বিদেশ

ভারত ও ব্রিটেনের সম্পর্ক আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ক্যামেরন

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ২০১৫ সাল। নির্বাচনের মুখে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ব্রিটেনের প্রথম ‘ব্রিটিশ এশীয় প্রধানমন্ত্রী’ বলে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ছ’বছরের সময়কালে নতুন মাত্রা পেয়েছিল ভারত-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। তিনি লর্ড ডেভিড ক্যামেরন। নির্বাচনের প্রাক্কালে একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘বর্তমান’-এর প্রতিনিধির মুখোমুখি ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী।

প্র: গত বৃহস্পতিবার ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনে (এফপিএ) বক্তব্য রাখার সময় আপনি ব্রিটেন-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) উল্লেখ করেছিলেন। গত দু’বছরে এনিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অচলাবস্থা কাটেনি। কনজারভেটিভ পার্টি জিতলে এই এফটিএ’র কোনও ভবিষ্যৎ আছে?

উ: অবশ্যই। ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকার ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আমাদের ইস্তাহারে এই চুক্তিকে বাস্তবায়িত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পণ্য এবং পরিষেবা নিয়ে আমরা একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করার লক্ষ্য নিয়েছি। এর ফলে উভয় দেশই উপকৃত হবে। এই আলোচনায় আমাদের দু’পক্ষকেই লক্ষ্য অনেক উঁচুতে রাখতে হবে। এমন সুযোগ বার বার আসে না। এটাকে বেশি করে কাজে লাগাতে হবে।

 প্র: রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়েছে  ব্রিটেন-ভারত বাণিজ্য চুক্তিও। আপনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন দু’দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। টোরিরা যদি ফের ক্ষমতায় ফেরে ও আপনি যদি বিদেশমন্ত্রী থাকেন, তাহলে কি আপনি  ভারতের সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুটি উত্থাপন করবেন?

উ: বিদেশমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছিল জয়শঙ্করের সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, গাজায় সংঘর্ষ, বিশ্বব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধির মতো আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কথাও হয়েছে।
আমার বিশ্বাস, প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান সহযোগী দেশ ভারত। এই ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও যথেষ্ট মজবুত। একসঙ্গে সামরিক মহড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাস দমন ক্ষেত্রেও একে অপরকে সহযোগিতা করি।

প্র: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ জিডিপির আড়াই শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কনজারভেটিভরা। যদিও এই অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা বলা হয়নি। এ বিষয়ে আপনার কী মত?

উ: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জিডিপির আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি করার বিষয়টি নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিরক্ষাকে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে আমরা নিরাপত্তাক্ষেত্রে আরও নজর দিচ্ছি। আমাদের এই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ব্যর্থ লেবাররা। যা থেকে স্পষ্ট, এই মাত্রার চ্যালেঞ্জ নিতেও তারা অপারগ।

প্র: কনজারভেটিভ সরকারের কী কী বৈদেশিক নীতি আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আপনার মনে হয়?

উ: আমরা প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করছি। পুরনো জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নতুন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আমরা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছি। যারা আমাদের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায়, তাদের রুখতে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের দাবিকে আমরা যেমন সমর্থন করেছি, তেমনই আক্রান্ত গাজাকে সবরকমভাবে সাহায্য করতেও উদ্যোগী হয়েছি আমরা।

প্র: ভোটে কনজারভেটিভ পার্টি জিতলে বিশ্বের দরবারে ব্রিটেনের ভূমিকা কী হবে?

উ: বরাবরের মতোই বিশ্বব্যাপী ভালো কাজের পাশে থাকবে কনজারভেটিভরা। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপদজনক এমন যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমাদের তৈরি থাকতে হবে। বিশ্বের কোথাও জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তাও সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমরা।

প্র: ভারত সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আপনার কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উ: ব্রিটেন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্য কনজারভেটিভ সরকার একটি রোডম্যাপও প্রকাশ করেছে। কারণ স্বাস্থ্য, জলবায়ু, বাণিজ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষার মতো বিষয়ে আমরা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই।

প্র: ব্রিটিশ-ভারতীয় ভোটারদের অনেকেই এখনও কাকে সমর্থন করবেন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁদের উদ্দেশে কী বার্তা দেবেন?

উ: এই নির্বাচনে কনজারভেটিভরাই একমাত্র দল, যাদের সুস্পষ্ট একটা পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের ইস্তাহারেই স্পষ্ট যে আমরা পরিশ্রমী এবং স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কর কমিয়ে দেব। রাষ্ট্রীয় পেনশনকে আয়করের মধ্যে আনব না। লেবাররা ক্ষমতায় এলে জনগণের উপর করের বোঝা চাপবে। আর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেত ঋষি সুনাক আদর্শ ব্যক্তি।

প্র: সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, কনজারভেটিভরা ক্ষমতায় ফিরবে না। ২০১৫ সালে ভোটপ্রচারের সময় ‘বর্তমান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আপনি কোন দল কত ভোট পাবে, তা জানিয়েছিলেন। এবারে কী হবে?

উ: আসল সমীক্ষার ফল তো প্রকাশিত হবে ৪ জুলাই। আমার বিশ্বাস, এবারেও কনজারভেটিভরাই ক্ষমতায় আসবে।
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৮১ টাকা৮৪.৫৫ টাকা
পাউন্ড১০৬.৫৫ টাকা১১০.০৬ টাকা
ইউরো৮৯.৫৫ টাকা৯২.৭১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা