বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

ধুঁকছে মাতৃসদন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সিজার, ভোগান্তি

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি পুরসভার প্রসূতি চিকিৎসাকেন্দ্র মাতৃসদন ধুঁকছে।  দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে সিজার। সন্ধ্যার পর ভর্তি নেওয়া হয় না প্রসূতি। অথচ এক সময় মাতৃসদন শিলিগুড়ি পুরসভার একটা বড়অংশের মানুষের বিশেষ করে গরিবদের উন্নত চিকিৎসার বড় ভরসা ছিল। শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকার প্রসূতি মায়েরাও সিজার ও সন্তান প্রসবের জন্য মাতৃসতনকে ভরসা করতেন। মাতৃসদনের প্রতি মানুষের এই আস্থায় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি চিকিৎসায় চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এখন সেই মাতৃসদনে শুধু সাধারণ প্রসব হয়। ১৬টি বেড রয়েছে। কিন্তু, সন্ধ্যার পর কোনও প্রসূতি এলে ভর্তি নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। 
ডাবগ্রামের মাতৃসদন সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসার শুরুতেই প্রসূতিদের এই সমস্যার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য প্রসবের ক্ষেত্রে তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতাল বা মোডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। মাতৃসদনের এই হাল নিয়ে শহরের একটি অংশের মানুষ বিশেষ করে গরিবরা হতাশ। একসময়  মাতৃসদনে বিপিএলের পাশাপাশি এপিএল পরিবারের প্রসূতিরাও নিশ্চিন্তে সিজার করাতেন। 
সেই মাতৃসদনের এভাবে ধুঁকতে থাকার জন্য ডাক্তারের অভাবকে অন্যতম কারণ বলে জানান শিলিগুড়ি পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সঞ্জীব মজুমদার। তিনি বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে সিজার বন্ধ রয়েছে। এর অন্যতম কারণ অ্যানাস্থেসিস্টের অভাব। একেরপর এক  বিজ্ঞাপন দিয়েও অ্যানাস্থেসিস্ট পাওয়া যাচ্ছে না। আরএমও’র অভাব রয়েছে। তারজন্যও বিজ্ঞাপন দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। সেকারণেই সন্ধ্যার পর আপাতত প্রসূতিদের ভর্তি নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। একজন আরএমও রয়েছেন। তাঁর বয়স হয়েছে। মাঝেমধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এখন তিনজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন করে জেনারেল ফিজিশিয়ান, চোখের ডাক্তার, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়ে চলছে এই মাতৃসদন।  ডাক্তারের অভাবের পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবও এখানে শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। প্রসূতিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্যাথলজিক্যাল টেস্টের প্রয়োজন হয়। উন্নত পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ল্যাব না থাকা একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে।  অথচ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা পরিষেবার প্রসারের লক্ষ্যে শিলিগুড়ি পুরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু হয়েছে। সেখানে মাতৃসদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসূতি চিকিৎসা কেন্দ্রের এই বেহাল দশা নিয়ে নাগরিকরা হতাশ।  ডাঃ সঞ্জীব মজুমদার বলেন, ডাক্তার খোঁজার পাশাপাশি এখানকার পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। প্রসূতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাফি খুবই জরুরি। পুরসভা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন কিনবে। পাশাপাশি মাতৃসদনে পলি ক্লিনিক চালু করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তারও অনুমোদন শীঘ্রই মিলবে। পলিক্লিনিক হয়ে গেলে এখানে  প্যাথোলজিক্যাল ল্যাব শক্তিশালী হবে। ইতিমধ্যে‌ই ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ম্যাক অ্যালাইজা টেস্ট এখানে চালু হয়েছে।  ডাক্তারের ব্যাপারে স্বাস্থ্যদপ্তরের সাহায্য নেওয়া হবে।  এদিকে, বারবার  বিজ্ঞাপন দিয়েও ডাক্তার না পাওয়ার ক্ষেত্রে কম বেতনকে অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে চিকিৎসক মহল। মাতৃসদনে একজন আরএমও ৫০ হাজার টাকা বেতন পান। শিলিগুড়িতে অনেক নার্সিংহোম  হয়েছে। সেখানে এর থেকে বেশি টাকা উপার্জন হয়। এ কারণেই পুরসভার বিজ্ঞাপনে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। একই কারণে অ্যানাস্থেসিস্টও পাওয়া যাচ্ছে না।

6th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ