বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

বিজেপি বিসর্জনের দামামা বাজালেন তৃণমূল সুপ্রিমো

প্রীতেশ বসু, চালসা: বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে জলপাইগুড়ির চালসায় পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘অরাজনৈতিক’ এই মিছিলে ছিল না তৃণমূলের কোনও পতাকা বা ব্যানার। ছিল মমতাকে ঘিরে লাখো মানুষের উন্মাদনা। আর ছিল বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিনে তাঁর ছবিকে সামনে রেখে দেশে গণতন্ত্র কায়েমের শপথ। ছিল ধমসা-মাদলের বোলে মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে একজোট করে ‘বিজেপি বিদায়’-এর আবাহনী। রবিবার কলকাতা থেকে ফিরে সরাসরি পদযাত্রায় যোগ দেন মমতা। পাহাড়, জঙ্গল আর চা বাগানে ঘেরা ছোট্ট শহর চালসায় বর্ষবরণের দিনে একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মিশে গেলেন মানুষের সঙ্গে। বিকেল ৪টে নাগাদ মঙ্গলাবাড়ি বাজার থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্বে চালসা মোড়ে মিছিল পৌঁছতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। রাস্তার দু’পাশে মানুষের ঢল। তার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে কখনও ছোট্ট শিশু চেতনকে কোলে তুলে নিলেন মমতা। কখনও আবার ফুলের থালা  হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিলেন তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা। 
চালসা মোড়ের দৃশ্য ছিল আক্ষরিক অর্থেই নজরকাড়া। সেখানে মিছিল পৌঁছনোর পর প্রথমে মমতা আদবাসী নাচের তালে পা মেলান। তারপর নিজেই ধামসা বাজানো শুরু করেন। এরকম একটি জনবহুল মোড়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ধামসা বাজাচ্ছেন, আর তাঁর চারপাশে বৃত্তাকারে চলছে আদিবাসী নৃত্য—এমন দৃশ্য থেকে সহজে চোখ ফেরাতে পারেননি কেউই। বরং তালে তালে সেই উদযাপনে শামিল হয়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। প্রায় আধঘন্টা ধরে চলে এই পর্ব। বহু মানুষকে এমন দৃশ্য মোবাইলে ফ্রেমবন্দি করতে দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা বুলুচিক বরাইক।  ধামসার তালে হাততালি দিতে দিতে তিনি বললেন, ‘এতো মনে হচ্ছে যেন আমাদের বিজয় সম্মেলনের বাজনা বাজছে। দিদিমণি আজকেই বিজেপির বিদায়ের দামামা বাজিয়ে দিলেন।’ 
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ছিল বিজেপির জয়জয়কার। একটিও আসন পায়নি তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুল শিবিরের ফল কিছুটা ভালো হলেও অধিকাংশ জায়গা নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয় বিজেপি। রবিবার বিকেলে মমতা যেখানে পদযাত্রা করেন, ওই এলাকা আলিপুরদুয়ার লোকসভার নাগরাকাটা বিধানসভার মধ্যে পড়ে। নাগরাকাটায়ও বিজেপি জিতেছিল। তবে এবার উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি অনেকটাই তৃণমূলের পক্ষে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলার বিরোধীদের বিসর্জনের ডাক দিয়েছেন মমতা। আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী প্রকাশচিক বরাইক সেই সুরেই বলেন, ‘ধামসা-মাদলের তালে আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমাদের নেত্রী বিজেপি বিদায়ের বার্তাই দিয়ে গেলেন।’ 

15th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ