বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

স্পিকারের সঙ্গে অভব্য আচরণ, বিজেপি ও তৃণমূল বাদানুবাদে উত্তাল বিধানসভা 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোর স্লোগান থেকে অধ্যক্ষের দিকে তেড়ে যাওয়া, কাগজ ছিঁড়ে ফেলা থেকে হইহট্টগোল— বিজেপির বিশৃঙ্খলায় বাদ গেল না কিছুই। বিজেপি পরিষদীয় দলের আচরণে নজিরবিহীন হয়ে রইল মঙ্গলবারের বিধানসভা। পরিস্থিতি এমনই হল যে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া নির্দেশ জারি করতে হল। বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করে অধ্যক্ষ বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপি বিধায়করা আগামী দিনে সংযত না হলে কড়া শাস্তি আরোপ হতে পারে। যদিও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন বিজেপি বিধায়করা। 
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি হয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে এই দাবিতে আলোচনার জন্য মুলতুবি প্রস্তাব চায় বিজেপি। তাদের প্রস্তাবটি পড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরে প্রস্তাবটি নাকোচ করে দেন তিনি। এরপরেই বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। সেইসঙ্গে জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়কদের নাম উচ্চারণ করে ‘চোর’ স্লোগান তোলেন বিজেপি বিধায়করা। অধিবেশন কক্ষের বাইরেও চলে ‘চোর’ স্লোগান। এমন ছবি দেখা গিয়েছে, তৃণমূল বিধায়কদের দেখে আরও উচ্চস্বরে ‘চোর’ স্লোগান তোলা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। তবে বিধানসভায় পাল্টা তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচি থেকে আওয়াজ তোলা হয়, ১-২-৩-৪, বিজেপির সবাই চোর!
মঙ্গলবার অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে সংবিধানের উপর বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব আনে সরকার পক্ষ। সংবিধান নিয়ে আলোচনায় সরকার ও বিরোধী পক্ষ পরস্পরের প্রতি আক্রমণ শানান। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যপালের সংবিধানের এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজকর্ম, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির বাড়াবাড়ির প্রসঙ্গ তোলেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর একনায়কতন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু  কেন্দ্রে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে। প্রথমার্ধে বিরোধীরা যেভাবে সভার মধ্যে ‘চোর’ স্লোগান তুলেছিলেন, তার কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রীরা। পাল্টা অগ্নিমিত্রা পল সহ বিজেপি বিধায়করা  দুর্নীতির প্রসঙ্গে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।  
শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর চললেও আলোচনাপর্ব শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের বক্তব্যের সময় সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বিধায়কদের দলগত অবস্থান নিয়ে স্পিকারের আগে করা কিছু মন্তব্যর প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন শিলিগুড়ির বিধায়ক। স্পিকার তখন জানিয়ে দেন, এই সব বক্তব্য নথিভুক্ত হবে না। বিধানসভার রেকর্ড অনুযায়ী, ওই বিধায়কদের যে দলগত অবস্থান সেটাই তিনি বলেছেন। একথা শোনার পর বিরোধী দলনেতা আসন ছেড়ে উঠে কিছুটা এগিয়ে এসে তীব্র আপত্তি জানাতে থাকেন। তাঁকে কিছু কাগজপত্র ছুড়তে এবং স্পিকারের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।  শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়করা হইচই শুরু করলে, সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করেন। বিরোধীরা ওয়াকআউট করার পরেই বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন তাপসবাবু। এরপরেই বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করা হয়। তিনি সাসপেন্ড হওয়ার পরই বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার সচিব সুকুমার রায়ের কাছে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। - নিজস্ব চিত্র
 

29th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ