রাজ্য

ডিউটি বদলই কাল হল গার্ড আশিসের

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: সোমবার রাঙাপানি ও নিজবাড়ির মাঝে নির্মলজোতে দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড ছিলেন আশিস দে। শিলিগুড়ি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বলাকা মোড়ের বাসিন্দা তিনি। স্ত্রী গীতিকা এদিন দুপুরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সকালে শতাব্দী এক্সপ্রেস নিয়ে যাওয়ার কলবুক এসেছিল। তা ফিরিয়ে দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ডিউটি নেয় ও। তখনও ভাবিনি, এই ডিউটি বদলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে!’ গীতিকা আরও বলেন, ‘রবিবার ও আমাকে নিয়ে ফুচকা খেতে গিয়েছিল। কোনওদিন রান্না করে না। কিন্তু রবিবার রাতে বাড়ি ফিরে ওমলেট বানায়। গান গাইত। অনেকদিন পর আমরা দু’জনে বসে রাতে অনেক্ষণ গান করি। বাড়িতে একটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আশিস সকালে ডিউটি যাবে। তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। ভোরভোর উঠে সব গুছিয়ে দিই। ও বাড়ি থেকে বেরনোর কয়েক ঘণ্টা পরই খবর পেলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।
চোখের জল শুকোচ্ছে না রশ্মিরও। তাঁর স্বামী অনিল কুমার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ধাক্কা মারা মালগাড়ির লোকো পাইলট। বাড়ি বিহারের পাটনায়। শিলিগুড়ির দক্ষিণ দেশবন্ধুপাড়ায় ফ্ল্যাট কিনে থাকতেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রশ্মিদেবী। সঙ্গে ছিল তাঁর ১৫ বছরের ছেলে উজ্জ্বল ও ন’বছরের ছেলে আয়ূষ। সামনে ডাক্তার বা নার্স দেখলে তাঁকেই জড়িয়ে ধরে হাহাকার করছিলেন রশ্মি, ‘আমার স্বামীকে সুস্থ করে দিন। আমি ওঁকে ছাড়া থাকতে পারব না। আমার সংসার, আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে!’ একটু সামলে নিয়ে রশ্মি বলেন, ‘কী করে এমনটা হল, বুঝে উঠতে পারছি না। রবিবার রাতেও অনেক গল্প করল। সংসারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন কে জানত, কয়েক ঘণ্টা বাদে এমন ঘটনা ঘটবে।’ অনিল কুমারের বড় ছেলে উজ্জ্বল কেঁদেই চলেছে। সে বলল, ‘বাবা আমার সবকিছু ছিল। বাবার কত স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে।  বাবা এভাবে চলে গেলে কেন।’ তার ভাই আয়ূষ জানে না, তার কত বড় ক্ষতি হয়েছে। মাকে সে বলে, ‘মা কেঁদো না। বাবা ঠিক হয়ে যাবে। তুমি কাঁদলে আমরা থাকব কী করে!’ 
আরও এক হতভাগ্য স্ত্রী অভীক্ষা। স্বামী কালেব সুব্বা। অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন তিনি। আবগারি বিভাগের অফিসার ছিলেন কালেব। মালদহে তাঁর পোস্টিং। এদিন কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মালদহে। স্ত্রী অভীক্ষা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের নার্স।  বাড়ি গোরুবাথানে। স্ত্রী ও নিজের কর্সসূত্রে কালেব তাঁর পরিবার নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের কাছেই থাকতেন। অভীক্ষা ভেবে উঠতে পারছেন না, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল। ছুটি থাকা সত্ত্বেও কালেবের মালদহ যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? বারবার নিজেকেই এই প্রশ্ন করে কেঁদে চলেছেন তিনি। চার বছর হল তাঁদের বিয়ে হয়েছে। রয়েছে দু’বছরের এক শিশুকন্যাও। 
এরকমই হৃদয়বিদারক কান্না, হাহাকার আর আর্তনাদে সকাল থেকে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ চত্বর। মৃতদের স্ত্রী, সন্তানদের সান্ত্বনা দেন পরিজনরা। ময়নাতদন্তের পর বিকেলে দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে।
1Month ago
কলকাতা
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি কর্মে ব্যস্ততা। ব্যবসা সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৮৫ টাকা৮৪.৫৯ টাকা
পাউন্ড১০৬.৪৩ টাকা১০৯.৯৫ টাকা
ইউরো৮৯.৬৩ টাকা৯২.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা