বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সিনেমা
 

মহামারী বসে কেটেছে,
এখন শুধু দৌড়তে চাই

 

বাদল সরকারের নাটক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আপনি ‘বল্লভপুরের রূপকথা’ ছবির গল্প লিখেছেন। কয়েক বছর আগে হিন্দিতে ‘বল্লভপুর কি রূপকথা’ ছবিটি রিলিজ করে প্রায় একই কাহিনি নিয়ে। দেখেছেন ছবিটি?
ঠিক বলেছেন। না, ছবিটি দেখিনি। ট্রেলার দেখেছি শুধু। এই ছবিটির কথা পরে জেনেছি।

ট্রেলার দেখে মনে হচ্ছে, ছবিটি ‘মন্দার’ থেকে একেবারে আলাদা ঘরানার। 
চিত্রনাট্যকার প্রতীক আর আমি চেয়েছিলাম একেবারে উল্টোদিকে গিয়ে একটা কাজ করতে। যদি এটা বড় পর্দার জন্য নাও করতাম – তাহলেও মন্দারের একেবারে বিপরীত দিক ধরে এই কাজটা করতাম। এতে নিজেদের কাজের বৈচিত্র্য বাড়ে। দর্শকও অন্যরকম ছবির স্বাদ পান। 

ইদানীং বিশুদ্ধ শিল্পচর্চার পরিধি কমে যাচ্ছে। যদিও শুদ্ধ শিল্পের অনুরাগী চিরকালই কম। ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ আমজনতার মধ্যে যেভাবে জনপ্রিয় হয়, ‘গণশত্রু’ তা হয় না। থিয়েটার থেকে সিনেমার যাত্রাপথ আপনি কীভাবে দেখছেন?
আমি কিন্তু জানেন, চিরকাল ‘পপুলার স্পেকট্রাম’-এ কাজ করে এসেছি। এটা কোনও অহংকার নয়। থিয়েটার বলুন, সিনেমা বলুন, যা যা কাজ করেছি, অনেক মানুষ তা দেখেছেন। আপনি যেটা বলছেন, তাকে আমি এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি—  এক সময় ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ হল ভরিয়ে লোকে দেখত। সেখানে ‘গণশত্রু’ পাঁচ জন বা পনেরো জন দেখত। সংখ্যার বিচারে কোনওদিনই ‘গণশত্রু’ বা ‘হারবার্ট’ অনেক লোক দেখবেন না। যাঁরা ‘বেদের মেয়ে..’ দেখেছেন, তাঁরা হয়তো গণশত্রু দেখেননি। কিন্তু দু’পক্ষই, দু’পক্ষের কনটেন্ট নিয়ে খুশি ছিলেন। এখন মুশকিল হচ্ছে, ওই লাইনটি মুছে গেছে। এখন যিনি ‘গণশত্রু’ দেখবেন, তাঁর মনে হবে, আমি কেন ‘বেদের মেয়ে..’ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছি। উল্টোটাও সত্যি। ফলে এখন কেউ আর নিজস্ব সাংস্কৃতিক জমি নিয়ে সুখী নয়। সবারই মনে হচ্ছে, আমি সব দেখব, সব করব। 

এক্ষেত্রে কি অনুঘটকের কাজ করেছে করোনা পরিস্থিতি এবং ওটিটির জনপ্রিয় হয়ে ওঠা? 
ওটিটি মূলত যে পার্থক্য তৈরি করেছে, তা হয়েছে সিনেমাতে। থিয়েটারে এর প্রভাব নেই। থিয়েটার যাঁরা দেখেন, তাঁরা হলে গিয়েই দেখছেন। ওটিটির কনটেন্ট সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বাড়ার মতো করেই বাড়ছে। তবে আমার ধারণা, এটা আরও বাড়বে এবং এক সময় মানুষ এই এত বেশি কনটেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে ক্লান্ত হয়ে। বিদেশে এটা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, সেখানে ওটিটি’র সাবস্ক্রাইবার কমে যাচ্ছে। আসলে মানুষের গ্রহণ ক্ষমতার তো একটা সীমা আছে। সব ছবি তো আর ভালো হবে না। 

‘বল্লভপুরের রূপকথা’ নিয়ে কী ভাবছেন? দর্শক একে গ্রহণ করবেন?
আমি ঠিক জানি না। একটা টিজার বের করেছি। প্রশংসিত হয়েছে। ট্রেলরও সকলের প্রশংসা পেয়েছে। যে গানটি বের করেছি, খানিকটা প্রশংসিত। নানা রকম প্রমোশন করছি। ‘মন্দার’ তৈরি করেছি। দর্শকের ভালো লেগেছে। এই কাজটিও মন্দ হয়নি বলেই আমাদের ধারণা। ছবিতে বিনোদন আছে। একটা ভালো ছবি করতে গেলে, যা যা পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা করতে হয়, সবটাই আমরা করেছি। 

ছবিতে বিনোদন আছে বললেন। রাজনীতি কি আছে? 
না, রাজনীতি নেই। গল্পেই নেই। 

এত কাজের মধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর অবসর মেলে?
দু’জনেই একসঙ্গে কাজ করি। মধুরিমাও ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সময় একটা ঠিক বেরিয়ে যায়। তবে আমাদের এই সময় কাজ করতে হবে। দৌড়তে হবে। মহামারীর সময়টা তো বসেই কেটেছে। তাই এখন আমাদের ছুটতে হবে।

21st     October,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ