রাজ্য

সুবোধ সিংয়ের ‘রিক্রুট সেন্টার’ বেউড় জেলেই

দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: বেউড় কেন্দ্রীয় আদর্শ কারাগার—কর্মসংস্থানের অন্যতম ‘ভরকেন্দ্র’! মোটা বেতনের সেই চাকরির জন্য যোগ্যতাও আহামরি লাগে না। হতে হবে একটু দাবাং প্রকৃতির। চুরি-ছিনতাইয়ের অভিজ্ঞতাটা অবশ্য জরুরি। জানতে হবে দ্রুত বাইক চালাতেও। আর হ্যাঁ, একবারের জন্য হলেও থাকতে হবে বেউড়ের গারদের আড়ালে। ব্যস, তাহলেই হবে। ‘কাল্লু’ হয়ে ঢুকে ‘কালিয়া’ হয়ে জেলের বাইরে যাওয়াটা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। ন্যূনতম ২২-২৫ হাজার টাকার বেতন, যোগ্যতা প্রমাণে তা এক লাখও পেরিয়ে যেতে পারে। দক্ষ কর্মী হলে প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট শেষে ইনসেন্টিভ, আর কয়েক ভরি সোনার গয়না মেলারও গ্যারান্টিও দিচ্ছে ‘সিং কোম্পানি’—দেশের এক নম্বর জুয়েল থিফ তথা গ্যাংস্টার সুবোধ সিংয়ের সংস্থা। 
বিহার এসটিএফ সূত্রের খবর, গত ১০ বছরে কমপক্ষে দেড় হাজার বেকার যুবক এভাবেই ‘চাকরি’ পেয়েছে‘ সিং কোম্পানি’তে।  ‘সিং কোম্পানি’ বেউড় ছাড়াও যেমন শাখা খুলেছে বিহারের বিভিন্ন কারাগারে, তেমনই এখন বাংলার দমদম, প্রেসিডেন্সি, বারুইপুর সেন্ট্রাল জেল এবং বারাকপুর ও আসানসোলের মতো মহকুমা কারাগারেও ‘প্লেসমেন্ট সেন্টার’ রয়েছে তাদের। গত পাঁচ-ছ’বছর ধরে এ রাজ্যের আসানসোল, রানিগঞ্জ, বারাকপুর সহ বিভিন্ন প্রান্তে স্বর্ণবিপণি ও স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় লুটপাটের অপারেশন চালাতে স্থানীয় ‘দাবাং’রাই সাহায্য করছে সিং কোম্পানিকে। কখনও আবার তোলা চেয়ে হুমকি দেওয়া ব্যবসায়ীকে ভয় দেখাতে, গুলি ছুড়তে, লুটপাট পর্বে বাধা পেয়ে খুন করতে স্থানীয় কর্মীরাই ভরসা বাড়াচ্ছে সিং কোম্পানির। উত্তর শহরতলির বিভিন্ন এলাকা তো বটেই, খাস কলকাতার ‘উঠতি’রাও সুবোধ সিংয়ের গ্যাংয়ে নাম লিখিয়েছে। 
সুবোধ ও তার গ্যাংয়ের কাজকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বিহার এসটিএফের এক কর্তার কথায়, ‘সুবোধ সিং ছাড়া তার ডান হাত রমেশ সিং, পুল্লু সিং সহ বেশ কয়েকজন এখন বেউড় জেলেই রয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগে ধৃত কোনও যুবক জেলে এলেই তার উপর নজর পড়ে সিং কোম্পানির। ছেলে বাছাই করে সুবোধ, ইন্টারভিউও নেয়। আনুগত্য দেখাতে পারলেই জামিনের ব্যবস্থা।’ এসটিএফের ওই কর্তা বলেন, ‘বিহারের বিভিন্ন প্রান্তের নিম্ন আদালতে তো বটেই, পাটনা হাইকোর্টেও সুবোধ সিংয়ের অ্যাডভোকেট প্যানেল রয়েছে। তারাই জামিনের ব্যবস্থা করে। এরপর শুরু হয় প্রশিক্ষণ।’ বৈশালী ও নালন্দার সেই ট্রেনিং সেন্টারে বাংলা থেকে গত দু’বছরে কমপক্ষে ৫০ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন। শ্যুটার থেকে ‘শার্প শ্যুটার’ হওয়ার প্রশিক্ষণও হয় সেখানেই। বিহার এসটিএফের ওই কর্তা জানিয়েছেন, ‘কাল্লু’ থেকে ‘কালিয়া’ হয়ে ওঠা মাত্রই দেশের যে কোনও প্রান্তের নির্দিষ্ট অপারেশনের জন্য চারটি টিমে ভাগ করা হয় গোটা গ্যাংকে।  প্রথম টিমে কিছুটা শিক্ষিত অল্পবয়সি, যারা টার্গেট এলাকায় ছাত্র সেজে কোনও বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকবে। টার্গেট ‘রেকি’ শেষে যে টিম ডাকাতির জন্য যাবে, তাতে শ্যুটার আর শার্প শ্যুটারদেরই প্রাধান্য। ডাকাতি শেষে লুটের মাল অন্যত্র সরানোর জন্য যে টিম তৈরি থাকে, তারা ঝড়ের গতিতে বাইক বা চার চাকা চালাতে পারদর্শী। শেষ পর্বের টিম সবচেয়ে বিশ্বস্ত। লুটের কেজি কেজি সোনা সীমান্ত পার করিয়ে নেপাল-বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করাটাই তাদের কাজ। প্রতিটি অপারেশনের জন্য টিম পিছু দুই থেকে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ। গ্যাংয়ের সদস্যরা জানে, ‘কেল্লা ফতে’ হলে বেতনে জুড়ে যাবে মোটা ইনসেন্টিভ, এমনকী সোনার গয়নাও। 
1Month ago
কলকাতা
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি কর্মে ব্যস্ততা। ব্যবসা সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৮৫ টাকা৮৪.৫৯ টাকা
পাউন্ড১০৬.৪৩ টাকা১০৯.৯৫ টাকা
ইউরো৮৯.৬৩ টাকা৯২.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা