বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

মোদি সরকারের কোপে বাংলার মা-শিশুর পুষ্টি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার কোপ মা-শিশুর গ্রাসেও! মোদি সরকারের ‘সৌজন্যে’ ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা সহ একাধিক প্রকল্পে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে ইতিমধ্যেই বাংলা বঞ্চিত। আর এবার রাজ্যের মা-শিশুর পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য খাতেও কোপ বসাল তারা। এই খাতে বাংলার যত অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার কথা, বিস্তর টালবাহানার পর বাস্তবে মিলল তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। শুক্রবার বিধানসভায় একথা জানিয়েছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা। মোদি সরকার নানা কৌশলে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজেদের জোরেই প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। 
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত পুষ্টিযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হয়। এই খাতেই রাজ্যের প্রাপ্য ছেঁটে ফেলার পাশাপাশি চলতি অর্থবর্ষে নির্ধারিত বরাদ্দের অনেক কম টাকা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে এবং দ্রুত বকেয়া টাকা ছাড়ার দাবিতে বারবার কেন্দ্রের কাছে দরবার করা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। রাজ্যের ছ’মাস থেকে ছ’বছর পর্যন্ত বয়সের প্রায় ৭০ লক্ষ শিশু এবং ১২ লক্ষ অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও প্রসূতি প্রতিদিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে পুষ্টিযুক্ত খাবার পান। এই কেন্দ্রগুলির কাজকর্ম নিয়ে এদিন বিধানসভায় প্রশ্ন উঠেছিল। তারই জবাবে মন্ত্রী জানান, আধার সংযুক্তিকরণ হয়েছে এমন উপভোক্তার সংখ্যার বিচারে বাংলার জন্য ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়া উচিত। রাজ্যের তরফে তা যথা সময়ে জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রকে। সেই অঙ্ক কাটছাঁট করে রাজ্যকে চলতি অর্থবর্ষে ৬৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। অথচ এ পর্যন্ত মাত্র ৩৩৭ কোটি টাকা ছেড়েছে তারা, যা প্রাপ্যের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।  
এক্ষেত্রে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার তালিকা অবশ্য আরও লম্বা। সূত্রের খবর, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি পরিচালনায় নিযুক্ত সুপারভাইজার, ডিপিও এবং সিডিপিওদের বেতন বাবদ অর্থ দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। বর্তমানে ৩,৯২৪ জন সুপারভাইজার, ২৫৭ জন সিডিপিও এবং ২৩ জন ডিপিও বাংলায় কাজ করছেন। পদস্থ এক আধিকারিক জানান, ‘গত আগস্ট থেকে এই আধিকারিকদের বেতন খাতে টাকা দেওয়াও বন্ধ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু আমরা তো কাউকে চাকরি থেকে ছেঁটে ফেলতে পারি না। অগত্যা মাইনে দিতে হচ্ছে রাজ্যের কোষাগার থেকেই।’ প্রসঙ্গত, শিক্ষাদপ্তর পরিচালিত একই ধরনের মিড ডে মিল প্রকল্প রূপায়ণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। সিবিআই তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে শশীদেবী বলেন, ‘যে সরকার মিড ডে মিল নিয়ে এত প্রশ্ন তুলছে, তারাই আবার বাংলার মা-শিশুর পুষ্টির টাকা আটকে রাখছে। কেন্দ্রের এই দ্বিচারিতার জবাব মানুষ যথা সময়েই দেবে।’

2nd     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ