বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সিনেমা
 

চর্চায় থেকেও অনাদৃত বিনোদিনী

নটী বিনোদিনী চরিত্রটি নিয়ে কম নাড়াচাড়া হয়নি এত বছরে। জন্মের ১৬০ বছর পার করেও তিনি প্রাসঙ্গিক রয়ে গিয়েছেন একইভাবে। কেন? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হল অবন্তী চক্রবর্তীর পরিচালনায় সুদীপ্তা চক্রবর্তী অভিনীত ‘বিনোদিনী অপেরা’। ১৯ শতকের বাংলা সাহিত্যের কিংবা থিয়েটারের ইতিহাস ঘাঁটলে প্রতিবাদী নারী চরিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে বিস্তর। কিন্তু বিনোদিনী দাসী কোথায় আলাদা? তাঁর লেখা আত্মজীবনী ‘আমার কথা’ থেকে এর অনেকটা আঁচ পাওয়া যায়। সেই স্পষ্টভাষী সোজাসাপ্টা বিনোদিনীকেই মঞ্চে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন সুদীপ্তা। সফলও হয়েছেন। যে মেয়ে একাদশী হতে না হতেই অভিনয় গুলে খেয়েছে, তার সহজাত প্রতিভাকে নানা দিক থেকে দেখার চেষ্টা রয়েছে এই নাটকে। 
বিনোদিনীর জীবনে বারবার আসা প্রেম এবং হারিয়ে যাওয়া, সম্পর্কে আস্থা রেখে বারবার অবিশ্বাসের আঘাতে দীর্ণ হওয়া, সর্বোপরি যে থিয়েটারের জন্য জীবনের সব কিছু ছাড়তে রাজি ছিলেন, ছেড়েও ছিলেন, সেই থিয়েটারই একদিন তার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল— চুম্বকে এই তাঁর জীবন। একটা সময় চুটিয়ে অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছলেও অনেক কম বয়সেই মঞ্চ থেকে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সুদীপ্তা তাঁর অভিনয়প্রয়াসে এ যন্ত্রণার শরিক হতে পেরেছেন। গুরু গিরিশচন্দ্র ঘোষের হাতে তৈরি হয়েছিলেন বিনোদিনী। অভিনয় জীবনের শেষ দিকে নিজের নামে থিয়েটার খুলতে চেয়েছিলেন। সে স্বপ্নও সত্যি হয়নি। সে স্বপ্ন চুরমার হওয়ার ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন তাঁর গুরুও। গিরিশ ঘোষ স্বীকারও করেছিলেন সে কথা। বিনোদিনীর বি থিয়েটার হয়নি, রূপ পেয়েছিল স্টার থিয়েটার। 
জীবনে সত্যিকারের ভালোবাসা পাননি। থিয়েটারই ছিল তাঁর ভালোবাসা, সততার, বিশ্বাসের একমাত্র জায়গা। সে জায়গা থেকেও যখন আঘাত আসে, তখন কীভাবে সামলে নিতে পারে একজন মানুষ? বিনোদিনীর এই দ্বন্দ্ব-দুঃখ আজও এসময়ের মানুষকে ছোঁয়। কারণ শিল্পীর পরিচয় তাঁর শিল্পসৃষ্টিতেই আটকে থাকে না, এ আমাদের সমাজের ভয়ঙ্কর বাস্তব। বিনোদিনী তার বাইরে নন। তাই এখনও তিনি প্রাসঙ্গিক। বারবণিতা হওয়া থেকে অভিনেত্রী, নিজের অবস্থান সম্পর্কে খুব সচেতন এবং স্পষ্টবাদী ছিলেন বরাবর। কোনও ভণিতা কিংবা দুঃখ জড়ানো ট্র্যাজিক নায়িকা হতে চাননি। নিজের কথা সোজাসাপ্টা লিখে গিয়েছেন, গিরিশবাবুর নানা আপত্তি সত্ত্বেও সে বই প্রকাশিত হয়েছে এবং নিঃশেষিত হয়েছে। তারপরেও তাঁর সময়ের কোনও মূলস্রোতের পত্রিকা কিন্তু বিনোদিনীকে দিয়ে লেখানোর প্রয়োজন মনে করেনি। বিনোদিনীকে নিয়ে চর্চা হওয়াতেই তাঁর আসল সার্থকতা। কেননা বেঁচে থাকতে অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও যথাযোগ্য মূল্যায়ন তাঁর হয়নি। জনপ্রিয়তা সবসময় তাৎক্ষণিক। তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী ভেবে তাঁর অভিনয় ক্ষমতার নিরিখে তাঁকে বিচার করলে অনেকটাই অজানা থেকে যায়। একারণেই তাঁর আত্মকথা, তাঁর সময়ের রাজনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি সবটা দিয়ে তাঁকে বুঝতে হয়। ‘বিনোদিনী অপেরা’ সেই সব কিছু ছোঁওয়ার চেষ্টা করেছে। সরাসরি সচেতন দর্শকের দিকে প্রশ্ন করেছে, জীবনভর অভিনয়ে সর্বস্ব দিয়েও কেন বিনোদিনী উপেক্ষিত? তাঁকে নিয়ে ছবি-নাটক সবই হয়। তবু চর্চায় থেকেও তিনি যেন অনাদৃত। তাঁর জন্ম-মৃত্যু তারিখটুকু মনে রাখা, তাঁর সম্মানে কিছু করার তাগিদ বাঙালির হৃদয়ে জাগে কি? শুধু তাঁর জীবন-নির্ভর কাজটুকুই কি তাঁর প্রতি যথোচিত সম্মান প্রদর্শন?    
অন্বেষা দত্ত

3rd     November,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ