বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের জাদুতে সীমান্তে পাচার ছেড়ে বৈধ কারবারে মন যুবকদের

প্রীতেশ বসু, মহদিপুর: আর দেড় কিলোমিটার এগলেই ভারত-বাংলাদেশ চেকপোস্ট। বিএসএফের কড়া নজরদারিতে পারাপার হচ্ছে আলু, পেঁয়াজ, আপেল, আঙুর, স্টোনচিপ বোঝাই একের পর এক ট্রাক। যার আড়ালে পাচার হতো নিষিদ্ধ ফেনসিডিল। এই চোরা কারবারের আঁচ এসে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও। অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকার মতো এই এলাকার যুবকদের একাংশের বিরুদ্ধেও পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ ছিল। একটু বাড়তি আয়ের লোভেই ফাঁদে পা দিত তারা। প্রায় ৪০০ বছর আগে তৈরি ‘লুকোচুরি দরওয়াজা’কে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই এলাকার মূল বসতি। রয়েছে খিড়কি, রামকেলি, মহদিপুর, ভূতেশ মণ্ডল গ্রাম। ১৬৫৫ সালে শাহ সুজার তৈরি এই দরজার নামেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই এলাকা। লুকোচুরি যাব বললেই, এক কথায় দক্ষিণ মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের অধীন ইংলিশবাজার বিধানসভার এই সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে আঙুল তুলে দেখান মালদহের মানুষ। ২০১৫ সালে তৈরি হয়েছে লুকোচুরি পুলিস ক্যাম্পও। এই ক্যাম্পে বসে কথা উঠতেই জানা গেল, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরা কারবারিদের ইতিবৃত্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিস অফিসার কিছুটা গম্ভীর হয়েই বললেন, দেখুন একেবারে সব কিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তা নয়। সবাই ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে গিয়েছে, এমন ভাবাও ঠিক নয়। তবে লুকোচুরিতে পুলিস এবং বিএসএফের সঙ্গে চোরা কারবারিদের লুকোচুরি খেলা অনেকটাই কমেছে। পুলিসের এই দাবিতে সিলমোহর দিয়েছেন লুকোচুরি এলাকার বাসিন্দারাও। 
খিড়কি গ্রামের বাসিন্দা করিম শেখের কথায়, দেখুন এসব প্রবীণ লোকের কাজ নয়। ছেলে ছোকরারাই করে। তবে গত দু’-আড়াই বছর ধরে অনেকেই আর সাহস করে না এই কাজ করতে। পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামে এসে সচেতনতা শিবির করা হয়েছিল। গ্রামের বয়স্করা বুঝিয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজ করার থেকে ছোটখাট হলেও নিজে কারবার করা ভালো। গুলি খেলে তো আর কিছুই থাকবে না। 
কিন্তু কারবার শুরু করতে পুঁজি লাগে। গরিব, নিম্নবিত্ত পরিবারের যুবকরা সেই পুঁজি পাবেন কী করে? এই প্রশ্নের উত্তর যেন ঠোঁটের ডগায় ছিল তাঁর। বললেন, রাজ্যের ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পই চোরা কারবার বন্ধের অন্যতম চাবিকাঠি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশাসন এ নিয়ে প্রচার করেছে। ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সাহায্য করেছে প্রশাসন। ওই টাকাকে কাজে লাগিয়ে কেউ মাছের দোকান, কেউ খাবারের দোকান, কেউ আবার ছোট আকারে আমদানি-রপ্তারি ব্যবসা শুরু করেছেন। ফলে পাচারের ব্যবসা নয়, এখন ‘বুক চিতিয়ে’ পাকুর থেকে আসা স্টোনচিপ বা কাশ্মীরের আপেল বাংলাদেশে রপ্তানি করছেন স্বপন শেখ, বাবলু করিমরা (নাম পরিবর্তিত)। উচ্চ শিক্ষিত বাবলু করিমের চর্চা রয়েছে গৌরবঙ্গের ইতিহাস। তাঁর থেকেই জানা গেল, ওই এলাকায় শাহ সুজার একটি মহল ছিল। যা এখন ভগ্নপ্রায়। সেখানে যাওয়ার জন্য চারটি ‘দরওয়াজা’ বানানো হয়েছিল। ‘লুকোচুরি দরওয়াজা’ তার মধ্যে একটি। মোগল স্থাপত্যের নির্মাণ শৈলিতে তৈরি এই ‘দরওয়াজা’কে ঘিরে তৎকালীন সুলতান ও বেগম লুকোচুরি খেলতেন। তাই এর নাম হয়েছিল ‘লুকোচুরি দরওয়াজা’। এটি ঐতিহাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও পর্যটকের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। দু’টি ছোট ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। সন্ধ্যার পর সেগুলিও বন্ধ হয়ে যায়। এই এলাকাকে রাজ্যের পর্যটন ম্যাপে রেখে প্রচারের আঙিনায় নিয়ে এলে বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের হতো, আক্ষেপ বাবলুর গলায়।

21st     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ