বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

কৃত্রিম পায়ে বিশ্বজয়, অনুপ্রেরণার নাম তুষার

মঙ্গল ঘোষ, গাজোল: এরই নাম জীবন! কিছু কেড়ে নেয়। আবার ফিরিয়েও দেয় অনেক কিছু। তুষার পালের ক্ষেত্রে কথাটা ভীষণ সত্যি। কৃত্রিম পা নিয়ে বিশ্বজয় করে তিনি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।
সালটা ১৯৯৩। বয়স তখন মেরেকেটে ১০। চুটিয়ে ক্রিকেট খেলতেন পুরাতন মালদহের তুষার পাল। স্বপ্ন ছিল দেশের হয়ে খেলা। সে বছর শহরের মঙ্গলবাড়িতে বাঘাযতীন রোডে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হয় তাঁর পা। জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা পায়ের পাতা কেটে বাদ দিয়ে দেন তুষারের। তারপর ক্রাচ নিয়ে চলাফেরা। আঁধার  নেমে আসে জীবনে। বছর খানেক পর কৃত্রিম পা লাগানোর পর পথেঘাটে অনেকে ব্যঙ্গ করছেন। মন খারাপ হলেও তেমন গায়ে মাখতেন না তুষার। মহাভারতের অর্জুনের মতো লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। ক্রিকেটের প্রতি আবেগ এবং ভালোবাসা টানে কৃত্রিম পা নিয়ে ১৯৯৪ সালে ব্যাট হাতে মাঠে ফিরে আসেন। 
এক দশকের বেশি সংগ্রামের পর স্বপ্নপূরণ। ওই কৃত্রিম পা নিয়েই ২০১৯ সালে ভারতের বিশেষভাবে সক্ষমদের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ। ইংল্যান্ডে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেন তুষার। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে  উইকেটরক্ষক এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর অবদান নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। তুষার এখন জেলার গর্ব এবং অনুপ্রেরণা। তাঁর বার্তা, প্রতিবন্ধী মানেই ঘরে বসে থাকা নয়। লড়াই করে মাথা উঁচু করে বিশ্বজয় করা। তুষার পাল বলেন, ক্রিকেট আমার ভালোবাসা। ব্যাট দেখলেই অন্য আবেগ কাজ করে।  সেই টানেই পা হারানোর পরেও মাঠে ফিরেছি। এক সময় পায়ের জন্য মানুষ আমাকে কটাক্ষ করত। আজ তারাই সম্মান দেয়। অনেক প্রতিবন্ধী রয়েছে, যারা ক্রিকেট ভালোবাসে। তাদের পাশে থেকে উৎসাহ দেব। তুষারের বাড়ি পুরাতন মালদহ শহরের ১৫নং ওয়ার্ডের শিবরামপল্লি এলাকায়। বয়স ৪০ বছর। তিনি গাজোলের রানিগঞ্জ কেসি হাইস্কুলের শিক্ষক। ১৯৯৪ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ফর  ডিফারেন্টলি এবেলড অর্থাৎ প্রতিবন্ধী টিমে সুযোগ পান। সেই সময় দেবদূতের মত তুষারবাবুর পাশে  দাঁড়ান সংশ্লিষ্ট অ্যাসোশিয়েশনের উৎপল মজুমদার সহ অন্যরা।  ২০১২ সালে ভারতীয় প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলে  সুযোগ পাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর দেশের হয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে গিয়ে ভালো পারফরমেন্স করেন তুষার। এখনও তাঁর লড়াই জারি রয়েছে। প্রতিদিন মালদহ ডিএসএ মাঠে অনুশীলন করেন। তাঁর স্বপ্ন আগামী দিনে প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের পাশে থেকে উৎসাহ দেওয়া। স্বামীকে নিয়ে গর্বিত স্ত্রী মুক্তি হাজরা পাল। তাঁর  মন্তব্য, মানসিকভাবে ও খুব শক্তিশালী। খেলাধুলো করতে সব সময় সাপোর্ট করেছি।

6th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ