বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

নববর্ষের প্রস্তুতি। শুক্রবার কুমোরটুলিতে তোলা নিজস্ব চিত্র।

বাংলায় চাই ৪২’এ ৪২, হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর,  ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ডের দুর্নীতি হয়েছে বঙ্গে: মোদি

অলকাভ নিয়োগী, কৃষ্ণনগর: প্রথম সভায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে একটি বাক্যও খরচ করেননি। বরং আবাস যোজনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের বিরুদ্ধে। শনিবার দ্বিতীয় সভায় অবশ্য সেই ভুল করলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে টাকা আটকানোর প্রসঙ্গ এড়িয়ে শান দিলেন ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির ইস্যুতেই। কৃষ্ণনগরের গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠে বিজয় সংকল্প সভায় বললেন, ‘আপনারা স্বপ্নেও ভাবতে পারবেন না, এখানে ২৫ লক্ষ ভুয়ো জবকার্ড বানানো হয়েছিল। যে জন্মায়নি তারও কার্ড হয়েছে। যে টাকা গরিব মানুষের পাওয়ার কথা, সেই টাকা তৃণমূলের তোলাবাজরা লুট করেছে। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে একথা বলুন।’ স্বয়ং মোদির এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে যথেষ্ট ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। দু’বছর ধরে এই প্রকল্পে টাকা বন্ধ রেখেছে কেন্দ্র। কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত গ্রামবাংলার লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষ। বারবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েও সমাধানসূত্র না মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাপ্য মেটাতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে চাপ বেড়েছে মোদি সরকারের উপরে। তাই তাঁকে পাল্টা প্রচারের নিদান দিতে হল বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন দিদি বা ভাতিজা কারও নাম করেননি তিনি।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর গলায় এদিন শুধু তৃণমূলের দুর্নীতির কথা ছিল না। সেই সঙ্গে রাজ্য বিজেপির জন্য নতুন টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলার ৪২টি আসনের ৪২টিতেই পদ্মফুল ফোটাতে হবে। এইবার এনডিএ সরকার, এইবার চারশো পার। যদিও মোদির সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে দাবি তৃণমূলের। এপ্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি) বলেন, ‘মোটাভাই অমিত শাহ ৩৫টি আসন বলেছিলেন। মোদি ৪২ বলছেন। আসলে কুঁজোরও তো চিত হয়ে শুতে ইচ্ছে করে। ৪২ নয়, ভোটবাক্সে এবার বিজেপি ফিনিশ হয়ে যাবে। ভ্যানিশও হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর তোলা যাবতীয় অভিযোগের জবাব আগামী ১০ মার্চ ব্রিগেডের জনগর্জন সভা থেকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বলেছেন, ‘মোদির গ্যারান্টি আসলে জিরো ওয়ারেন্টি।’
ভোটের মুখে গ্যারান্টির কথা শোনা যাচ্ছে মোদির গলায়। এদিনও তার অন্যথা হয়নি। তিনি বলেন, মোদির গ্যারান্টি মানে—গ্যারান্টি পূরণ হওয়ার গ্যারান্টি। সেই সূত্র ধরেই দুর্নীতি ইস্যুতে লাগাতার তোপ দেগে যান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তৃণমূল কেন্দ্রের প্রকল্পে নিজেদের স্টিকার লাগাতে চায়। দেশবাসীর কাছে বাংলার কী পরিচয় হয়েছে জানেন? তৃণমূল সরকার সমস্ত স্কিমকে স্ক্যামে বদলে দিচ্ছে।’ কল্যাণী এইমসের পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া নিয়েও তোপ দাগেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘কমিশন না নিলে তৃণমূল পারমিশন দেয় না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেক আশা নিয়ে বারবার তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু, ওদের এখন দ্বিতীয় নাম অত্যাচার ও বিশ্বাসঘাতক। এখন টিএমসির মানে—তু ম্যায় করাপশন হি করাপশন।’ আরামবাগের সভার মতো এদিনও প্রধানমন্ত্রী সন্দেশখালি ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের শাসনে মা মাটি মানুষ কাঁদছে। পুলিস নয়, এখানে অপরাধীই ঠিক করছে কবে আত্মসমর্পণ করবে’। এদিন প্রশাসনিক অনুষ্ঠান শেষে সভার ভিতর দিয়েই হুডখোলা গাড়িতে মঞ্চে আসেন মোদি। তখন সভা পরিচালনা করছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রামমন্দির উদ্বোধনের পর বাংলায় এলেও এদিন কৃষ্ণনগরে অবশ্য রামের নাম করেননি প্রধানমন্ত্রী। বরং জেলার নাম নদীয়া বলে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলেই সভা শুরু করেন। 

3rd     March,   2024
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ