাত্র সার্কেলে। একটি কামরূপ জেলা, আর অন্যটি বরপেটা। চার সপ্তাহের
মধ্যেই সরকারকে পাততাড়ি গুটাতে হয়। কারণ, ভারতীয় বাছাই শুরু হওয়া মাত্র যেভাবে গোটা অসমে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তা সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। উন্মত্ত জনতা বরপেটায় ডেপুটি কমিশনারের অফিসে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিস। তাতে চারজনের মৃত্যু হয়। মোটামুটি তালা ঝুলে যায় এনআরসি ক্যাম্পে। তিন বছর পর, ২০১৩
সালে প্রক্রিয়াটি ফের শুরু করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি রোহিংটন ফলি নরিম্যানের বেঞ্চ কেন্দ্র ও অসম সরকারকে এনআরসির ঝুলে থাকা প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়।
২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় ছ’বছর লাগল অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে। খরচ হল ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তারপরও বিতর্ক থামল না। কেন? কারণ, এমন অনেকেই চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি, যাঁদের বাদ যাওয়াটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারই তালিকায় জায়গা পায়নি। বাদ গিয়েছেন শহিদ কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের বাড়ির লোক, আবার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীর পরিবারও। অসমের এক প্রান্তে যে নথি দেখে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়েছে, অন্য প্রান্তে সেই ধরনের পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে মাথা কুটেও দেশের নাগরিক হয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। এই বৈষম্যের কারণটা কী? উত্তর একটাই হতে পারে—প্রক্রিয়া কার্যকর করাতেই বড়সড় গলদ থেকে গিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা। অথচ জন্ম জন্মান্তর ভারতের মাটিকেই আঁকড়ে থাকা বহু মানুষ আজ অ-ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা পর্যন্ত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গোটা দেশে এনআরসি চালু করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার ভোটের আগে যে হারে উঠেপড়ে নেমেছিল, সেই আগ্রাসন কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। হয়তো এবার পর্যালোচনা হবে! কিন্তু আসল কথাটা হল, পদ্ধতি মোটেও ঠিক ছিল না। বহু সত্যিকারের ভারতীয়ের নাগরিকত্ব চলে যাওয়াটাই যার প্রমাণ।
তাহলে কি ধর্মীয় মেরুকরণ কি কোনওভাবে এর জন্য দায়ী? এই প্রশ্ন কিন্তু বিজেপিকে তাড়া করতে শুরু করেছে। ধরে নেওয়া যাক কাছাড় এলাকার কথা। এখানে একটা সময় হিন্দু বাঙালিরাই সংখ্যাগুরু ছিল। কিন্তু ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর নামে শাসক দলের দিন কে রাত করার প্রবণতা এই এলাকার জনবিন্যাস গত কয়েক দশকে বদলে দিয়েছে। এই এলাকায় গেলে এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদেরই বেশি দেখতে পাওয়া যাবে। যাঁদের বেশিরভাগই হয়তো আটের দশকে বা তারও পরে এখানে এসেছেন। এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের বদান্যতায় ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড বানিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। বহু অঞ্চলের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস এভাবে বদলে যাওয়ায় অতীতে অসমীয়া বনাম বাঙালি যে তীব্র জাতিবিদ্বেষ এবং আন্দোলন, তা ১০ বছরে পুরোপুরি স্তিমিত হয়ে গিয়েছে। ভাষা নয়, এভাবেই চোরাস্রোতের মতো অসমে বেড়ে গিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ। বিরোধীদের অভিযোগ, এর সুবিধা নিয়েছে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় তার প্রভাব পড়ার অভিযোগও বহু বিরোধী দল করেছে।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নে। কী হবে এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের? সরকারি উত্তর, ১২০ দিন সময় আছে। সোজা চলে যান ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। আবেদন করুন। ট্রাইব্যুনাল পর্যালোচনা করে দেখবে। বিচারকরা যদি মনে করেন, তালিকায় নাম চলে আসবে! আর না হলে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যেতেই পারেন। মামলা চলবে। ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকেই ভারতে রয়েছেন। কিন্তু ১৯ লক্ষ মানুষের আবেদন পর্যালোচনা করতে কত সময় লাগবে? নিশ্চয়ই ১২০ দিনে সবটা সেরে ফেলা সম্ভব নয়? আরও বড় প্রশ্ন হল, এই লক্ষ লক্ষ মানুষ কি ১২০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন? অসমে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আছে এবং সরকার আরও ২০০টি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাতে কি সমস্যার সমাধান হবে? এতদিন ধরে তো সেই সব মানুষ
যাবতীয় কাগজপত্র পেশ করেই রেখেছেন। প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, তিনি বা তাঁর পূর্বপুরুষরা উল্লিখিত ওই তারিখের আগেই ভারতে এসেছেন। তালিকা প্রস্তুতের সময় সেই কাগজপত্র মান্যতা পায়নি। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে তো তাঁরা আর নতুন কোনও কাগজ তৈরি করতে পারবেন না! তাহলে লাভটা কী?
ততদিন কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না ওই ‘অ-ভারতীয়’রা। অর্থাৎ, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। খাদ্য সুরক্ষা বা শিক্ষার অধিকার আইনের ভিত্তিতে তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবি করতে পারবেন না। নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডও পৌঁছবে না তাঁদের কাছে। ভবিতব্য? বাংলাদেশ বা অন্য কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বললেই তো আর তারা এই ১৯ লক্ষ মানুষকে জামাই আদর করে নিয়ে যাবে না! অর্থাৎ, ঘাড় ধাক্কা দেওয়া অসম্ভব। কাজেই ডিটেনশন ক্যাম্প। রাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া নিয়মে, ওই শিবিরেই কাটবে দিন... রাত। থাকতে হবে সরকারের নজরদারিতে। গতিবিধি ঠিক করে দেবে সরকার।
ইতিমধ্যে ছ’টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে অসমে। আরও একটি তৈরি করছে রাজ্য সরকার। তাতেও কিন্তু ১৯ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হবে না। তাঁরা তখন কোথায় যাবেন? হয়তো নিজের নিজের বাড়িতেই তাঁদের থাকার অনুমতি দিতে বাধ্য হবে সরকার। শুধু কেড়ে নেওয়া হবে সুবিধাগুলি। অন্য কোনও পথনির্দেশিকা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, সরকার এই সমস্যা আসলে জিইয়ে রাখতে চায় না তো? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে যে, রাষ্ট্রের খবরদারি মেনে নিতে বাধ্য হবে মানুষ। ১২০ দিনের সময়সীমা বাড়বে। তালিকার বাইরে রয়ে যাওয়া এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের জন্য ‘বিকল্প’ কিছুর ব্যবস্থাও করতে পারে রাষ্ট্র। একথা ঠিক যে তালিকায় যাঁদের স্থান হয়নি, তাঁদের অধিকাংশই তথাকথিত ‘ঘুসপেটিয়ো’। এই জাতীয় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত এনআরসিতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল। দেশের মানুষের প্রাপ্য সুবিধা খেয়ে যাবে অবাঞ্ছিত কিছু ‘অ-নাগরিক’, তা একজনও ভারতীয় মেনে নিতে পারবেন না। এই অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কাই ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত।
কিন্তু লক্ষাধিক এমন মানুষও তো রয়েছেন, যাঁরা সত্যিকারের ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে আচমকাই আতান্তরে পড়েছেন! তাঁদেরও যে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই! কারণ, যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছেন, বাকিদের ব্যাপারে তাঁরা সম্পূর্ণ উদাসীন। প্রশ্ন করলে বলছেন, আমার নাম তো তালিকায় আছে! ব্যাস, তাহলেই হল। অসমের কিছু মানুষ, কিছু সংগঠন এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বা অন্য রাজ্যে। যেখানে শাসক অবশ্যই বিজেপি নয়। কিন্তু ভারতের মানচিত্রকে গেরুয়াকরণের লক্ষ্যে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। রাজনীতি থেকে মুক্তি নেই এখানেও। বিচ্ছিন্নভাবে আওয়াজ তুলে বিরোধীরা কি কিছু করতে পারবেন? সম্ভব তখনই, যদি ভারতীয়রা এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের পাশে দাঁড়ায় ...!
10th  September, 2019
এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): আমেরিকার রাস্তায় ফের প্রকাশ্যে বন্দুকবাজের তাণ্ডব। গুলিতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন জখম হয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ কলম্বিয়া হাইটস এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। জায়গাটি হোয়াইট হাউস থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলেও ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: দুই শিক্ষাকর্মীর বদলির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে শুক্রবার উত্তাল হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক ও কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সায়েন্স বিভাগের সামনে কয়েকশ’ ছাত্রছাত্রী ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুক্রবার সকালে সাঁকরাইলের ডেল্টা জুটমিলের পরিত্যক্ত ক্যান্টিন থেকে নিখোঁজ থাকা এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্বার হল। তাঁর নাম সুভাষ রায় (৪৫)। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর: চলতি ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেশের মাইক্রো-ফিনান্স ইন্ডাস্ট্রি ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করবে। স্ব-ধন ‘ভারত মাইক্রো-ফিনান্স রিপোর্ট, ২০১৯’-এ প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর ভালো যাবে না। সাংসারিক কলহবৃদ্ধি। প্রেমে সফলতা। শত্রুর সঙ্গে সন্তোষজনক সমঝোতা। সন্তানের সাফল্যে মানসিক ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭,৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ৩৭/১২ রাত্রি ৮/২১। রোহিণী ১৪/৪৩ দিবা ১১/২২। সূ উ ৫/২৮/২৩, অ ৫/৩১/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ৯/২৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৪১ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১/০ গতে ২/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৯ গতে উদয়াবধি।
৩ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২৫/২২/২১ দিবা ৩/৩৭/৫। রোহিণী ৭/১/২৪ দিবা ৮/১৬/৪৩, সূ উ ৫/২৮/৯, অ ৫/৩৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে ও ৭/৭ গতে ৯/২৯ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৫৫ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৫/৩৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৮ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১/১/২৯ গতে ২/৩২/৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৮/৪৯ মধ্যে ও ৪/২/৪৯ গতে ৫/৩৩/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৫৮/৪৯ গতে ৫/২৮/২৮ মধ্যে।
২১ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ
আজ রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আলিপুর ...বিশদ

08:21:33 PM

ফের সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ
আরও একবার সিএবি-র প্রেসিডেন্ট হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধধ্যায়। আজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ...বিশদ

07:39:27 PM

অস্কারে মনোনীত ছবি-গালি বয়

06:03:00 PM

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে মারধর
স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক যুবককে লাঠি-রড দিয়ে ...বিশদ

05:22:00 PM

মুর্শিদাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ১ 
আজ সকালে মুর্শিদাবাদের পাহাড়ঘাটি মোড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ সফিকুল ইসলাম ...বিশদ

05:13:00 PM

দীঘায় ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করল নুলিয়া
 

দীঘার সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার মুখে এক পর্যটককে উদ্ধার করল নুলিয়া। ...বিশদ

05:05:00 PM