বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

সিংহভাগ অ্যান্টিবায়োটিকই গিলে নিয়েছে জীবাণু, যাবতীয় আবিষ্কার চ্যালেঞ্জের মুখে! 

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ১৯২৮ সালে আবিষ্কার। তার ১৭ বছরের মধ্যেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। ১৯৪৫ সালে নোবেল ভাষণে পেনিসিলিন আবিষ্কর্তা বলেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন খোলা বাজারেও পেনিসিলিন মিলবে। আর তা কিনে অজ্ঞের মতো ব্যবহার করলে একদিন ব্যাকটেরিয়াই রেজিস্ট্যান্ট হয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।’ প্রায় ৮০ বছর আগে দিকপাল বিজ্ঞানীর এই  ভবিষ্যদ্বাণী ফলছে অক্ষরে অক্ষরে! অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া ঘুম উড়িয়েছে চিকিৎসকদের। কখনও গিলে খেয়ে, কখনও নিজেদের শরীর থেকে বের করে, কখনও প্রতিরোধী  প্রোটিন ও এনজাইম তৈরির মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করে ধন্বন্তরি-সমাজকে নাকাল করেছে জীবাণুকুল। 
নির্দিষ্ট ডোজ না মেনে ওষুধের দোকান থেকে কিনে যথেচ্ছ সেবন তো আছেই। চিকিৎসকদের একাংশ ফার্মা লবির চাপে প্রয়োজন ছাড়াই প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন বলেও অভিযোগ। এমন একাধিক কারণে ভারত সহ গোটা বিশ্বই অচিরে মুখোমুখি হতে চলেছে নতুন এক মহামারীর—অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স! এমনই আশঙ্কা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের।  
কীভাবে সামনে এল এই উদ্বেগজনক চিত্র? গত এক বছর ধরে বাংলার ২৪টি মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরিতে ৩২ হাজার ৪৩৮ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২৪ নভেম্বর স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তাদের সামনে পেশ করা হয় রিপোর্ট। বলা হয়েছে, বাংলায় বহুল ব্যবহৃত ৪৮টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে ৩৫টিই ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট। তা দিয়ে জীবাণু মারা যাচ্ছে না বহু ক্ষেত্রেই। পেনিসিলিন আবিষ্কারের ১০০ বছরও পেরয়নি। তাতেই চ্যালেঞ্জের মুখে সিংহভাগ অ্যান্টিবায়োটিক। যেমন, সেফট্রিয়াজোন আবিষ্কৃত হয় ১৯৮২ সালে। এখন ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই তা নিষ্ফলা। ১৯৯৬ সালে আবিষ্কৃত মেরোপেনেমের মতো জীবনদায়ী অ্যান্টিবায়োটিককেও পেড়ে ফেলছে প্রাণঘাতী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া। অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ডক্সিসাইক্লিনের মতো কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিককে এলেবেলে করে ছেড়েছে জীবাণুকুল। 
পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুগত দাশগুপ্ত জানান, ‘রোগীদের কালচার রিপোর্ট দেখছি আর চমকে যাচ্ছি। শুধু আর আর আর! অর্থাৎ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার ছড়াছড়ি।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর উত্তর হতে পারে গবাদি পশু, মাছ, ফল-সব্জি সর্বত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ। কারণ, মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক যেখানে সেখানে ফেলছি আমরা। তা মিশছে মাটিতে, নিকাশি নালায়। হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য গবাদি পশুর প্রতিপালনেও বেলাগাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার চলছে। সেই মাংসই রান্না হয়ে আসছে আমাদের লাঞ্চ, ডিনার প্লেটে। মাছচাষ, শাকসব্জি, ফলমূল চাষেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক! সেজন্যই দরকার বহুমুখী লড়াইয়ের। চাই নতুন ‘ওয়ান হেলথ’ নীতি। তাই এই প্রথম প্রাণীসম্পদ, পরিবেশ, কৃষি সহ একাধিক দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে একযোগে এই সমস্যা মোকাবিলায় নামছি আমরা।’  

3rd     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ