বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

টেলিমেডিসিনেই এক হাজার স্ট্রোক রোগীর প্রাণরক্ষা বঙ্গে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্রেফ টেলিমেডিসিনের সাহায্যে দূরদূরান্তের এক হাজার স্ট্রোকের রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে নতুন কীর্তি স্থাপন করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। ২০২২ সালে এপ্রিলে রাজ্য স্বাস্থ্য ইঙ্গিত কর্মসূচির আওতায় টেলিমেডিসিনের সাহায্যে স্ট্রোকের চিকিৎসা বা টেলিস্ট্রোক চালু করে। তার মাধ্যমে সোমবার হাজারতম রোগীকে মৃত্যুমুখ থেকে জীবনে ফেরালেন চিকিৎসকরা। 
২০২২ সালে রাজ্য যখন টেলিস্ট্রোক চালু করে, তখন শুধুমাত্র হিমাচল প্রদেশে এই কর্মসূচি ছিল। রা঩জ্যের পরই টেলিস্ট্রোক চালু করে তেলেঙ্গানা। শীঘ্রই মহারাষ্ট্রসহ আরও কিছু রাজ্য এই পদ্ধতিতে রোগীর জীবন বাঁচাতে পদক্ষেপ করবে। এমনই জানা গিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের এক পদস্থ সূত্রে। এক্ষেত্রে ‘হাব’ বা টেলিস্ট্রোক কর্মসূচির পরামর্শদাতা প্রধান কেন্দ্র হল বাঙ্গুর। অন্যদিকে ‘স্পোক’ বা রোগীকে পরিষেবা প্রদানকারী কেন্দ্র হল ছোট, বড়, মাঝারি অন্য হাসপাতালগুলি।  
কী করা হয় এই কর্মসূচিতে? টেলিস্ট্রোকের প্রধান কেন্দ্র হল বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস। ধাপে ধাপে বাঙ্গুরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ৩৮টি হাসপাতালকে। অধিকাংশ জেলা এবং মহকুমা হাসপাতাল এখন এই নেটওয়ার্কের আওতায়। শর্ত ছিল একটাই—সেখানে থাকতে হবে ২৪ ঘণ্টার সিটি স্ক্যান পরিষেবা। বলা বাহুল্য, টেলিস্ট্রোক সাফল্যের মুখ দেখার পর বাঙ্গুর এবং ৩৮টি হাসপাতালের নেটওয়ার্ক কলেবরে অনেকটাই বাড়তে পারে। ২৪ ঘণ্টার সিটি স্ক্যান পরিষেবাযুক্ত আরও কিছু হাসপাতালে এখানে যুক্ত হবে শীঘ্রই। এমনই জানিয়েছেন টেলিস্ট্রোক কর্মসূচিতে যুক্ত বাঙ্গুরের নিউরোলজিস্ট ডাঃ অর্পণ দত্ত। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ট্রোকের চিকিৎসা করা সম্ভব হলে টেলিস্ট্রোকে সাফল্যের হার প্রায় ৬০ শতাংশ। স্ট্রোক কাটিয়ে এই ৬০ শতাংশই এভাবে নবজীবন লাভ করেছেন। 
এক্ষেত্রে স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে কোনও রোগী ওই ৩৮ হাসপাতালে একটিতে এলে চিকিৎসকরা তা বুঝে সিটি স্ক্যান করে নেন। রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন বাঙ্গুরে। বাঙ্গুরে চিকিৎসকরা যদি দেখেন ইস্কিমিক ধরনের স্ট্রোক হয়েছে (মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালীতে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে) এবং তা টেলিস্ট্রোকের চিকিৎসার জন্য আদর্শ, থ্রম্বোলাইসিস প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়। হার্ট অ্যাটাকে হৃদযন্ত্রের মাংসপেশির ক্ষতি কমাতে সাধারণভাবে স্টেপটোকাইনাস জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় রোগী। সেখানে ইস্কিমিক স্ট্রোকের চিকিৎসা থ্রম্বোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুলে দেওয়া হয়  মস্তিষ্কের জমাট বাঁধা রক্ত। এক্ষেত্রে টেনেকটেপলেস এবং এলটেপলেস—এই দু’ধরনের ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়। দু’টি ইঞ্জেকশনেরই বাজার দর ৩০-৪০ হাজার টাকা। সেটা স্বাস্থ্য দপ্তর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করে। 

14th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ