বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিনোদন
 

হারানো পথেই নতুন জীবনের ঠিকানা
সিনেমার সমালোচনা:  লাপাতা লেডিস

বছরের পর বছর দুনিয়ায় এক প্রকার জালিয়াতিই চলছে বলা যায়। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ফ্রড’। পাতিলা স্টেশনে কড়াইয়ে ব্রেড পকোড়া ভাজতে ভাজতে মঞ্জু বলে ফুলকে। মেয়েরা আসলে সব-ই পারে। সংসার করতে পারে, বাচ্চার জন্ম দিতে পারে, রোজগার করতে পারে। মেয়েদের জীবনে পুরুষদের সেরকম কোন প্রয়োজন-ই নেই। কিন্তু একথা সব মেয়েরা জেনেও ফেললে তো মুশকিল! তাই যুগ যুগ ধরে ‘ভদ্রমহিলা’র আবরণে পুরুষরাই ঠিক করে দেয়, মেয়েরা আসলে কী পারে আর কী পারে না।
২০১০-এ ‘ধোবি ঘাট’-এর ১৪ বছর পর আবার পরিচালনায় ফিরেছেন কিরণ রাও। তাঁর ছবি ‘লাপতা লেডিজ’এর প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নিয়েছেন নির্মল প্রদেশের মতো এক কাল্পনিক জায়গাকে। সদ্য বিয়ে সেরে দীপক (স্পর্শ শ্রীবাস্তব) সূর্যমুখী গ্রামে ফিরেছে বউ ফুলকে (নিতাংশী গোয়েল) নিয়ে। পরনে লাল টুকটুকে বেনারসী, হাতে আনকোরা মেহেন্দি আর আধ হাত লম্বা ঘোমটা টানা নতুন বউ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। শাশুড়ি বরণডালা হাতে নিয়ে, বউকে ঘোমটা খুলতে বলেই প্রায় ভিরমি খেলেন! এ কাকে নিয়ে এসেছে দীপক? 
গন্ডগোল যা ঘটার তা ঘটেছে ট্রেনে আসার পথেই। শুভদিন থাকায়, বিয়ের ধুম পড়েছিল । ফলে ট্রেনে জোড়ায় জোড়ায় নব-দম্পতি। সব বউয়ের পরনে একরকম শাড়ি। আধ হাত করে ঘোমটা (ওই যে ভদ্র বাড়ির মেয়েরা ঘোমটা ছাড়া বাইরে যায় না!) আর তাতেই কেলোর কীর্তি। দীপকের বিয়ে করে ফুলকে আনার কথা ছিল। সে হাত ধরে নিয়ে এল পুষ্পাকে (প্রতিভা রানা)। আর ফুল কোনও অজানা, অচেনা স্টেশনে হতবাকের মতো দাঁড়িয়ে রইল একা। 
বিপ্লব গোস্বামীর গল্প আর দিব্যানিধি শর্মার সংলাপের সাহায্যে এক জাদু-মাখা দুনিয়া তৈরি করেছেন কিরণ। মনে হবে রূপকথা বুঝি। কিন্তু তারই মাঝে মাঝে পরিচালক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, সমাজে মেয়েদের অবস্থানটা ঠিক কোথায়। ফুল-এর জীবনে হারিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত খুব একটা জটিলতা না থাকলেও, পুষ্পার জীবন ততটা মসৃণ নয়। আর তাই এই বউ-বিভ্রাটের চক্করে পড়লেও খুব একটা বিচলিত দেখায় না তাকে। বরং খানিক স্বস্তিই পায় সে। হয়তো জীবনে নতুন করে বাঁচার তাগিদ অনুভব করে। 
ছবির সময় ২০০১ সাল। সেকথা মাথায় রেখেই পরিচালক আনুষঙ্গিক দৃশ্যগুলি সাজিয়েছেন। তাই মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’র পোস্টার, খেলার কমেন্ট্রিতে স্পষ্ট শোনা যায় হরভজন বল করছেন রিকি পন্টিংকে। রাম সম্পতের সুরে গানগুলো পরিস্থতির সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। বিকাশ নাওলাখার ক্যামেরায় গ্রামীণ ভারতের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে।
দু’ঘণ্টার সামান্য বেশি সময়ের এই ছবিতে কিরণ রাও বিশেষ সূক্ষ্মতার ধার ধারেননি। বরং যা বলার, সোজাসাপ্টা বলার চেষ্টা করেছেন। আর তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন অভিনেতারা। পুলিস ইন্সপেক্টর মনোহরের চরিত্রে রবি কিষণ এতটাই সহজ, যে পর্দায় আরও বেশি করে তাঁকে দেখার ইচ্ছে হয়। তেমনি যথাযথ, পাতিলা স্টেশনে চা-পকোড়া বিক্রি করা মঞ্জুর চরিত্রে ছায়া কদম। দীপকের চরিত্রে স্পর্শ শ্রীবাস্তব তার ভুলের যন্ত্রণা এতটা সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন, যে ফুলের মতো দর্শকেরও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, তার স্বামী একদিন তাকে খুঁজে বের করবেই। নিতাংশী গোয়েল, আর প্রতিভা রানাও তাঁদের অভিনয়ে যথাযথ।  
ছবির একজায়গায় দেখা যায় দীপকের বাড়ির সব গৃহিণীরা রাতে একসঙ্গে বসে গল্প করছে। গল্পের মাঝেই তারা বলে, সারাজীবন শুধু একে অপরের শাশুড়ি, বউদি, জা হয়ে থেকে গেলাম। আচ্ছা, আজ থেকে যদি আমরা বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করি, তবে কেমন হয়? 
দেবত্রী ঘোষ  

4th     March,   2024
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ