বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সিনেমা
 

কোকিল ডাকে কাঞ্চনগড়ে

কাঞ্চনগড় হাইস্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই সুশীলবাবু। জীবনে অঙ্ক ছাড়া আর কিছু বোঝে না। তার পৃথিবীটা অঙ্ক দিয়ে ঘেরা।  একদিন তো প্রধান শিক্ষককে প্রস্তাব দিয়েই দিলেন। এবার থেকে পাঁচটা ক্লাস হোক অঙ্কের । শুধু তাই নয়, প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলেন স্কুল কমিটির কাছে। তার অঙ্কের প্রশ্নের ঠেলায় ছাত্ররা আড়াই তিনের বেশি নম্বর পায় না। সাকুল্যে ওঠে সাত। প্রধান শিক্ষক থেকে ছাত্র সকলেই চিন্তিত। অঙ্কের নিক্তিতে মাপা এহেন কড়া মানুষ সুশীল বাবু এক অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত হল। কথা বলার মাঝে অজান্তেই কোকিলের কুহু শব্দ বেরিয়ে আসে তার মুখ থেকে।
শিল্পীসংঘের প্রযোজনায় প্রচেত গুপ্তের কাহিনি অবলম্বনে রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তীর নাটক ‘কাঞ্চনগড়ের কোকিল’। অভিনেতা ও নির্দেশক কমল চট্টোপাধ্যায়। নাটক জুড়ে সুশীলবাবু ও তার কোকিল রোগ। যা দেখে হেসেই সারা দর্শক।
সংসারে এ আবার কী সর্বনাশ! সুশীলবাবুর স্ত্রী নমিতা (রণিতা রায়) মহা বিপদে পড়ে ভাই কল্যাণকে (দেবজ্যোতি গঙ্গোপাধ্যায়) ডেকে পাঠায়। বাড়িতে হুলুস্থুল কান্ড। এ আবার কী রোগ? জানলে লোকে বলবে কী? কাজের মেয়ে মায়া (এষা চট্টোপাধ্যায়) জানতে পারলে তো সারা পাড়া জানতে পারবে। তাই মায়াকে পত্রপাঠ ছুটি দিয়ে দেয় নমিতা। কিন্তু কত দিন ছুটি দেবে? দিন যায়। রোগের কোনও সুরাহা হয় না। এই অদ্ভুত রোগ ডাকসাইটে মাস্টারকে বিড়রম্বনায় ফেলে দেয়। কবিরাজ, বদ্যি, হোমিওপ্যাথি থেকে শুরু করে চিকিৎসাশাস্ত্রের কিছুই বাকি রাখেনি সুশীল বাবুর শ্যালক। কলকাতার স্পেশালিষ্টও বাদ যায়নি। কিছুতেই ‘কুহু’র উপশম হয় না। পাড়া প্রতিবেশী যাতে জানতে না পারে তার জন্য স্কুলে ছুটি নিয়ে ঘরে বোবা হয়ে বসে আছে সুশীলবাবু। তাকে দেখতে আসা মানুষজনরাও বুঝতে পারে না সুশীল বাবুর আসলে হয়েছেটা কী? চাঁদিফাটা গরমেও পশমের চাদর জড়িয়ে ইশারায় কথা বলে। ফ্যাসাদে পড়া আর কাকে বলে। 
সুশীলবাবুর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন পরিচালক কমল চট্টোপাধ্যায়। মাস্টারির দাপটটা অভিনয়ে দারুণ ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আদবকায়দা, বাচনভঙ্গিতে কোন খুঁত ধরা পড়ে না। আদর্শ মাস্টারের প্রতিরূপ দেখা যায় তার চরিত্রের মধ্যে। পাশাপাশি মায়ার কথা বলতেই হয়। বাড়ির ঠিকে ঝি-কে একেবারে মঞ্চে তুলে এনেছেন এষা। ডাক্তারের (বাসু বন্দ্যোপাধ্যায়) ছোট্ট অভিনয় ছিল আকর্ষণীয়। কাটা ভোক্কুর ( বিশ্বনাথ সরকার) চরিত্র আরও ঘষামাজার দরকার আছে। প্রধান শিক্ষক (শঙ্কর ঘোষ) চরিত্র অনুযায়ী যথাযথ। পক্ষী বিশারদ সালিম আলি (স্বপ্নজয় গঙ্গোপাধ্যায়) নাটকের টুইস্ট তৈরি করেন। স্কুল বেয়ারা নবর চরিত্রে রঞ্জন দে-কে বেশ মানিয়েছে। নীল কৌশিকের মঞ্চ পরিকল্পনা ও মদন হালদারের মঞ্চ নির্মাণ বেশ ভালো হয়েছে। বাদল দাসের আলো ও সব্যসাচী পালের আবহ প্রক্ষেপন নাটককে সুন্দর ভাবে বেঁধেছেন। 
এই নাটক হাসতে হাসতে ভাবতে শেখায়। বইয়ের পাতায় শুধু ডুব দেওয়া নয়, নিজের চারপাশ, প্রকৃতি পরিচয় হল আসল শিক্ষা। 
তাপস কাঁড়ার 

16th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ