বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

তৃণমূল-সিপিএম তুমুল বিতণ্ডা বোর্ড মিটিংয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: তৃণমূল ও সিপিএম কাউন্সিলারদের বাকবিতণ্ডায় ‘ব্যাহত’ শিলিগুড়ি পুরসভার বোর্ড মিটিং। বুধবার বোর্ড মিটিংয়ের শেষলগ্নে উভয় দলের কাউন্সিলারদের একাংশ বাকযুদ্ধে জড়ান। কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে সিপিএম কাউন্সিলাররা সভা ‘ওয়াক আউট’ করার চেষ্টা করেন। তখন নিজের চেয়ার ছেড়ে বিরোধী বেঞ্চের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন মেয়র গৌতম দেব। ফের সভার স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়। তবে এদিন সভায় পদ্ম শিবিরের কাউন্সিলাররা নীরব ছিলেন। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। 
পরে মেয়র বলেন, লোকসভা ও বিধানসভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তর্ক হয়। এখানকার বোর্ড মিটিংয়েও তা হয়। কিন্তু, বিরোধীরা একটুতেই ধৈর্য হারান। কারণ, বর্তমান পুরবোর্ডের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওদের কিছু বলার নেই। ওরা বিভিন্ন অছিলায় সভা ছেড়ে চলে যেতে চায়। আমরা তা চাই না। সভায় বিরোধীদের যোগ্য মর্যাদা দিই। তাই নিজের চেয়ার ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। 
এদিন পুরসভার হলঘরে ২৫তম বোর্ড মিটিং হয়। বেলা পৌনে ২টো নাগাদ সভায় বিদ্যুতের খুঁটিতে কেবল তারের সমস্যা নিয়ে বলতে ওঠেন সিপিএম কাউন্সিলার শরদিন্দু চক্রবর্তী। সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলার অলোক ভক্ত টিপ্পনি কাটেন। তিনি বলেন, এটা বিগত বামফ্রন্ট জমানার সমস্যা। তাঁর এই বক্তব্যে আগুনে ঘি পড়ে! প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম কাউন্সিলার মুন্সি নুরুল ইসলাম তীব্র প্রতিবাদ করেন। সঙ্গে সঙ্গে সিপিএমের বাকি তিন কাউন্সিলার সরব হন। পাল্টা অলোক সহ তৃণমূল কাউন্সিলারদের একাংশ জবাব দিতে শুরু করেন। 
মেয়র চিৎকার করেও অলোককে থামাতে পারছিলেন না। চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী ক্রমাগত বেল বাজিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হন। সিপিএম কাউন্সিলাররা সভাকক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন মেয়র নিজেরে চেয়ার ছেড়ে সভাকক্ষের দরজার কাছে যান। দলীয় কাউন্সিলার অলোককে শান্ত করার পাশাপাশি সিপিএম কাউন্সিলারদের চেয়ারে বসান। এরপর ফের সভার কাজ শুরু হয়। এতে স্বল্প সময়ের জন্য সভা ব্যাহত হয়। পরে সিপিএম কাউন্সিলার শরদিন্দু বলেন, পুরসভার বোর্ড সভায় বিরোধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা মেয়র বলেও শাসকদলের কাউন্সিলাররা তা মানেন না। সর্বক্ষণ শাসকদলের কাউন্সিলাররা আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেন। ধমকে, চমকে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করেন। এরই প্রতিবাদ করা হয়েছে। 
সভায় নিঃশব্দ থাকলেও পরে শাসকদলের সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন। তিনি বলেন, প্রতিটি সভাতেই বিরোধীদের বলতে বাধা দেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। ওরাই পুরসভার গরিমা নষ্ট করছেন। এজন্য এদিন সভায় নীরব থেকে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। 
এদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলাররা অবশ্য বিরোধদের বক্তব্য মানতে নারাজ। তৃণমূল কাউন্সিলার অলোক ভক্ত বলেন, বিগত বামফ্রন্ট জমানার পাপ স্বীকার না করে সিপিএম কাউন্সিলাররা বর্তমান বোর্ডের সমালোচনা করেন। এর প্রতিবাদ করেছি। 
ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, বিগত বামফ্রন্ট জমানায় বিরোধীদের মর্যাদা দেওয়া হতো না। সভায় কোনও কথাই বলতে দেওয়া হতো না। এদিন মেয়র গৌতম দেব যা করেছেন, তা নজিরবিহীন। শিলিগুড়ি পুরসভার ইতিহাসে এভাবে বিরোধীদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি।  নিজস্ব চিত্র

29th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ