Bartaman Patrika
সাপ্তাহিক বর্তমান
 

খাবার নিয়ে নানা ভুল ধারণা 

খাবার নিয়ে প্রচলিত এমন অনেক ধারণা আছে যা একেবারেই ভুল। কলা খেলে নাকি শ্লেষ্মা হয়। ইউরিক অ্যাসিডে মসুর ডাল নিষিদ্ধ। এসব কি ঠিক? খাবার নিয়ে নানা ভুল ধারণা ভেঙে দিলেন পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখোপাধ্যায়। 

খাবারের সঙ্গে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট মেশানো উচিত নয়: প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট শরীরের জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু যদি আমরা সাধারণ খাদ্যে থেকেই খাই তাহলে বাড়তি প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া বাড়তি প্রোটিন খেলেই যে শরীর ভালো থাকবে তার কোনও অর্থ নেই। অতিরিক্ত প্রোটিন তাঁদের খেতে হয় যাঁরা দেহসৌষ্ঠব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন, অ্যাথলিট কিংবা ডায়ালিসিস চলেছে এমন ব্যক্তিদের। অথবা অনেকদিন ধরে শরীর খারাপ, রোগা হয়ে গিয়েছেন, অপুষ্টিতে ভুগছেন এমন ক্ষেত্রেও প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যায়। না হলে একজন সুস্থ সবল মানুষের মোট ওজনের প্রতি কেজি ১ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণই যথেষ্ট।
মোদ্দা বিষয়টি হল মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, সয়াবিন পর্যাপ্ত মাত্রায় যার যতটা প্রয়োজন ততটা খেলেই আর কিছু দরকার নেই। তাছাড়া প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাব বললেই তো হল না, হজম করতেও হবে। বিনা কারণে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খেলে পেটের গণ্ডগোল হবে এবং তা সামলানো মুশকিল হবে।
সূর্যাস্তের পর শর্করাজাতীয় খাদ্যও খাওয়া উচিত নয়: এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কিছু নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী মানুষ আছেন যাঁরা সূর্যাস্তের পর শর্করাজাতীয় খাদ্য খান না। এই রকম নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ছাড়া সূর্যাস্তের পরে শর্করাজাতীয় খাদ্য খেতে কোনও নিষেধ নেই।
আসলে সূর্য অস্ত যাওয়ার ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই ডিনার সেরে ফেলা হয়। অনেকে আরও খানিকটা রাত জাগেন। এমন ব্যক্তিরা সন্ধেবেলায় একটু স্ন্যাক্স খান। সেই টিফিন অনেক সময়েই হয় পিৎজা, ইডলি, ধোসার মতো মুখরোচক খাবার। এই ধরনের খাদ্যগুলি সম্পূর্ণভাবে কার্বোহাইড্রেট জাতীয়। ফলে শরীরে ক্যালোরি অনেকখানি প্রবেশ করে। এরপর বেশি রাতে খাবার খাওয়ার সময়েও পাতে থাকে ভাত, রুটির মতো শর্করা। পর পর দু’বার শর্করাজাতীয় খাদ্য খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এই কারণেই সূর্যাস্তের পর শর্করাজাতীয় খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারে অনেকের অনীহা থাকে।
কার্বোহাইড্রেট সবসময় ভেঙে গিয়ে গ্লাইকোজেন তৈরি করে যা আমাদের পেশিতে এবং লিভারে গিয়ে জমা হয়। এখন কেউ বাড়তি কার্বোহাইড্রেট খেলে তা পেশি ও লিভারে জমা হওয়ার পর তা ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। সেটা সম্পূর্ণ আলাদা বায়োকেমিক্যাল মেকানিজমে হয়। মোদ্দা বিষয়টা হল, বাড়তি কার্বোহাইড্রেটই ফ্যাটে পরিণত হয়। তা সে ভোরবেলা খান, দুপুরে বা রাতেই খান। অতএব শুধু রাতে কার্বস খেলে যে তা বার্ন হবে না, এমন কোনও কথা নেই।

ডায়েট মানে পেটে কিল মেরে থাকা: 
অনেকেরই তাই ধারণা। অনেকেই পেটে কিল মেরে থাকেন। না খেয়ে থাকেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন। সারাদিনে কেউ কেউ শুধু আপেল খেয়ে থাকেন। আপাতদৃষ্টিতে দেখেশুনে মনে হয় ওজন কমছে। তবে সত্যিটা হল এভাবে ওজন কমলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাত্রাও যথেষ্ট। 
কারণ অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীরের বিপাকক্রিয়ার হার কমে যায়। শরীর ভাবে খাবারের অভাব হচ্ছে তাই ফ্যােট বার্ন হওয়ার বদলে দেহে ফ্যাট জমিয়ে রাখতে থাকে। শরীর দুর্বল লাগে, সর্বক্ষণ ক্লান্তিবোধ করে। এমনকী আপাতভাবে পেটে কিল মেরে থাকলে শরীরের রোজকার কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে এনার্জির প্রয়োজন হয়, তা শরীর পাবে না। কারণ এই শক্তি আসে শর্করাজাতীয় খাদ্য থেকে। একেবারে পেটে কিল মেরে থাকলে সেটুকু শর্করাও পাবে না শরীর। এর ফলে পেশিতে ও লিভারে জমে থাকা গ্লাইকোজেন ভাঙতে থাকবে দেহের সিস্টেম। সেই গ্লাইকোজেন শেষ হয়ে গেলে তখন শরীর পেশিগুলিকে ভাঙতে থাকবে। ক্রমশ পেশির ক্ষয় হবে ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়বে। শেষে শরীর হাত দেবে জমে থাকা ফ্যাটে। ফ্যাট ভাঙতে থাকলে তখন শরীরে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে তৈরি হবে কিটোনবডি যার ফলে শরীরের পুরো মেকানিজমটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

ফ্যাট খেলেই মোটা
এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের শরীরে ফ্যাটের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। প্রথমত আমাদের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে ফ্যাটজাতীয় উপাদান দিয়েই তৈরি। ফ্যাট আমাদের মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া ফ্যাট থাকে বলেই ভিটামিন এ, ডি, ই, কে-এর মতো ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি শরীরে শোষিত হয়। ফলে ফ্যাট বাদ দিলে শরীরে ভিটামিনের অভাব ঘটবে। তাই বলে অতিরিক্ত ফ্যাট, অর্থাত্‍ বেশি ভাজাভুজি, তেলের জিনিস খাওয়া উচিত নয়। ফ্যাট খেতে হবে শরীরের প্রয়োজন মতো। বেশি খেলে তো ওজন বাড়বেই।

কলা খেলে বুকে শ্লেষ্মা হয়
কলা খেলে শ্লেষ্মা বা কফ হওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই। কলা খেলে ঠান্ডা লাগারও কোনও আশঙ্কা থাকে না। কফ বেরনো বা শ্লেষ্মা তৈরি হওয়ার সঙ্গে কলার কোনও যোগাযোগ নেই। উল্টে কলা খেলে শরীরে অনেক প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন প্রবেশ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কারণ কলায় থাকে সোডিয়াম-পটাশিয়াম যা হার্টের স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপযোগী।

ডায়াবেটিক ও হার্টের রোগীরা ডিম খাবেন না
এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। আসলে ডিমের কুসুমে অনেকখানি কোলেস্টেরল থাকে বলে সুগার ও হার্টের রোগী গোটা ডিম খেতে ভয় পান। অথচ সত্যিটা হল, ডিমের সাদা অংশের মধ্যে প্রচুর প্রোটিন আছে। আছে ক্যালশিয়াম। এছাড়া ডিমের কুসুমে রয়েছে প্রচুর এইচডিএল, ভিটামিন, খনিজ। ফলে পুষ্টিগুণ এতটাই বেশি যে ডিম না খেলেই বরং লোকসান।

খাবার সময় জল পান উচিত নয়
কথাটি আংশিক সত্যি। কারণ খাবার খাওয়ার সময় আমাদের পাচনতন্ত্রে একাধিক এনজাইম বের হয়। এই এনজাইম খাবার হজম করতে সাহায্য করে। ফলে খাদ্য গ্রহণের সময়ে অতিরিক্ত জল পান করলে এনজাইমগুলি লঘু হয়ে যায়। বিশেষ করে ফ্যাটজাতীয় খাবার খেলে তারপর সঠিকভাবে এনজাইমের সহায়তা না পেলে ফ্যাট হজম হতে চাইবে না। তাতে দেখা দেয় আর এক সমস্যা। বিশেষত অ্যাসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই খাবার খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পর জল পান করতে বলা হয়।

ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে
ছোলা, মসুর ইত্যাদি ডাল মাত্রাতিরিক্ত খেলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে প্রেশার কুকারে রান্না করা হলে সেক্ষেত্রে অনেক সময় পিউরিন বন্ড ভেঙে যায়। এভাবে ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়। এছাড়া আরও একটা কথা বলা দরকার। তা হল, ইউরিক অ্যাসিড জলে দ্রবণীয়। তাই পরিমাণ মতো জল পান করলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে না।

চিনি খেলে কৃমি হয়
চিনি খেলে বা মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে কৃমি হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ, শরীরে কোনও প্যাইথোজেন থাকলে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে তা দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত খুব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাচ্চারা যদি যাতায়াত করে, হাত দিয়ে মাটি ঘাঁটে ও সেই হাত মুখে দেয় তাহলে ওই হাতের মাধ্যমে মুখে ঢুকে যায় কৃমি বা ডিম। এরপর অন্ত্রে গিয়ে এই পরজীবী বাসা বাঁধে। খাদ্যবস্তুতে প্রচুর সুগার থাকলে ওই পরজীবী দ্রুত বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

পক্স হলে নিরামিষ খেতে হয়
একেবারেই নয়। আগে পক্স হওয়ার সঙ্গে ধর্মীয় একটা যোগ বোঝার চেষ্টা করা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। আগে তো বাড়িতে কারও পক্স হলে মসুর ডালের প্রবেশ অবধি বন্ধ হয়ে যেত! এখন মানুষ সমস্যার পিছনে প্রকৃত কারণটি জানেন। খুব ভালো করেই বোঝেন যে এই সকল জটিলতার পিছনে দায়ী আসলে একটি ভাইরাস। 
এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে একেবারে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে শরীরে অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের সুযোগ পেয়ে যায়। আগে অনেকসময়ই এই কারণে পক্সের পরেই কারও কারও নিউমোনিয়াও হতো। বিশেষ করে পক্স হলে অতিরিক্ত ওজন কমতে থাকে। এই কারণেই পক্স হলে হাই প্রোটিন হাই ক্যালোরি ডায়েট খেতে হয়। মোট কথা পক্সের সমস্যা মেটাতে হলে ফল, শাকসব্জি তো খেতেই হবে, তার সঙ্গে খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। তাই পক্স হলেই পাতে রাখুন মাছ, ডিম, ডাল, চিকেন স্টু  ইত্যাদি। 

খালি পেটে ফল খেতে নেই
ফল অত্যন্ত ভারী খাদ্য। ফলে থাকে অনেকখানি কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ। খালি পেটে ফল খেলে পেট ভরে যাবে। ফলে অন্যান্য খাবারও আমরা খেতে পারব না। আবার রক্তে সুগারের মাত্রাও হাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিদিন এমন অভ্যেস বজায় রাখলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে প্রোটিনের মতো উপাদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই কারণেই লা়ঞ্চ, ব্রেকফাস্টের পরে ফল খেতে বলা হয়।

মাছের তেল অপকারী
মাছের তেল সম্পূর্ণ অপকারী নয়। মাছের তেলে থাকে উপকারী ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের পক্ষে অত্যান্ত উপযোগী। ফলে মাছের তেল খাওয়াই যায়। তাই বলে খুব বেশি বড় মাছ না খাওয়াই ভালো। 

 বড় মাছে স্বাস্থ্যাহানি
বড় মাছ খাবেন না বলে সবসময় বাটা, পোনা, মৌরলা খেতে হবে এমন কোনও অর্থ নেই। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ নিশ্চিন্তে খাওয়াই যায়। তাতে শরীরের কোনওরকম ক্ষতি হয় না। এই মাছের তেলও আমাদের হার্টের পক্ষে উপকারী।

আনারস এবং দুধ একসঙ্গে খেলে মৃত্যু
প্রাণহানি হবে কি না জানা নেই, তবে একত্রে এই দুটি বস্তু খেলে কারও কারও ডায়েরিয়া হয়। আনারসে থাকে ব্রোমেলিন এনজাইম। এই এনজাইম দুধের কেসিন প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দুধকে দইয়ে রূপান্তরিত করতে পারে। ব্রোমেলিন এনজাইম অনেকে হজম করতে পারেন না। ফলে বমি, ডায়েরিয়া শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 ঘি খেলে হাঁটু সচল হয়
হ্যাঁ, অনেকেরই ধারণা ঘি খেলে তা পেট থেকে হাঁটুতে চলে যায় ও হাঁটুকে সচল রাখে। তবে ঘি হোক বা অন্য যে কোনও খাদ্যবস্তু, তা স্টমাকে পৌঁছনোর পর প্রথমে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দ্বারা ভেঙে যায়। এরপর নানা এনজাইম দ্বারা সেটি আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পুষ্টি কণায় পরিণত হয়। মোদ্দা বিষয়টা হল কখনওই পেট থেকে সোজা হাঁটুতে পৌঁছে জ্যামড লক-এর মতো লকড হাঁটু সচল করতে পারে না!

জোড়া কলা খেলে যমজ শিশু
এও এক মিথ। জোড়া কলা খেলে যমজ সন্তান হওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না। কলা পাকস্থলীতে হজম হয়ে যায়। আর সন্তান উত্পাদনের পদ্ধতি সম্পূ্র্ণ ভিন্ন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় একটি ওভাম, স্পার্ম-এর। কোনওভাবে সেই ডিম্বাণু থেকেই দুটি জাইগোট বা ভ্রূণ তৈরি হয়। তখন হয় যমজ সন্তান। ফলে কলা খাওয়ার সঙ্গে সমগ্র বিষয়টির যে সম্পর্ক নেই সেকথা আলাদা করে বলার দরকার নেই।
জন্মের পর মুখে মধু দিলে গলার স্বর শ্রুতিমধুর হয়:  একেবারেই নয়। বাচ্চার জন্মের পর তার শুধুই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার কথা। অন্য কোনও খাবার তাকে দেওয়া যাবে না। আর বাচ্চা কেমনভাবে কথা বলবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার পিতা-মাতা, পরিবারের বাকি লোকেরা তার সঙ্গে কেমনভাবে কথা বলছে তার উপর। কারণ বাচ্চা সবসময় বড়দের দেখেই আচার আচরণ, কথা বলার ধরন শেখে।

জ্বর হলে টক খাবেন না
এই কথারও সত্যতা নেই। জ্বর হলে বুঝতে হয় শরীরে কোনও সংক্রমণ হয়েছে। সেই সংক্রমণের সঙ্গে লড়ার জন্য  দরকার ইমিউনিটি বৃদ্ধির। আর তা বাড়াতে পারে লেবুজাতীয় ফল ও দইয়ের মতো টকজাতীয় খাদ্য। পাতিলেবু, কমলালেবু, মুসাম্বির মতো ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দইয়ে থাকে প্রচুর ভিটামিন ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া। ফলে এই ধরনের খাদ্য খেলে বরং উপকার হওয়ার কথা।

ভাত খেলে জ্বর আসে
ভাত খাওয়ার সঙ্গে জ্বর আসার কোনও সম্পর্কই নেই। বরং জ্বরের সময় ভাত খেলে শরীরের উপকার হওয়ার কথা। আসলে ভাতে থাকে অনেকখানি জলীয় উপাদান। জ্বর হলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা বাড়ে। ফলে ভাত খেলে বরং ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা কমে।

ভাতের তুলনায় রুটি দ্রুত ওজন কমায়
হিসেব মতো দেখতে গেলে ভাতই বরং ওজন দ্রুত কমাতে পারে। কারণ বেশিরভাগ বাড়িতে চাল ফুটিয়ে ফ্যান ফেলে দিয়ে ভাত খাওয়া হয়। ফ্যানের সঙ্গে অনেকখানি শর্করাও চলে যায়। তাহলে ভাত খেলে শরীরে অনেক কম ক্যালোরি প্রবেশ করার কথা। তবে তারপরেও কেন সকলে রুটির জয়গান গায়? আসলে রুটির সঙ্গে থাকে প্রচুর খাদ্যতন্তু বা ফাইবার। রুটির শর্করা ভাতের তুলনায় অনেক বেশি জটিল শর্করা। তাই রক্তে ভাতের তুলনায় রুটি ধীরে ধীরে সুগারের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে তোলে। হজম হয় দেরিতে। পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। খিদের চোটে উল্টোপাল্টা খাওয়া হয় না।
অন্যদিকে ভাত থেকে দ্রুত শর্করা বেরিয়ে যায়। হজমও হয় দ্রুত। এই কারণে কিছুক্ষণের মধ্যে খিদে পেয়ে যায়। ফলে ভাত খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একজন ব্যক্তি অন্য খাবার খেয়ে ফেলেন। বাড়তে শুরু করে ওজন। তবে ওজন বৃদ্ধিজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে বলা যায়, ভাতের সঙ্গে সঠিকমাত্রায় শাকসব্জি খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যায়।

শাক খেলে ডায়েরিয়া
শাকপাতা অবশ্যাই শরীরের পক্ষে উপযোগী। তাই বলে মাত্রাতিরিক্ত শাকপাতা খেলে সমস্যা। হবেই। কারণ শাক পাতা হল ইনসলিউবল ফাইবার। বেশি মাত্রায় শাকপাতা অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। শাকপাতা বেশি খেলে আবার হতে পারে কনস্টিপেশনের সমস্যাও!

লাল চা খেলে কালো, দুধ চা খেলে ফর্সা
ত্বকের রং কেমন হবে তা সম্পূ্র্ণভাবে নির্ভর করে বংশগতির উপর। ফলে চা পানের সঙ্গে ত্বকের রঙের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ, দেখা গিয়েছে লাল চা পানের অভ্যেস ত্বক ভালো রাখে।

রান্নার তুলনায় কাঁচা শাকসব্জি বেশি উপকারী
কাঁচা শাকসব্জি খেয়ে হজম করতে পারলে সমস্যা ছিল না। তাতে বরং ভালোই হতো। জ্বালানি খরচ বেঁচে যেত।  সমস্যাটা হল কাঁচা শাকসব্জি আমরা হজম করতে পারব না। সামান্য হলেও সেদ্ধ করতে হবে। তাছাড়া কাঁচা শাকসব্জিতে অনেকসময়েই প্রচুর কীটনাশক থাকে। থাকে নানা জীবাণু। তাই শাক, পাতা, সব্জি, ভালোভাবে ধুয়ে ও ভাপিয়ে খেলে হজমে সুবিধা। তবে গাজর, শসা, বীট, পেঁয়াজের মতো সব্জি তো আমরা কাঁচাই খাই। অতএব কিছু সব্জি কাঁচা খাওয়া যায় সেগুলি আমরা খাই, আর কিছু সব্জি কাঁচা খাওয়া যায় না, সেগুলি আমরা খেতে পারি না।

মাছের মুড়োয় চোখের জ্যোতি বাড়ে
মাছের মুড়োয় প্রচুর ফসফরাস থাকে। ফসফরাস চোখের পক্ষে খুব ভালো। তাই বলে প্রতিদিন মাছের মুড়ো খেলে চলবে কেন? সব কিছুরই একটা মাত্রাজ্ঞান থাকা দরকার। বেশি কোনও কিছুই খাওয়া ভালো নয়।

আম খেলে আমাশয়
আমের মরশুমে একটা দুটো আম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। তাই বলে একটার পর একটা আম খেলে আমাশয় বা ডায়েরিয়া হওয়াই স্বাভাবিক। বেশি মাত্রায় আম খেলে পেট ব্যথা, পেটের সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। 

মুরগির থেকে হাঁসের ডিমে বেশি পুষ্টি
ডিমের চাইতে পুষ্টিকর কিছু আর হতে পারে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগা মানুষ, বাড়ন্ত বাচ্চার জন্যা ডিম অত্যন্ত জরুরি খাদ্য উপাদান। সাধারণভাবে ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে প্রোটিন থাকে ১২-১৩ গ্রাম। শর্করা সামান্য। ফ্যাট থাকে ১০ গ্রাম। কোলেস্টেরল ৪০০ মিলিগ্রাম। ক্যালশিয়াম আছে প্রতি ১০০ গ্রামে ৪৫-৫৫ মিলিগ্রাম আর ফসফরাস আছে ১৮০-১৯০ মিলিগ্রাম। এছাড়াও থাকে প্রচুর উপকারী খনিজ যেমন আয়রন, আয়োডিন, সেলেনিয়াম, থায়ামিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, ক্যারোটিন (রেটিনল)-এর মতো ভিটামিন। থাকে ভালো মাত্রায় ভিটামিন ডি এবং বি১২।  জানার বিষয় হল, হাঁসের ডিমেও পুষ্টিগুণ থাকে একই। বরং মুরগির ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিমে ক্যালোরি আর কোলেস্টরল থাকে একটু বেশি।

মদ্যপানের সময় মাংস খেলে শরীরের ক্ষতি হয় না
যাঁরা মদ্যপান করেন তাঁরা ছোট থেকেই শুনে আসছেন বেশি মদ্যপান করলে লিভার খারাপ হয়। তাঁদের ধারণা লিভার হল একটি মাংসপিণ্ড। মদ পেটে ঢোকার পর কাউকে হাতের কাছে না পেয়ে সরাসরি ওই মাংসপিণ্ডকেই আক্রমণ করে! যাইহোক, সত্যিটা হল, মদ শরীরের পক্ষে সম্পূর্ণ টক্সিক বা ক্ষতিকর পদার্থ। তাই পাকস্থলী ও পরিপাকতেন্ত্র প্রবেশের পর অ্যাালকোহল দ্রুত রক্তে মিশে যায়। তখন শরীর চায় ওই ক্ষতিকর পদার্থকে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে। শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে পারে বা রক্ত শোধন করার ক্ষমতা রাখে একমাত্র লিভার। এমনিতেই লিভারকে সারাদিন ধরে শরীরে তৈরি হওয়া নানা ক্ষতিকর পদার্থ শোধন করতে হয়। এই ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ শোধন করার সময়  লিভারের অনেকগুলি কোষ মারা যায়। তবে লিভার পুনরায় কোষ তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। সমস্যা হল, যখন একজন ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করেন তখন লিভারকে বেশি কাজ করতে হয়। বেশি মাত্রায় লিভারের কোষ নষ্ট হয়। ক্রমশ লিভার খারাপ হতে থাকে। ফলে যাঁরা ভাবছেন মাংস দিয়ে মদ খেলে শরীরের কোনও ক্ষতি হবে না তাঁরা আরও বড় ভুল করছেন। কারণ মদে এমনিতেই প্রচুর ক্যালোরি থাকে। তারপর তেল-মশলা দেওয়া মাংস খেলে শরীরে আরও বেশি ক্যালোরি প্রবেশের আশঙ্কা থেকে যায়। এর ফলে দেখা যায় স্থূলত্ব, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের সমস্যা আবার লিভার ডিজিজের আশঙ্কাও বাড়ায়।

গরম জল ও লেবু খেলে চর্বি কমে
দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানোর সঙ্গে গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ  সকালে উঠে গরম জল পান করে অনেকের পেট সাফ করতে সুবিধা হয়। তাঁরা পান করতে পারেন এমন জল। এছাড়া লেবুর রসে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটমিন সি। তবে সেক্ষেত্রে লেবুর রস পান করতে হবে ঠান্ডা জল মিশিয়ে। কারণ গরমে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। মোট কথা অতিরিক্ত ওজন কমাতে হলে অবশ্যই এক্সারসাইজ করতে হবে। না হলে কোনও লাভ নেই।

সর্ষের তেলের থেকে অলিভ অয়েল বেশি ভালো
একেবারেই তেমনটি নয়। এসব হল পণ্য বিক্রির জন্য মার্কেটিং-এর কৌশল। সষের্র তেলে যথেষ্ট মাত্রায় থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, পুফা, মুফার মতো হার্টের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী উপাদান। তাই নিশ্চিন্তে খান সর্ষের তেল।

ব্রেকফাস্ট স্কিপ করলে মানুষ দ্রুত রোগা হয়
কখনওই প্রাতরাশ এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ দীর্ঘসময় খাবার খাওয়া এড়িয়ে চললে শরীরের মেটবলিজম স্লো হয়ে যায়। এর ফলে শরীর আরও বেশি ফ্যাট জমা করতে থাকে। তাই ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে চললে একজন ব্যক্তি রোগা হওয়ার বদলে মোটা হতে থাকেন।
পরামর্শদাতা রুবি জেনারেল হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশিয়ান।
লিখেছেন: সু্প্রিয় নায়েক

01st  January, 2025
কোন খাবারের পর কী খাওয়া উচিত নয়?

ভোজনরসিক বাঙালি খেতে বসলে হুঁশ থাকে না। ভাত-রুটি, ডাল-তরকারি, মাছ-মাংসে রসনা তৃপ্তি হয় বটে, কিন্তু এইসব খাবার কতটা প্রয়োজনীয়? কতটা ক্ষতিকর? আয়ুর্বেদে আছে সব খাবারই ভালো, কিন্তু সংযোগ দোষে তা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। দেশ, কাল, অগ্নি, কোষ্ঠ, সংস্কার, পরিহার, উপচার, সম্পদ —এইরকম ১৭টি বিরোধ খাদ্য এড়িয়ে চলা দরকার। কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবার খাবেন না? কোন খাবার দিনে খাবেন? কোন ফল কখন খেতে হয়? বিরুদ্ধ খাদ্য কেন খাবেন না? লিখেছেন ডাঃ সুবলকুমার মাইতি।
বিশদ

01st  January, 2025
রহস্য মুক্তি পোস্টমর্টেমে!

শুধুই মৃতদেহ কাটাছেঁড়া নয়, অপরাধীকে চিহ্নিত করতে জরুরি হয়ে পড়ে পারিপার্শ্বিক প্রমাণও। জানাচ্ছেন প্রবীণ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ অজয় গুপ্ত বিশদ

01st  January, 2025
পোস্টমর্টেম কী

খুনের কিনারা করার জন্য সবথেকে প্রয়োজনীয় যে তথ্য তার সিংহভাগই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে থাকে। হত্যার আগে ও সেই মুহূর্তে মনের অবস্থা, আচরণ কেমন ছিল ধর্ষক- হত্যাকারীর? সেটাই অপরাধের চালিকাশক্তি। আর সেই হদিশ মেলে পোস্টমর্টেমে। তদন্তের চাবিকাঠি ফরেনসিক রিপোর্ট। দেশের সাড়া জাগানো ধর্ষণ-প্রতিশোধমূলক 
হত্যার কথা লিখলেন সমৃদ্ধ দত্ত। ফরেনসিক এবং অটোপসি পরীক্ষা কী? খুন, অপঘাত, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা—সবকিছুরই প্রমাণ রয়ে যায় দেহে। খুন কি চাপা দেওয়া যায়? দক্ষ পরীক্ষক-বিশেষজ্ঞরা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উদ্ধার করে আনেন নিখুঁত সত্যকে। সেই কাজের ধরণ কেমন? ক্রাইমের আড়ালে থাকে এক অন্য থ্রিলার। ধাপে ধাপে এগন ফরেনসিক এক্সপার্টরা। কীভাবে? সেই রহস্যকথা শোনালেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ অজয় গুপ্ত। 
বিশদ

01st  January, 2025
গয়া কেন 
মুক্তিতীর্থ?

গয়াকে কেউ বলে তীর্থ, কেউ বলে ক্ষেত্র, কারও কাছে পরিচিত ধাম নামে। ইতিহাস-কিংবদন্তি-লোকথায় জড়িয়ে আছে গয়া। শুধু তীর্থই নয় পর্যটনেও গয়া প্রসিদ্ধ। শহরটির উত্থান ভৌগোলিকতাকেও হার মানায় পুরাণের রোমাঞ্চকর কাহিনি। এখানেই গয়াসুর বধ হয়। এখানেই আছে প্রাচীন অক্ষয়বট, বিষ্ণুপাদপদ্ম। এমন কোনও মহাপুরুষ নেই যিনি এখানে আসেননি। আছে রহস্যময় গদাধর শিলা আর প্রেতশিলা! মৃত‌্যুর পর মানুষের আত্মার ঠিকানা স্থির হয় এখানেই। মৃতের কল্যাণে আছে নানা বিধিব্যবস্থা। তবে সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যায় গয়ার নানা মিথ। কেন এটি মুক্তিতীর্থ? অজানা, রহস্যময় গয়ার কথা লিখেছেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিশদ

01st  January, 2025
ব্লু জোনের শতায়ু ডায়েট
সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়

নাম, যশ, অর্থ, ক্ষমতাশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং সুস্বাস্থ্য— তাহলে আপনি অবশ্যই ঈশ্বরের কাছ থেকে বরদান হিসেবে সুস্বাস্থ্যই বেছে নিতে চাইবেন! কারণ সুস্বাস্থ্য বজায় থাকলে যে কেউ বাকি সৌভাগ্য অর্জন করে নিতে পারেন। আর ভগ্নস্বাস্থ্য হলে বাকি সব সৌভাগ্য অধরা থাকতে বাধ্য! বিশদ

31st  December, 2024
দীর্ঘ জীবনের দাওয়াই 
সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং
ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়

৮৯ বছর বয়স হল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে রোগী দেখছি। এতদিন কেটে গেল সারা জীবনই কি স্বাস্থ্য অটুট থেকেছে? তা নয়। একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। জোর ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছিল। সেই একবারই! বরাবর যতখানি স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা সম্ভব, করেছি। তাতে কর্মবিরতি হয়নি। বিশদ

31st  December, 2024
আয়ু বাড়ানোর ডায়েট
শতভিষা বসু

প্রতিটি জাতির আলাদা আলাদা গড় আয়ু আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আয়ুষ্কাল মোটামুটি ৭০ বছর। ২৫ বছর আগে যা ছিল ৬২! আবার একজন মার্কিনির আয়ু প্রায় ৮০ বছর! ভারত বা বিদেশ— এতখানি আয়ুবৃদ্ধির পিছনে চিকিত্‍সাশাস্ত্রের উন্নতির যথেষ্ট হাত রয়েছে। বিশদ

31st  December, 2024
সুস্থভাবে দীর্ঘায়ু হতে কীভাবে 
সাহায্য করে যোগব্যায়াম
পরিতোষকুমার হাজরা

সারা বিশ্ব মেনে নিয়েছে যোগব্যায়ামের অপরিসীম গুণের কথা। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বযোগ দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ভারত সরকার ও রাজ্য সরকার যোগ ও নেচারোপ্যাথি সিস্টেম অব মেডিসিন অ্যাক্ট ২০১০ তৈরি করেছে। বিশদ

31st  December, 2024
হোমিওপ্যাথিতে অসুখ নিরাময়
ডাঃ রামকৃষ্ণ ঘোষ

১৭৯৬ সাল। ওই বছরই বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথি নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। যেখানে রোগীকে একসঙ্গে একটি মাত্র ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তোলাই হল চিকিৎসার মূলমন্ত্র। বিশদ

31st  December, 2024
সুস্থ দীর্ঘজীবনের 
জন্য কী কী করবেন?

মৃত্যু জীবনের অন্তিম পরিণতি, এটি জানার পরও বলতে হয়—প্রথমত এই সুন্দর পৃথিবী, ভালোবাসা, আনন্দ আর সম্পর্কের মধুর স্মৃতি ছেড়ে যেন মন বিশ্ব ছেড়ে যেতে চায় না। দ্বিতীয়ত, নশ্বর দেহ থেকে প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাক, কিন্তু আমাদের কৃতকর্ম যেন মানুষের মনে বেঁচে থাকে, একেই বলে মরে বেঁচে থাকা, অমরত্ব। কিন্তু দেহের কোনও অমরত্ব নেই। জীবনযাত্রা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সুষ্ঠু সমন্বয় গড়তে পারলে নীরোগ ও বলিষ্ঠ দেহ নিয়ে দীর্ঘকাল বাঁচা যায়। দীর্ঘজীবনের উপায় জানালেন ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়, আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডাঃ সুবলকুমার মাইতি, ডাঃ রামকৃষ্ণ ঘোষ, যোগবিশারদ পরিতোষকুমার হাজরা, পুষ্টিবিদ শতভিষা বসু। ব্লু জোন-এর শতায়ু মানুষদের আশ্চর্য জীবনযাত্রার কথা শোনালেন সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়।
বিশদ

31st  December, 2024
জাতিস্মর কারা হয়?
তাঁরা কেন রহস্যময়?

জাতিস্মর কারা হয়? এখানেই যত বিস্ময়! এদের পূর্বজন্মের কথা মনে পড়ে। তেমনই তাদের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল সেই বিবরণও দেয়। একমাত্র তারাই মৃত্যুর অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতির প্রত্যক্ষ বিবরণ দেওয়ার অধিকারী। জাতিস্মরদের নিয়ে যখনই গবেষকরা রিসার্চ করেন, তখনই প্রশ্ন করা হয়েছে মৃত্যু কীভাবে হল? তাঁর পরিবার-পরিজন-প্রতিবেশি-বন্ধু কেমন ছিল? মানুষ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত জানতে পারে না যে, ঠিক মৃত্যুর মুহূর্তটি কেমন হবে! কীভাবে পলকের মধ্যে মৃত্যু এসে জীবনকে স্তব্ধ করে দেয়! তখন কেমন বোধ হয়? মৃত্যুকে কেমন দেখেছে সে? এটাই যুগ যুগ ধরে জানতে চায় নশ্বর মানুষ! এর উত্তর জানে জাতিস্মররাই। কিন্তু সত্যিই কি উত্তর মেলে? এই চির রহস্যের কথা শোনালেন সমৃদ্ধ দত্ত।
বিশদ

30th  December, 2024
মৃত্যু কি আগাম
ইঙ্গিত দেয়?

স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, মৃত্যু চিন্তা ভালো। কারণ এই জগৎ কতটা মিথ্যা সেটা বোঝার জন্য। তবে মৃত্যুভয় ভালো নয়। জগতের বড় বিস্ময় মৃত্যু। মৃত্যুকালে মানুষের শুদ্ধ চেতনাকে আচ্ছন্ন করে দেয় অন্ধকার। সাধক-যোগীরা সেই অন্ধকারকে কাটাতে পারেন। বীরের মতো দেহ ছেড়েছেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, রাম ঠাকুর, বালানন্দ ব্রহ্মচারি, নিগমানন্দ ঠাকুর, পরমহংস যোগানন্দ স্বামী, দুর্গাপুরী মাতাজি। মৃত্যুযোগ যাঁরা অভ্যাস করেন তাঁরাই নিজের মৃত্যুকালটি জানতে পারেন। সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন মৃত্যুকাল আসন্ন? মৃত্যুকালে মানুষের মুখ কেন খোলা থাকে? শাস্ত্রে আছে, কারও যদি মনে হয় সূর্যের তেজ কমে আসছে, তাহলে তার আয়ু বেশিদিন নেই। রয়েছে আরও কিছু পূর্ব লক্ষণ। মৃত্যুর পূর্বে মানুষ নানারকম স্বপ্ন দেখেন, কী সেই স্বপ্ন? লিখেছেন সোমব্রত সরকার।
বিশদ

07th  October, 2024
আত্মার উপস্থিতি কীভাবে
অনুভব করা যায়?

আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে সারা বিশ্বজুড়ে অনেক কথা শোনা যায়। আশ্চর্যের বিষয়, মহাপুরুষ থেকে সাধারণ মানুষও আত্মার উপস্থিতি বুঝতে পারেন। আচার্য শঙ্করাচার্য থেকে শ্রীরামকৃষ্ণ, আবার রাম ঠাকুর থেকে নিগমানন্দ সরস্বতী এমনকী বিশ্বের তাবড় মনীষীরাও স্বীকার করেন আত্মার অস্তিত্ব। জীবন ফুরিয়ে গেলেই তা শেষ হয়ে যায় না। এ বিষয়ে গীতা থেকে ভারতীয় অধ্যাত্মশাস্ত্র কী বলে? প্ল্যানচেটে অাত্মা আনা সম্ভব। কলকাতায় এক সময় এটি জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আত্মারা কখনও স্বইচ্ছায় আসেন তাঁর প্রিয়জনের কাছে! তাঁদের সুখ-দুঃখের সাথী হন। কোন পরিস্থিতিতে আত্মারা আসেন? কীভাবে বুঝবেন তাঁদের উপস্থিতি? কী সহায়তা করেন তাঁরা? লিখেছেন সোমব্রত সরকার। 
বিশদ

07th  October, 2024
অপদেবতা কি ক্ষতি করে?

অপদেবতা মানুষের ক্ষতি না উপকার করে? লিখেছেন অগ্নিশ্বর সরকার। বিশদ

07th  October, 2024

Pages: 12345

একনজরে
ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজিতে শান দিতে একদিনের কর্মশালা আয়োজন করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। মঙ্গলবার এই কর্মশালায় ৬০টি স্কুলের মোট ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী যোগ দেয়। এই কর্মশালায় পড়ুয়াদের ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার এবং বাক্য গঠনের শুদ্ধতার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। ...

ডাকাতদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল বিহার পুলিস। মঙ্গলবার ভোররাতে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই ডাকাতের। পাটনা জেলার ফুলবাড়ি শরিফের হিন্দুনির ঘটনা। এক ডাকাতকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। গুলির লড়াইয়ে জখম হয়েছেন পুলিসের এক সাব-ইনসপেক্টর। ...

লিবারেল পার্টির দলনেতা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। শাসক দলের নেতা ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে উঠে এসেছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতর নামও। তিনি পরিবহণ মন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তামিল পরিবারে জন্ম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতী প্রাক্তনীর। ...

বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়েবসাইট ক্লোন করেছিল হুগলির খানাকুলের প্রতারক। সেই ওয়েবসাইট থেকেই সে জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি করত। মঙ্গলবার বর্ধমান থানার পুলিস খানাকুল থেকে ভাস্কর সামন্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কাজকর্মের ক্ষেত্রে ও ঘরে বাইরে বাধা থাকবে। কারও প্ররোচনায় যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্ক হন।  ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১০২৫: সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করলেন সুলতান মামুদ
১৩২৪:  ভেনিসিয় পর্যটক ও বনিক মার্কো পোলোর মৃত্যু
১৬৪২: বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর মৃত্যু
১৮০৬: ব্রিটেন উত্তমাশা অন্তরীপ দখল করে নেয়
১৮৬৭: আফ্রিকান আমেরিকানরা ভোটাধিকার লাভ করে
১৮৮৪: সমাজ সংস্কারক ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের মৃত্যু
১৯০৯: সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম
১৯২৬: বাদশা হোসেন বহিষ্কার। ইবনে সাউদ হেজাজের নতুন বাদশা। দেশের (হেজাজ) নাম পরিবর্তন করে সৌদি আরব করা হয়।
১৯২৬:  কিংবদন্তি ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী তথা ওড়িশি নৃত্যের জন্মদাতা কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্ম 
১৯৩৫: প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর জন্ম
১৯৩৫: মার্কিন গায়ক এলভিস প্রেসলির জন্ম
১৯৩৯: অভিনেত্রী নন্দার জন্ম
১৯৪১: ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের প্রয়াণ
১৯৪২: ইংরেজ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের জন্ম
১৯৫৭: অভিনেত্রী নাফিসা আলির জন্ম
১৯৬৩: প্রথমবারের মতো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বিখ্যাত পেইন্টিং ‘মোনালিসা’ আমেরিকার ন্যাশনাল গ্যালারী অব আর্টে প্রদর্শন
১৯৬৫: অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদারের জন্ম
১৯৬৬: বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক বিমল রায়ের মৃত্যু
১৯৮৪: প্রথম ভারতীয় মহিলা পাইলট সুষমা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৯০: অভিনেত্রী নুসরত জাহানের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৮৪.৯৭ টাকা ৮৬.৭১ টাকা
পাউন্ড ১০৫.৭০ টাকা ১০৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৮৭.৫৩ টাকা ৯০.৮৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৭৭,৪০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৭৭,৭৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৭৩,৯০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৮৯,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৮৯,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৪ পৌষ, ১৪৩১, বুধবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৫। নবমী ২০/৮ দিবা ২/২৬। অশ্বিনী নক্ষত্র ২৫/১৮ দিবা ৪/৩০। সূর্যোদয় ৬/২২/৩৩, সূর্যাস্ত ৫/৪/৫। অমৃতযোগ দিবা ৭/৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৯ গতে ৮/৩২ মধ্যে পুনঃ ১০/৪০ গতে ১২/৪৮ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৮ গতে ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ৮/৩৮ গতে ৩/৪৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৬ গতে ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ৩/৪০ মধ্যে। বারবেলা ৯/২ গতে ১০/২৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ১/৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/২ গতে ৪/৪২ মধ্যে।
২৩ পৌষ, ১৪৩১, বুধবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৫। নবমী দিবা ২/২। অশ্বিনী নক্ষত্র অপরাহ্ন ৪/৩৬। সূর্যোদয় ৬/২৫, সূর্যাস্ত ৫/৪। অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে ও ১০/১ গতে ১১/২৮ মধ্যে ও ৩/৭ গতে ৪/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১১ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ২/১ গতে ৬/২৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ১/৪৩ গতে ৩/৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৫৭  গতে ১০/৩২ মধ্যে। কালবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১১/৪৪ গতে ১/৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৫ গতে ৪/৪৫ মধ্যে। 
৭ রজব।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাতে দিল্লিতে একটি স্মারক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন কেন্দ্রের

07-01-2025 - 10:27:00 PM

 মানুষ কংগ্রেসের প্রতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন: কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত

07-01-2025 - 10:00:00 PM

গুজরাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল

07-01-2025 - 09:23:00 PM

গুজরাতে একাধিক নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ৭৭৯ কোটি টাকা অনুমোদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল

07-01-2025 - 08:59:00 PM

আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির সম্ভাবনা

07-01-2025 - 08:34:00 PM

পূর্ণকুম্ভ ২০২৫: প্রয়াগরাজে মাউন্টেড পুলিসের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ৫টি ঘোড়া কিনল যোগী সরকার

07-01-2025 - 08:24:00 PM